প্রণামীর টাকা চুরিকাণ্ডে অস্বস্তি পিছু ছাড়ছে না ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের। তাঁর বিরুদ্ধে এ বার থানায় অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অযোধ্যার আইনজীবীরা। রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনায় ধৃত আট জনের মধ্যে অন্যতম রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিনু যাদব। তিনি আবার চম্পতের গাড়ির চালকও ছিলেন। সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠ মহলে চম্পত দাবি করেছেন, প্রণামী চুরিকাণ্ডের মূলে রয়েছেন সেই তিনুই।
প্রণামী চুরির অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধার পরই ট্রাস্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ান চম্পত। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানান, স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের খাতিরেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে এতেও অস্বস্তি পিছু ছাড়েনি তাঁর। চম্পতের উপর ক্ষুব্ধ অযোধ্যার আইনজীবীরা। তিনি এবং ট্রাস্টের অপর দুই সদস্য অনিল মিশ্র ও গোপাল রাও অযোধ্যা ছেড়ে না গেলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন আইনজীবীরা।
এ বার চম্পত, অনিল এবং গোপালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অযোধ্যার আইনজীবীরা। উল্লেখ্য, এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে যখন বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) নিজেদের তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করছে। শীঘ্রই একটি বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’। সেখানে চম্পতের বিষয়টিও উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় চম্পতের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হলে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে কৌতূহল বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রণামীর টাকা চুরির মামলায় এখনও পর্যন্ত আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাতে চম্পতের গাড়ির চালক তিনু ছাড়াও রয়েছেন অবিনাশ শুক্ল, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত চম্পতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে এনডিটিভি জানাচ্ছে, ইতিমধ্যে চম্পতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁর বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে। তবে কখন, কোথায়, কতক্ষণ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে— সেটি স্পষ্ট নয়। সূত্রের দাবি, প্রণামী চুরির অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য এবং নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে চম্পতকে।
আরও পড়ুন:
সূত্রের ভিত্তিতে এনডিটিভি জানাচ্ছে, রামমন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনায় ঘনিষ্ঠমহলে ইতিমধ্যে মুখ খুলেছেন চম্পত। ট্রাস্টের প্রাক্তন প্রধান ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টির মূলে তিনুই রয়েছেন বলে সন্দেহ করছেন তিনি। ঘনিষ্ঠদের কাছে চম্পতের দাবি, তাঁর বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তিনু এই জালিয়াতি চালিয়েছেন বলে মনে করছেন তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রণামী চুরির কাণ্ডে ধৃতদের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। সেই সময় তিনুর বাড়ি থেকে নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছিল। রামমন্দিরের দানবাক্সের টাকা গণনার জন্য বেসমেন্টে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ছিল তিনুর উপর। প্রণামী চুরির ষড়যন্ত্র এবং তহবিল তছরুপের অভিযোগ মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।