পেশায় তিনি একাধারে সাংবাদিক, লেখক, অভিনেতা এবং হবু কর্পোরেট কর্তা। বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ তাঁর মনোনয়নের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় এমনটাই জানিয়েছেন। জানিয়েছেন, একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার এগ্জ়িকিউটিভ ডিরেক্টর পদে তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। নিজের আয়ের উৎস হিসাবে বেতন, বই বিক্রির আয়ের অংশ, অভিনয় ও পরামর্শদাতা হিসাবে প্রাপ্ত পারিশ্রমিকের (কনসালটেশন ফি)-র কথা উল্লেখ করেছেন কুণাল।
নির্বাচনী হলফনামায় কুণাল জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১৫ লক্ষ ৫৪ হাজার ৪৮০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তা কিছুটা কমে হয় ১০ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩৯০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থীর আয় বেড়ে হয় ১৮ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আবার কমে ১৭ লক্ষ ৬৬ হাজার ১৬০ টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ২১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬৪০ টাকা। তাঁর স্ত্রী, প্রাক্তন সাংবাদিক শর্মিতা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আয় করেছিলেন ১৭ লক্ষ ১০ হাজার ৩৪০ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে যথাক্রমে ৮ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪৭০ টাকা, ৭ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭৭০ টাকা, ১০ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৪০ টাকা এবং ১১ লক্ষ ৬২ হাজার ৩০০ টাকা।
৫৮ বছরের কুণাল হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর কাছে নগদ ২১ হাজার টাকা রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে নগদ ১৫ হাজার টাকা। কুণাল ও তাঁর স্ত্রীর তিনটি করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার মধ্যে কুণালের নামে অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১৩ লক্ষ ২৩ হাজার ১১৬ টাকা, ৪৯ হাজার ৭০১ এবং ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। শর্মিতার তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে, ৩ লক্ষ ৯০ হাজার, ৪ হাজার ৫১২ এবং ১১ লক্ষ ২৮ হাজার ৬১৭ টাকা। কুণালের দশটি স্থায়ী আমানত রয়েছে। স্ত্রীর নামেও স্থায়ী আমানত রয়েছে। তাঁদের দু’জনেরই জীবনবিমা পলিসি রয়েছে। হলফনামায় কুণাল জানিয়েছেন, তাঁর ঋণের অঙ্ক ২৫ লক্ষ টাকা।
তাঁর নিজের নামে কোনও গাড়ি নেই বলে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন। তবে স্ত্রীর নামে একটি গাড়ি রয়েছে। ২০১৯ সালে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে গাড়িটি কেনা হয়। কুণাল জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ৫ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৭০ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৩৫ গ্রাম সোনার গয়না। বর্তমান বাজারমূল্য ৪ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৭২ লক্ষ ৮০ হাজার ৯১৩ টাকা। আর তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৭৪ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯৪ টাকার। হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির হিসাব দিতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, তাঁর নামে কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই। যে বাড়িতে তিনি থাকেন, তা তাঁর নামে নয়। তবে তাঁর স্ত্রীর নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যেটি এখনও নির্মীয়মাণ। বাজারমূল্য ৬৫ লক্ষ টাকা
সারদা মামলায় গ্রেফতার হয়ে একসময় প্রায় তিন বছর (২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর) জেলে ছিলেন কুণাল। তাঁর বিরুদ্ধে ৯টি মামলা বিচারাধীন বলে হলফনামায় জানিয়েছেন। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি ত্রিপুরায় ধর্ম অবমাননা এবং সরকারি আধিকারিককে কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এর মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা সংক্রান্ত মামলায় ২০২২ সালে বিধাননগরের এমপি-এমএলএ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কুণালকে কোনও সাজা দেননি বিচারক। ৫৮ বছরের কুণাল হলফনামায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে জানিয়েছেন, সিকিমের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কলাবিভাগে স্নাতক স্তরে (বিএ) পড়াশোনা করছেন তিনি। তবে বেশ কিছু ডিপ্লোমা কোর্স করা রয়েছে তাঁর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত