Advertisement
E-Paper

আগে হাঁটছেন নির্মল মাজি, ভাগলেন পিছনের কর্মীরা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মুখে দেবও

সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি গায়ে প্রচার-মিছিল নিয়ে এগিয়ে চলেছেন শাসকদলের প্রার্থী। পিছন থেকে ভেগে পড়ছেন দলীয় কর্মী-সমর্থক! রাস্তার দু’ধার থেকে পুষ্পবৃষ্টি হচ্ছে। প্রার্থী তাতেই আপ্লুত।

নুরুল আবসার

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০১৬ ০৩:১৩
প্রচারে দেব। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে। ছবি: কৌশিক সাঁতরা।

প্রচারে দেব। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে। ছবি: কৌশিক সাঁতরা।

সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি গায়ে প্রচার-মিছিল নিয়ে এগিয়ে চলেছেন শাসকদলের প্রার্থী।

পিছন থেকে ভেগে পড়ছেন দলীয় কর্মী-সমর্থক! রাস্তার দু’ধার থেকে পুষ্পবৃষ্টি হচ্ছে। প্রার্থী তাতেই আপ্লুত।

পিছন থেকে বিক্ষুব্ধ দলীয় নেতা অবশ্য বলছেন, ‘‘এখানে আমাদের একটা বড় অংশের ভোট কংগ্রেস পাবে। উনি নয়।’’

রাজ্যের ভোট-রঙ্গে এই বিচিত্র দৃশ্য শনিবার যাঁর প্রচার ঘিরে দেখা গেল, গত দু’বছরে তাঁর বিচিত্র আব্দার শুনে এসেছেন রাজ্যবাসী। অভিযোগ, কখনও তিনি মানুষের হাসপাতালে কুকুরের ডায়ালিসিস করার আব্দার ধরেছেন। কখনও চেয়েছেন, ডাক্তারি-পড়ুয়া ছেলের পরীক্ষার সময় পরীক্ষাকেন্দ্রের সিসিটিভি-র ক্যামেরা যেন বন্ধ থাকে এবং ছেলে যেন নিজের মর্জিমাফিক জায়গায় বসে উত্তর লিখতে পারে! আরও অভিযোগ, চলতি বছরের গোড়ায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষায় হবু ডাক্তারদের টোকাটুকিতে ‘মদত’ দিতেও চেয়েছিলেন তিনি। তিনি— নির্মল মাজি।

উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক নির্মলকে যাতে এ বার প্রার্থী করা না হয়, তার জন্য ওই বিধানসভা এলাকার নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ চেষ্টার কসুর করেননি। কিন্তু দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্মলকেই ফের প্রার্থী করেন। এই ক’দিনে দলের বিক্ষুব্ধদের ক্ষোভ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তা যে পুরোপুরি থামেনি এ দিন উলুবেড়িয়া-২ ব্লকের বাণীবন পঞ্চায়েতের জোড়াপুল এলাকাতেই সামনে এসে গেল। এখানে নির্মল মিছিল নিয়ে ঢোকার সময়ে অঞ্চল কংগ্রেস সভাপতি শেখ মসিবুর রহমান প্রায় ৭০ জন কর্মী-সমর্থক নিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন। নির্মলবাবু মসিবুরের হাতে তুলে দেন দলীয় পতাকা। তাঁদের নিয়ে যখন মিছিল শুরু হয়, তখনই পিছনে শুরু হয়ে যায় বাদানুবাদ। তার পরেই মিছিল থেকে ভেগে পড়েন ৫০-৬০ জন তৃণমূল নেতা-কর্মী। তাঁদের দাবি, তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই মসিবুরদের দলে নিয়ে আসা হয়েছে। এক বিক্ষুব্ধ নেতা তো ঘোষণার সুরে বলেই দিলেন, ‘‘এর প্রভাব ভোটে পড়বে। এখানে দলের একটা বড় অংশের ভোট নির্মলবাবু পাবেন না। পাবে কংগ্রেস।’’

দিনের শেষে নির্মল অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘নতুন কেউ দলে এলে পুরনোদের অসন্তোষ হয়। তবে, সকলেই মিছিলে ছিল বলে জানি। আমিই বলেছিলাম, বেশি ভিড় না করতে।’’ তবে, তাল শুধু মিছিলেই কাটেনি। বাণীবনের শাসমলপাড়া, শীতলা-মন্দিরতলায় নির্মল পেয়েছিলেন পুষ্পবৃষ্টি। সংখ্যালঘু মহল্লায় তাঁর দিকে ধেয়ে আসে প্রশ্নবাণ। ট্যাপকলে জল নেই কেন, বার্ধক্যভাতা মিলছে না কেন, কন্যাশ্রীর টাকা অমিল কেন ইত্যাদি প্রশ্ন। বিব্রত মাজিবাবু সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ভোট চেয়েছেন। তবু এক প্রৌঢ়া বলতে ছাড়েননি, ‘‘রেশনে চাল পাচ্ছি না। ভোটের সময়ে দেখাব মজা।’’ কথাটা কানে যায় দলেরই এক কর্মীর। তাঁর স্বগতোক্তি, ‘‘মিছিলের সময়ে দলের কর্মীরাই যা মজা দেখাল, আর কী বাকি থাকল!’’

গোষ্ঠীকোন্দল টের পেয়েছেন শাসকদলের তারকা সাংসদ দেবও। সাতগাছিয়ার তৃণমূল প্রার্থী সোনালি গুহ শনিবারও কর্মী-বিক্ষোভের মুখে পড়েন। শনিবার সকালে প্রচার শেষে সাতগাছিয়ার এক প্রেক্ষাগৃহে কর্মী-সম্মেলনে যান তিনি। পরে সেখানে আসেন দলের জেলা সভাপতি শোভন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সামনেই সোনালির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন এক দল তৃণমূল কর্মী। মেয়র তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বেলা তিনটে নাগাদ কর্মী সম্মেলন ছেড়ে মেয়র বেরিয়ে যান।

দেব যান মেদিনীপুরের দাসপুর-২ ব্লকের সোনাখালিতে দলীয় প্রার্থী মমতা ভুঁইয়ার হয়ে প্রচারে। সঙ্গী ছিলেন মুকুল রায়। সভাস্থলে পৌঁছে দেব দেখেন, মাঠ ফাঁকা! সোনাখালির দলীয় কার্যালয়ে আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করেন তিনি। পরে অবশ্য মাঠ একটু ভরতে মঞ্চে ওঠেন। দলীয় সূত্রের খবর, দাসপুর কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের দাবিতে প্রথম থেকেই সরব হয় দলেরই একাংশ। দলের দাসপুর-২ ব্লক সভাপতি তপন দত্ত রাজ্য নেতৃত্বকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে চিঁড়ে ভেজেনি। তার জেরেই এ দিনের অসহযোগিতা বলে দাবি দলেরই একাংশের। তপন দত্ত অবশ্য কম লোকেরজন্য দায়ী করেছেন ‘চড়া রোদ’কেই।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সভায় মুকুল রায় বলেন, “সংসারে দুই ভাইয়ের মধ্যেও গণ্ডগোল হয়। কিন্তু যখন বাইরে থেকে কেউ আক্রমণ করতে আসে, তখন নিজেদের মধ্যে প্রতিরোধ করতে হয়। আপনারাও এক সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করুন।”

বিরোধীরা বলছে, প্রতিরোধ তো শাসকের ঘরেই!

সহ প্রতিবেদন: অভিজিৎ চক্রবর্তী।

assembly election 2016 disputes vote campaign tmc Nirmal Maji MostReadStories
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy