ভোট বড় বালাই!
দু’দিন আগেও যাঁদের মধ্যে কথাবার্তা বন্ধ ছিল, তাঁদেরকেই একে অন্যের প্রশংসা করতে দেখা গেল পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। একজন বনগাঁ লোকসভার সাংসদ তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর। অন্যজন বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের দু’বারের বিধায়ক তথা এ বার বাগদা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস। বিশ্বজিৎ বললেন, ‘‘শান্তনু আমার ছোট ভাইয়ের মতো।’’ আর শান্তনুর কথায়, ‘‘বিশ্বজিৎ আমার দাদার মতো।’’
১১ ফেব্রুয়ারির ঘটনা, ওই দিন গাইঘাটার ঠাকুরনগরে সভা করতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত। সভায় ঢুকতে গিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ক্ষুব্ধ বিশ্বজিৎ পর দিন গোপালনগরে নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনুকে বিঁধেছিলেন। বিশ্বজিৎ বলেছিলেন, ‘‘শান্তনু দলকে ব্ল্যাকমেল করছেন।’’ ওই দিনই ঠাকুরনগরে সাংবাদিক বৈঠক করে শান্তনু পাল্টা বলেন, ‘‘আগামী দিনে তাঁর (বিশ্বজিৎ) জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্র তৈরি হতে সমস্যা হবে।’’
বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্বজিৎ বাগদায় প্রচার শুরু করেছেন। বাগদা বিধানসভাটি মতুয়া প্রভাবিত। এ দিন বিশ্বজিৎ মতুয়া মন পেতে গলায় গামছা ও ফুলের মালা পরে ডাঙ্কা বাজান। হেলেঞ্চায় হরিচাঁদ মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করেন। দলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, সকালে বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনস্পতি দেব ফোন করে শান্তনুর সঙ্গে বিশ্বজিতের কথা বলিয়ে দেন। বাগদার মতুয়া সমাজের মানুষের মধ্যে শান্তনুর প্রভাব আছে। শান্তনু পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলেই দলের ওই সূত্রটি জানাচ্ছে।
বাগদায় প্রচার সেরে বেলা ৩টে নাগাদ গাইঘাটার ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে যান বিশ্বজিৎ। শান্তনুকে সঙ্গে নিয়ে হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করেন। কথা বলেন। পরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বিশ্বজিৎ বলেন, ‘‘শান্তনুর বাবা মঞ্জুলকৃষ্ণ আমার প্রিয় মানুষ। দীর্ঘ দিন এক সঙ্গে বিধানসভায় কাজ করেছি। শান্তনু আমার ছোট ভাইয়ের মতো। ওঁকে স্নেহ করি, শ্রদ্ধা করি। ওঁদের সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক। কোনও ভুল বোঝাবুঝি নেই।’’
শান্তনু বলেন, ‘‘বিশ্বজিৎ আমার দাদার মতো। পরিবারে দাদা-ভাইয়ের মধ্যেও ভুল বোঝাবুঝি হয়। সব মিটে গিয়েছে। বাগদায় প্রচারেও যাব।’’ তবে বাগদায় এ দিন বিশ্বজিতের প্রচারে দেখা মেলেনি বিদায়ী বিধায়ক দুলাল বরের। দুলাল বুধবারই জানিয়েছেন, তিনি দল ছাড়ছেন। গাইঘাটার মানুষ চাইলে তিনি গাইঘাটায় ভোটেও দাঁড়াতে পারেন। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘‘দুলালদার সঙ্গে আঠাশ বছরের সম্পর্ক। উনি বিজেপিতেই আছেন। আমার সঙ্গে প্রচারেও আসবেন।’’