রাজ্যের আরও পাঁচ আসনে প্রার্থী দিল বিজেপি। একই সঙ্গে তিন আসনে প্রার্থী বদলও করা হল। বদলে দেওয়া হয়েছে বসিরহাট উত্তরের বিজেপি প্রার্থী নারায়ণচন্দ্র মণ্ডলকে। পার্টি অফিসে প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন জানাতে গিয়ে নারায়ণ জানতে পেরেছিলেন যে তাঁর নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষিত হয়ে গিয়েছে। এ বার তাঁকে সরিয়ে বসিরহাট উত্তর কেন্দ্র থেকে কৌশিক সিদ্ধার্থকে প্রার্থী করল বিজেপি।
শনিবার প্রকাশিত এই প্রার্থিতালিকায় বিশেষ কোনও ‘চমক’ নেই। যাঁদের প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই সাংগঠনিক কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে উঠে আসা মুখ। এ বারের প্রার্থিতালিকায় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন মধ্যমগ্রামের বিজেপি প্রার্থী অনিন্দ্য (রাজু) বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবং মমতার মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য রথীন ঘোষের বিরুদ্ধে লড়বেন তিনি। আবার কল্যাণীর বিদায়ী বিধায়ক অম্বিকা রায়কে এ বার ওই আসন থেকে টিকিট দেয়নি বিজেপি। সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে অনুপম বিশ্বাসকে।
এ ছাড়া কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়, দমদম উত্তর থেকে সৌরভ শিকদার এবং উলুবেড়িয়া পূর্ব থেকে রুদ্রপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়কে টিকিট দিয়েছে বিজেপি। বসিরহাট উত্তরের পাশাপাশি প্রার্থী বদল করা হয়েছে বেহালা পূর্ব এবং বিষ্ণুপুরেও। বস্তুত, বসিরহাট উত্তরের প্রার্থী হিসাবে নারায়ণের নাম ঘোষণার পর থেকেই দলের অন্দরে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুন:
পেশায় আইনজীবী নারায়ণের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তবে এখন শারীরিক কারণে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন তিনি। সত্তরোর্ধ্ব এই প্রবীণ নেতাকে প্রার্থী করা নিয়ে বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছিল বলে জানা যাচ্ছে। তা ছাড়া গত বিধানসভা ভোটেও বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। তবে পরাস্ত হয়েছিলেন। তৃতীয় হয়েছিলেন সে বারের ভোটে। প্রবীণ ওই নেতাকে এ বারও প্রার্থী করেছিল বিজেপি। তবে শেষ পর্যন্ত আবার সিদ্ধান্ত বদলে অন্য মুখকে প্রার্থী করা হল বসিরহাট উত্তরে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত