তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
মমতা বলেন, “ভোট হয়ে গেলে পশ্চিমবঙ্গে জিতে সকলকে এক করে সারা দেশের মানুষকে নিয়ে দিল্লি দখল করতে হবে।”
বিজেপিকে বিঁধে মমতা বলেন, “মানুষদের লাইনে দাঁড় করিয়েছো। অসম্মান করেছো। এই অসম্মানের বদলা মানুষ আজ ভোটের বাক্সে নেবে। সে দিন তোমরা দেখতে পাবে। বাংলাবিরোধী বিজেপি যতই করো চক্রান্ত, আবার হবে ব্যর্থ।”
মমতা বলেন, “অনেক ভোট কেটে দিয়েছে। অনলাইনে দেখে অ্যাপ্লাই করুন। রাজীবকে বলব দেখে নিতে। আমরা আইনজীবী দেব। বাদ দিয়েছিল ১ কোটি ২০ লক্ষের নাম। নির্বাচন কমিশন বলার আগেই বিজেপি বলে দিয়েছিল। তার রেকর্ড তো সকলেই দেখেছেন। লজিস্টিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে আছে ৬০ লক্ষ। তার অন্তত ৫০ শতাংশও যদি নাম উঠে থাকে, তার কৃতিত্ব অবশ্যই আমার কোর্টে যাওয়ার জন্য। কারণ, আমি নিজে গিয়েছিলাম সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। লড়াই করেছিলাম।”
মমতা বলেন, “দিল্লির জমিদারের আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। এটা এক মাস। তার পরে মনে রাখবেন, যতই করো চেষ্টা, মিটবে না কো তেষ্টা। তৃণমূল আসছে, তৃণমূল আসবে। মানুষ যতক্ষণ থাকবে, জোড়াফুল থাকবে।”
বিজেপিকে বিঁধে বলেন, “বাংলার খাবারের উপরে আপনাদের কীসের এত হ্যাংলামি আর নোংরামি! মাছ খাবে না, মাংস খাবে না, ডিম খাবে না। তা কি ওদের মাথা খাবে!”
বাংলাভাষীদের উপরে অত্যাচারের অভিযোগ নিয়েও বিজেপিকে তোপ দাগেন মমতা। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যান, বাংলায় কথা বললে আপনাকে হোটেলে থাকতে দেওয়া হবে না। বাংলায় কথা বললে আপনার উপর অত্যাচার হবে, পিটিয়ে খুন করা হবে। যেখানে বিজেপি আছে, সেখানে মাছ খেতে দেয় না। মাছের দোকান বন্ধ। মাংসের দোকান বন্ধ। ওরা বড় অন্ধ।”
মমতা বলেন, “এরা ধর্মের নামে প্রচার করে। আর ধর্মকে বিপথে ফেলে দেয়। এরা কোনও ধর্ম মানে না। এরা বকধার্মিক। ধর্মকে বিক্রি করে। আমরা ধর্মকে ঘরে রাখি, সম্মান করি। এরা ধর্ম বেচে খায়। আর আমরা মানবিকতার জন্ম দিই। এটাই ওদের সঙ্গে আমাদের তফাৎ।”
বিজেপি-কে তোপ দেগে মমতা বলেন, “এরা মহিলাদের পছন্দ করে না। এরা ‘অ্যান্টি উইমেন’। সবচেয়ে বেশি ভোট বাদ দিয়েছে মা-বোনেদের।” বিয়ের পরে মহিলাদের পদবি বদলের জেরে এসআইআর-এর সময়ে বিভ্রান্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মমতা বলেন, “মেদিনীপুর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জেলা। তাঁর মতো মানুষ পেয়েছিলাম বলে স্বরবর্ণ, ব্যাঞ্জনবর্ণ, অ-আ-ক-খ, শিক্ষার হাতেখড়ি আমরা শিখেছিলাম এই মেদিনীপুরের মাটি থেকে। তাঁর মূর্তিও আগের বার অমিত শাহের মিছিল থেকে ভাঙা হয়েছিল। এরা বিদ্যাসাগরকে সম্মান দেয় না। এরা মাতঙ্গিনীর নাম উল্টো বলে। এরা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্কিমদা বলে। এরা রাজা রামমোহন রায়কে, ক্ষুদিরামকে সম্মান দেয় না। আমরা দিই। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বিজেপি কোথায় ছিল? জন্মেছিল? জন্মই হয়নি তার। সে তো ইংরেজদের কাছে মাথা নত করে পালিয়ে গিয়েছিল।”
মমতা বলেন, “আমাদের আদিবাসী প্রার্থীদের জন্য যেমন সকলে লড়াই করেন। হিন্দু প্রার্থীরা থাকলে, তাঁদের জন্যও সকলে লড়াই করেন। যেখানে মুসলিম প্রার্থী আছেন, তাঁদের জন্যও আমাদের লড়াই করতে হবে। কারণ, সরকারটা কিন্তু আমরা গড়ব।”
মমতা বলেন, “এখানে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়িয়েছে। কখনও সেলিমা দাঁড়িয়েছে, কখনও রাধাকান্ত মাইতি দাঁড়িয়েছে। মনে রাখবেন আমরা পুরাতন, নতুন, প্রবীণ, নবীন, সব ধর্ম, সব বর্ণ, সব জাতি, সব সম্প্রদায়কে নিয়ে ঐক্যের বাংলায় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
আলুচাষিদের উদ্দেশে মমতা বলেন, “কোনও কুৎসা, অপপ্রচারে কান দেবেন না। আমাদের সরকার বিনা পয়সায় শস্যবিমা করেছে। এর জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা আমাদের খরচা হয়। কিন্তু কৃষকদের এক পয়সাও দিতে হয় না। আলু চাষিদের জন্যও করা আছে।”
মমতা বলেন, “ডেবরায় আসতে আসতে দেখছিলাম যেন সবুজের মখমল পাতা আছে। এত সুন্দর ফসল ফলেছে। আগে শুধু বন্যা হত। এখন সাড়ে পাঁচ লক্ষ পুকুর কাটা হয়েছে। কৃষকদের দু’বারে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। যাঁর এক কাঠা আছে সেই চার হাজার টাকা পায় বছরে দু’বার।”
তৃণমূলের সরকার গত পাঁচ বছরে কী কী কাজ করেছে, ডেবরার উন্নয়নের জন্য কী কী কাজ হয়েছে, সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরছেন মমতা।
ডেবরার সভামঞ্চে পৌঁছোলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার ডেবরার তৃণমূল প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে জনসভা করবেন মমতা। ডেবরার বালিচক ভজহরি ইনস্টিটিউশনের মাঠে সভা রয়েছে তাঁর। এই জনসভা থেকে তৃণমূলনেত্রী কী বার্তা দেন, তা নিয়ে কৌতূহল দানা বেঁধেছে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে।
সোমবার তিনটি কর্মসূচি রয়েছে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীর প্রচারে জনসভা করছেন তিনি। প্রথমটি হয়েছে বেলদায়। সেখানে নারায়ণগড়ের প্রার্থী প্রতিভা মাইতির হয়ে প্রচার সারেন মমতা। এর পরে পাঁশকুড়ার প্রার্থী সিরাজ খানের সমর্থনে একটি জনসভা করেন। তাঁর তৃতীয় জনসভাটি রয়েছে ডেবরায়।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy