E-Paper

কেন্দ্রীয় করের ভাগে বাংলার লোকসান

কেন্দ্রীয় করের ভাগ হিসেবে রাজ্যগুলির কাছে ১০০ টাকা গেলে এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গ তার মধ্যে মাত্র ৭.২২ টাকা পাবে। গত পাঁচ বছর ধরে বা ২০২১-২৬-এ পশ্চিমবঙ্গ ৭.৫২ টাকা পাচ্ছিল।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪১
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

লোকসানের মুখে পড়ল পশ্চিমবঙ্গ। লাভবান হল গুজরাত, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু।

কেন্দ্রীয় করের ভাগ হিসেবে রাজ্যগুলির কাছে ১০০ টাকা গেলে এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গ তার মধ্যে মাত্র ৭.২২ টাকা পাবে। গত পাঁচ বছর ধরে বা ২০২১-২৬-এ পশ্চিমবঙ্গ ৭.৫২ টাকা পাচ্ছিল। তার আগের পাঁচ বছরে, ২০১৫-২০-তে পশ্চিমবঙ্গ ৭.৩২ টাকা পেয়েছিল। ২০১০-১৫-তে পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছিল ৭.২৬ টাকা।

ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করে ২০২৬-এর ১ এপ্রিল থেকে ২০৩১ পর্যন্ত রাজ্যগুলির মধ্যে কেন্দ্রীয় করের ভাগের অর্থ বিলি করবে মোদী সরকার। রবিবারের বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারাম সেই অনুযায়ীই বরাদ্দ করেছেন। সেখানে রাজ্যগুলির মোট প্রাপ্য অর্থে পশ্চিমবঙ্গের ভাগ এ বার কমে যাবে।

কেন? অর্থ কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় করের কতখানি ভাগ রাজ্যগুলির মধ্যে বিলি হবে, তা ঠিক হয়। ষোড়শ অর্থ কমিশন আগের মতোই কেন্দ্রীয় করের ৪১ শতাংশ রাজ্যগুলির মধ্যে বিলি করে দিতে বলেছে। কিন্তু কোন রাজ্য কত টাকা পাবে, তা ঠিক করতে কমিশন নতুন মাপকাঠি যোগ করেছে। তা হল, দেশের জিডিপি-তে রাজ্যের ভাগ। অর্থনীতিবিদ অরবিন্দ পানাগাড়িয়ার নেতৃত্বে ষোড়শ অর্থ কমিশন এই নতুন মাপকাঠি যোগ করায় যে সব রাজ্যের অবদান দেশের জিডিপি-তে কম, তারা কেন্দ্রীয় করের ভাগ পাওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে। অন্য দিকে, দেশের জিডিপি-তে যাদের ভাগ বেশি, তারা এগিয়ে গিয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা সবথেকে বেশি লোকসানের মুখে পড়েছে। গুজরাত, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্য লাভবান হয়েছে।

এত দিন ছ’টি মাপকাঠির ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় করে রাজ্যের ভাগ ঠিক হত। এক, যে রাজ্যের মাথা পিছু আয় সবথেকে বেশি, তার থেকে রাজ্যের মাথা পিছু আয়ের ফারাক, দুই, জনসংখ্যা, তিন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য, চার, রাজ্যের এলাকা, পাঁচ, বনাঞ্চল, ছয়, কর ও আর্থিক শৃঙ্খলা। কিন্তু ষোড়শ অর্থ কমিশন কর ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাপকাঠি বাদ দিয়ে দেশের জিডিপি-তে অবদান যোগ করেছে। ছ’টি মাপকাঠির মধ্যে আয়ের ফারাক, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য, রাজ্যের এলাকার গুরুত্ব কমিয়ে জিডিপি-তে অবদানের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ফলে ২০১১-র জনগণনার পরে ত্রয়োদশ, চতুর্দশ ও পঞ্চদশঅর্থ কমিশনের সুপারিশ মেনে পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় করে যতখানি ভাগ পাচ্ছিল, সেই তুলনায় এবার কম ভাগ পাবে।

দিল্লির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ফিনান্স অ্যান্ড পলিসি-র অধ্যাপক লেখা চক্রবর্তী এই নতুন মাপকাঠি নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। তাঁর বক্তব্য, ধনী রাজ্যগুলি এমনিতেই আর্থিক ভাবে এগিয়ে রয়েছে। তারা আরও আর্থিক লাভ পাবে। সব রাজ্যকে অর্থনৈতিক ভাবে সমান জায়গায় নিয়ে আসা উচিত। অর্থ কমিশনের এই সুপারিশ তা নিয়ে সংশয় তৈরি করছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার চেয়েছিল, কেন্দ্রীয় করের ৫০ শতাংশ রাজ্যগুলির মধ্যে বিলি করে দেওয়া হোক। তা না হওয়ায় রাজ্য সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রকের বক্তব্য, অর্থ কমিশন সাংবিধানিকসংস্থা। কেন্দ্রীয় সরকার তার সুপারিশ গ্রহণ করেছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nirmala Sitharaman West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy