ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এ বারও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ওই কেন্দ্র থেকে লড়েই বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। শনিবার সংশ্লিষ্ট দফতরে গিয়ে নওশাদ নিজের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। সঙ্গে জমা দিয়েছেন হলফনামাও। সেই হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, ভাঙড়ের বিদায়ী বিধায়কের নামে গুচ্ছগুচ্ছ মামলা রয়েছে। তার মধ্যেই রয়েছে খুন এবং ধর্ষণের মতো অপরাধের অভিযোগও। একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জও গঠন করা হয়েছে। হলফনামায় নওশাদ জানিয়েছেন, তাঁর নিজের নামে কোনও জমি-বাড়ি নেই। তবে ছ’টা ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাঁর।
৩৩ বছর বয়সি নওশাদের এ বার ভাঙড়ে লড়াই মূলত তৃণমূলের সঙ্গে। তৃণমূল এ বার শওকত মোল্লাকে প্রার্থী করেছে। গত বার ক্যানিং পূর্ব থেকে লড়ে জিতেছিলেন শওকত। এ বার তৃণমূল তাঁকে পাঠিয়েছে ভাঙড়ে। দু’জনের মধ্যে ‘দাদা-ভাই’ সম্পর্ক। বয়সে নবীন নওশাদ তাঁর প্রতিপক্ষ শওকতকে ‘দাদা’ বলেই ডাকেন। তবে দুই রাজনীতিকের মধ্যে প্রায়শই বয়ে যায় ‘রাজনৈতিক চোরাস্রোত’! ভাঙড়ে ঘটা অধিকাংশ অশান্তির নেপথ্যেই তৃণমূল এবং আইএসএফ। রাজনীতির কারবারিদের মতে, খাতায়কলমে এই কেন্দ্রে চতুর্মুখী লড়াই। বিজেপির জয়ন্ত গায়েন এবং কংগ্রেসের মাহবুবুল ইসলামও লড়াইয়ে রয়েছেন। তবে ভাঙড় দখলের লড়াই হবে নওশাদ-শওকতের মধ্যেই, মত অনেকের।
ফুরফুরার বাসিন্দা নওশাদ অবিবাহিত। ২০১৫ সালে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। ২০২১ সালে প্রথম বিধানসভা ভোটে লড়েন তিনি। সে বার কংগ্রেস এবং সিপিএমের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল তাঁর দল। তবে এ বার সিপিএম জোট করেনি কংগ্রেসের সঙ্গে। আইএসএফের সঙ্গে জোট বেঁধেই লড়ছে বামেরা।
আরও পড়ুন:
সম্পত্তি ও নগদ
হলফনামায় ভাঙড়ের আইএসএফ প্রার্থী জানিয়েছেন, তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ৫০ হাজার ৬০০ টাকা। তবে ছ’টা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কোনও ব্যাঙ্কে আছে ১০ হাজার টাকা, তো কোনও ব্যাঙ্কে আবার জমা রয়েছে লক্ষাধিক টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, নওশাদের অস্থাবর সম্পত্তির মোট পরিমাণ ৩৩ লক্ষ ৫০ হাজার ৭২ টাকা। একটি স্করপিও গাড়ি রয়েছে তাঁর। তবে নওশাদের কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই। অর্থাৎ, নিজের নামে কোনও বাড়ি-ঘর বা জমিজমা নেই নওশাদের। প্রতি মাসে তাঁর আয় আড়াই লক্ষ টাকা বলে হলফনামায় জানিয়েছেন ভাঙড়ের বিদায়ী বিধায়ক।
অপরাধের তালিকা
নওশাদের নামে ১৭টি মামলা রয়েছে। মহাদেবপুর, হাতিশালা, উত্তর কাশীপুর, লেদার কমপ্লেক্স, কাশীপুর, হেয়ার স্ট্রিট, নিউ মার্কেট, বৌবাজার এবং জাঙ্গিপাড়া থানায় ভাঙড়ের বিদায়ী বিধায়কের নামে মামলা রুজু হয়েছে। জেলও খেটেছেন। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটে ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের খুনের মামলায় নাম জড়িয়েছে তাঁর। কাশীপুর থানায় মামলা রুজু হয়। সেই মামলায় চার্জগঠনও হয়েছে। এ ছাড়াও খুনের চেষ্টা, ইচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত করা, সাম্প্রদায়িক অশান্তি সৃষ্টি, ষড়যন্ত্র, বিপজ্জনক অস্ত্র প্রয়োগ করে জখম করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নওশাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলাও রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এক তরুণী অভিযোগ করেছিলেন, বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে নিজের অফিসে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছেন নওশাদ। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও বেশ কয়েক বার সহবাস করেছেন আইএসএফ বিধায়ক। যদিও অভিযোগের নেপথ্যে ‘যড়যন্ত্র’ ছিল বলে দাবি করেছিলেন তিনি। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন।