তখন বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগও আসতে শুরু করেছে। বুধবার ঠিক সেই সময় বাড়ি থেকে একা বেরিয়ে দিনহাটা থানায় পৌঁছে গেলেন বিদায়ী বিধায়ক তথা দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহ। আইসি-র ঘরের সামনে অবস্থানে বসে পড়লেন তিনি। সঙ্গে এক জন কর্মী-সমর্থকও নেই। যিনি পথে বেরোলে সবসময়ই ঘিরে থাকেন কর্মী-সমর্থকরা, তাঁকে একা বসে থাকতে দেখে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। উদয়ন অবশ্য বলেন, “আমি তো কাউকে ডাকিনি। একাই অবস্থানে বসেছি।” পরক্ষণেই তাঁর মন্তব্য, “আমাদের কর্মী-সমর্থকরা বেরোলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়বে। তাই কেউ বার হননি।” বিজেপির কোচবিহার জেলার নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলেন, “যিনি খুনের রাজনীতি করেন, তাঁর পাশে এক জনও থাকবেন না। এটাই স্বাভাবিক।” দুপুরের পর থেকে ধীরে ধীরে কর্মী-সমর্থকেরা পাশে আসতে শুরু করেন। তাঁদের নিয়ে দিনহাটা মহকুমাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান উদয়ন।
দিনহাটা এক সময়ে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা কমল গুহের গড় বলে পরিচিত ছিল। তাঁর ছেলে উদয়ন। ২০১৬ সালের তিনি তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হন। দলীয় সূত্রেই জানা গিয়েছে, এ বার অনেকটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে উদয়নকে। এক দিকে দলে গোষ্ঠী কোন্দল। অন্য দিকে বিজেপির সংগঠন মজবুত হয়ে উঠেছে। এ বারের লোকসভা নির্বাচনে দিনহাটা থেকে প্রায় ১৬ হাজার ভোটে ‘লিড’ নিয়েছিল বিজেপি। এমন পরিস্থিতিতে দিনহাটার বিজেপি প্রার্থী করা হয়েছে সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে। এদিন সকালে বিজেপি’র দিনহাটায় টাউন মণ্ডল সভাপতি অমিত সরকারের (৪৫) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় বাড়ি থেকে সামান্য দূরে পশু হাসপাতালের বারান্দা থেকে। তার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ চলে রাস্তায় রাস্তায়। অঘোষিত বনধ শুরু হয় দিনহাটা শহরে।
অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা শুরু করেন বিজেপি সমর্থকরা। তৃণমূল কর্মী দুলাল নন্দীকে মারধর করা হয় বলেও দাবি। অবস্থা বুঝতে পেরে এলাকা ছেড়ে দেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। শহরের দুটি পার্টি অফিস-সহ গোটা মহকুমায় সাতটি তৃণমূল পার্টি অফিসে ভাঙচুর হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময় বাড়িতে বসেই সব খবর রাখছিলেন উদয়ন। এর পরেই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে থানায় গিয়ে অবস্থানে বসেন। নিশীথ প্রামাণিক ওই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন। উদয়নও বলেছেন, ‘‘ওই রাতে কে অমিতকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গেল, ভেটাগুড়িতে রাতে কী হয়েছিল, কেন তাঁকে অসম্মান করা হয়েছিল— সব খতিয়ে দেখা হোক। সুইসাইড নোট প্রকাশ্যে আনা হোক।” তাঁর আরও বলেন, “সোমা কে? তা খুঁজে বের করতে হবে।” তার বাইরে অবশ্য খোলাসা করে কিছু বলতে চাননি।
এরই মধ্যে ভেটাগুড়িতে দিনহাটা-কোচবিহার রাজ্য সড়ক অবরোধ শুরু করে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। পাশাপাশি ভেটাগুড়ি বাজারের তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ছাড়াও ভেটাগুড়ি অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অনন্ত বর্মণের বাড়ি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। যদিও বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, তৃণমূল এলাকায় সন্ত্রাস শুরু করেছে। মানুষ তার জবাব দিয়েছে।