Advertisement
E-Paper

‘জুটি বাঁধতে গেলে নায়ক-নায়িকার প্রেম থাকতেই হবে’? ইশার সঙ্গে পর্দাভাগ প্রসঙ্গে ইন্দ্রনীল

“আমি সাঁতার জানি না। তার মানে জলে নামি না, তা নয়। কিন্তু সৃজিতের কথা মেনে সমুদ্রে ঢুকে শট দেওয়ার পর দেখি, পায়ের নীচে মাটি নেই!”

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:১৬
নতুন রূপে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত।

নতুন রূপে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। ছবি: ফেসবুক।

ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত বাংলা ছবিতে। শুনলেই দর্শকের আশা, বুঝি ‘ফেলুদা’ হয়ে ফিরছেন। বাঙালির কাছে অভিনেতার ইমেজ যেন এমনই, তিনি অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করলেও। সেই ‘মিথ’ ভেঙে ইন্দ্রনীল বড়পর্দায় এক ঐতিহাসিক চরিত্রে!

কখনও তাঁর কাঁধছোঁয়া চুল। কখনও তিনি মুণ্ডিতমস্তক। বড়দিনে তাঁকে ‘চৈতন্যদেব’ রূপে বড়পর্দায় আনছেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে চৈতন্যদেবের জীবন তিনটি ভাগে দেখানো হবে। সেখানেই ছবির ভিতরে ছবিতে তিনি ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

অভিনেতা এই মুহূর্তে আমেরিকায়। প্রথম সারির একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্মের সিরিজ়ে অভিনয় করছেন। তারই শুটিংয়ে ব্যস্ত। খবর পেয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। কোন ঘরানার সিরিজ়ে দেখা যাবে তাঁকে? প্রশ্ন করা হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেন, “চুক্তিবদ্ধ আমরা। ফলে, সিরিজ় নিয়ে এখনই কিছু জানাতে পারব না।” বড়দিনের আবহে তাঁর ছবিমুক্তি প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, খুব ইচ্ছা ছিল উদ্‌যাপনে যোগ দেওয়ার। কিন্তু শুটিংয়ের কারণে পারছেন না।

সৃজিতের সঙ্গে ইন্দ্রনীল এই নিয়ে তিনটি ছবি করলেন। প্রথম ছবি ‘অটোগ্রাফ’ ২১ বছর আগে। সেই ছবিতে তিনি ‘পরিচালক’-এর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। ২১ বছর পরে একই পরিচালকের আর একটি ছবিতে তিনি ‘অভিনেতা’র ভূমিকায় অভিনয় করছেন! প্রসঙ্গ তুলতেই ইন্দ্রনীল বললেন, “হ্যাঁ, তবে চরিত্রটা একদম ভিন্ন স্বাদের।” ঐতিহাসিক চরিত্রে তিনি এই প্রথম। সেই জন্যই রাজি, না কি সৃজিতের কারণে? “ভাল ছবির কারণে। অন্য রকম চরিত্রের লোভে। সৃজিতের সঙ্গে আবার কাজ করার ইচ্ছা থেকে।” আরও একটি কারণ আকর্ষণ করেছে তাঁকে। তিনটি সময়কে পরিচালক একটি ফ্রেমে বাঁধার চেষ্টা করেছেন, এটিও তাঁর ভাল লেগেছে।

রূপটানের পর যখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছেন, অভিনেতা নিজের ‘লুক’ দেখে খুশি। প্রস্থেটিক রূপটান তাঁর বাহ্যিক চেহারায় বদল এনেছে। ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয়ের পর কি মনের দিক থেকে কোনও বদল ঘটল? প্রশ্ন শুনে হেসে ফেলেছেন ইন্দ্রনীল। বললেন, “তা হলে ‘ফেলুদা’ চরিত্রে অভিনয়ের পর নিজেকে গোয়েন্দা ভাবা উচিত। বাস্তবে কোনও চরিত্রই অভিনেতাদের মনে ছাপ ফেলে না। আমরা জানি, সবটাই কল্পিত। তাই চৈতন্যদেব আমার উপরে কোনও প্রভাব ফেলেননি।” প্রভাব যাতে না পড়ে তার জন্য অবশ্য পরিচালকও তাঁকে চৈতন্যদেবের চরিত্র নিয়ে পড়াশোনা করতে নিষেধ করেছিলেন। ইন্দ্রনীল সৃজিতের নির্দেশ অনুযায়ী অভিনয় করেছেন।

এই প্রসঙ্গে উঠে এসেছে একাধিক মজার দিক। যেমন, অভিনেতা সাঁতার জানেন না। তা বলে জলে নামতে ভয় পান না। তাঁর কথায়, “আমি সাঁতার জানি না। তার মানে জলে নামি না, তা নয়। সৃজিতের কথা মেনে দৃশ্য নিখুঁত করতে সমুদ্রের অনেকটা গভীরে ঢুকে গিয়েছিলাম। শট দেওয়ার পর দেখি, পায়ের নীচে মাটি নেই! আমি অবশ্য কিছুই বুঝিনি। তীরে ফেরার পর বাকিদের থেকে শুনলাম, আমি নাকি অনেক গভীরে চলে গিয়েছিলাম।” ইন্দ্রনীলের বিপরীতে ইশা সাহা। ছবির ভিতরের ছবিতে তিনি পরিচালকের ভূমিকায়। অভিনেতাকে নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। ইশা কি সৃজিত হয়ে উঠেছিলেন? প্রশ্ন শুনে এ বার জোরেই হেসে ফেললেন তিনি। বললেন, “আমি খুব সজাগ ভাবে দেখেছি, ইশা কিন্তু সৃজিতকে একটুও নকল করেনি। বরং পরিচালকের কথামতো অভিনয়ের চেষ্টা করেছে।”

‘তরুলতার ভূত’ ছবিতে প্রথম জুটি বাঁধেন ইন্দ্রনীল-ইশা। তখন থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন। সৃজিতের ছবি নতুন করে তাতে ইন্ধন জুগিয়েছে। পরিচালকও কি সেই গুঞ্জনে বিশ্বাসী হয়েই জুটিকে ভেবেছিলেন? ঈষৎ গম্ভীর গলায় এ বার ইন্দ্রনীল জবাব দিলেন, “সৃজিত অনেক ছবি বানিয়েছেন। তাতে অনেক জুটি। কিংবা ধরুন প্রচুর বাংলা ছবি হয়েছে। তাতেও অগুনতি নায়ক-নায়িকা। আমার প্রশ্ন, প্রত্যেকেই কি সম্পর্কে থাকেন? না কি, ছবিতে জুটি বাঁধতে গেলে বাস্তবে সম্পর্কে থাকা বাঞ্ছনীয়? আমার এ বিষয়ে জানা নেই।”

ইন্দ্রনীল অভিনীত ‘ফেলুদা’র কথা উঠলেই কি টলিউড তাঁর ‘চৈতন্য’রূপ প্রসঙ্গও তুলবে?

অভিনেতার সাফ দাবি, “অত ভেবে কাজ করি না। যে চরিত্র বা চিত্রনাট্য ভাল লাগে সেটাই বেছে নিই। আর প্রত্যেক অভিনেতার স্বপ্ন থাকে, তাঁর সব চরিত্রই যেন দর্শকমনে অমর হয়।”

Srijit Mukherji Lawho Gouranger Nam Rey
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy