×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement
Powered By
Co-Powered by
Co-Sponsors

Bengal Polls 2021: বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যেও বাহিনীর ভূমিকার তারিফ

সমীরণ দাস 
০৭ এপ্রিল ২০২১ ০৭:১০
যত্ন: জওয়ানের কোলে শিশু।

যত্ন: জওয়ানের কোলে শিশু।
—নিজস্ব চিত্র।

কুলতলির ২ নম্বর দক্ষিণ গরানকাটি প্রাথমিক স্কুলে পাঁচ মাসের শিশুকে নিয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন মা। বাচ্চাকে নিয়েই লাইনে দাঁড়ান তিনি। তা দেখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান এগিয়ে এলেন। বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নেন। মা ভোট দিয়ে ফিরে না আসা পর্যন্ত তিনিই বাচ্চা সামলান। জয়নগরের বহড়ুর একটি কেন্দ্রে এ দিন সাধারণের সঙ্গেই লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এক প্রতিবন্ধী মহিলা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক মহিলা কর্মী তা দেখে তাঁর দ্রুত ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

এ ভাবেই মঙ্গলবার দিনভর ভোটারদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে দেখা গেল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাহিনীর ভূমিকায় খুশি সাধারণ মানুষ। বাহিনীর তৎপরতায় নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পেরেছেন বলে জানালেন অনেকেই।

তবে বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে কয়েক জায়গায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতি এ দিন ক্ষোভ উগরে দেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা। বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাস্তায় বসে অবরোধ করতেও দেখা যায় তাঁকে। ওই কেন্দ্রের একাধিক বুথে বিরোধী এজেন্ট বসতে না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলগুলি। বুথের বাইরে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল বা নজরদারি ছিল না বলেও অভিযোগ ওঠে। রায়দিঘি বিধানসভার লালপুর এলাকায় তৃণমূলের জটলা সরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠি চালায় বলে অভিযোগ।

Advertisement

বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছিল কিছু জায়গায় জয়নগরের গড়দেওয়ানি অঞ্চলের ঠাকুরের চকে সিপিএম প্রার্থীর এজেন্টকে বসতে না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পরে সিপিএম প্রার্থী অপূর্ব প্রামাণিক ওই বুথে গিয়ে এজেন্ট বসিয়ে আসেন। গড়দেওয়ানিতে সকালের দিকে এজেন্ট বসতে না দেওয়ার অভিযোগ তোলে বিজেপি, এসইউসি। মায়াহাউড়ির তালতলা এলাকায় সিপিএমের এজেন্ট দুপুরে বাড়িতে খেতে যাওয়ার পরে বুথে আসছিলেন না। অভিযোগ ওঠে, বাড়ি ঘিরে রেখে তাঁকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। কমিশনে অভিযোগ জানালে পুলিশ গিয়ে ওই এজেন্টকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। বেলেদুর্গানগর অঞ্চলের পূর্ব রূপনগরে বুথ থেকে দূরে বিজেপি সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, তাদের একজনকে মারধর করেছে বিজেপি।

কুলতলির দেউলবাড়ি অঞ্চলের একটা বুথে বিজেপি এজেন্টকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠে। প্রার্থী মিন্টু হালদার বুথে গিয়ে এজেন্ট বসিয়ে আসেন। বিকেলের দিকে, জালাবেড়িয়া ১ অঞ্চলে তৃণমূলের তরফে নকল ইভিএম নিয়ে ভোটদাতাদের বোঝানোয় বিতর্ক বাধে। পুলিশ গিয়ে থার্মোকলের ইভিএম বাজেয়াপ্ত করে। কুলতলিতে ভোটে অশান্তির ইতিহাস রয়েছে। গত পঞ্চায়েত ভোটেই এই এলাকায় অবাধ সন্ত্রাসের অভিযোগ ওঠে। সে দিক থেকে এ বার শান্তিপূর্ণ ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট এলাকার মানুষ।

ফলতায় কয়েকটি বুথে ছাপ্পা ভোট ও ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর উপরে হামলার চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ।

Advertisement