হৃদরোগে আক্রান্ত করিমুল হক। জলপাইগুড়ির এই মানুষটি দেশবাসীর কাছে ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’ নামে খ্যাত। করিমুলের জীবন বড়পর্দায় তুলে ধরতে চলেছেন দেব। অভিনেতা-সাংসদের আপ্তসহায়ক সায়ন্তন রায় আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছেন, কলকাতার প্রথম সারির এক বেসরকারি হাসপাতালে পেসমেকার বসেছে করিমুলের।
সায়ন্তনের কথায়, “ভাল আছেন করিমুল। অস্ত্রোপচার সফল। চিকিৎসকেরা তাঁকে উঠে বসার অনুমতি দিয়েছেন। সব ঠিক থাকলে বুধবার ছাড়া পাবেন তিনি।” তাঁর ছবির গল্পের ‘হিরো’ অসুস্থ। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি হাসপাতালে ছোটেন দেব। দেখা করেন তাঁর সঙ্গে। সেই ছবি ভাগ করে নেন সকলের সঙ্গে। বিবরণীতে লেখেন, “দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠো করিমদা। তোমার জন্য প্রার্থনা জানাচ্ছি। তুমিই তো আমাদের বাস্তবের ‘অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’।”
অভিনেতা-সাংসদের তত্ত্বাবধানেই কি চিকিৎসা চলছে? প্রশ্ন ছিল সায়ন্তনের কাছে। আপ্তসহায়ক জানিয়েছেন, এ রকম কিছুই হচ্ছে না।
গত বড়দিনের ছবিমুক্তির পর থেকেই তাঁর ৫০তম ছবি নিয়ে মেতে উঠেছেন দেব। এ বার তাঁর ‘পাখির চোখ’ করিমুল হকের জীবনীছবি। পদ্ম সম্মানে সম্মানিত করিমুলের জীবন পরার্থে নিবেদিত। অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে তাঁর মাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেননি। মায়ের মৃত্যুশোক এতটাই ছুঁয়ে গিয়েছিল যে, তার পর থেকে নিজের বাইককে অ্যাম্বুল্যান্সে পরিণত করেন করিমুল। জলপাইগুড়ির প্রত্যন্ত গ্রামের দুঃস্থ রোগীদের বিনা খরচে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেন।
আরও পড়ুন:
দেবের কথায়, “অনেক বছর আগে থেকেই করিমুল হককে নিয়ে ছবি বানাব ঠিক করেছিলাম। সেই সময়ে মুম্বইয়ের এক প্রযোজক গল্পের স্বত্ব কিনে নেন। ছবিটি হিন্দিতে হবে। ইচ্ছা থাকলেও সরে দাঁড়াই।” প্রসঙ্গত, ২০১৮-য় ছবিটি সূরজ বরজাত্যার সহকারী পরিচালক বিনয় মুদ্গলের পরিচালনা করার কথা ছিল। নওয়াজউদ্দীন সিদ্দীকী, আমির খান হয়ে সোনু সুদ-- তাবড় অভিনেতা এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মুখিয়ে ছিলেন। সবাইকে ছাপিয়ে চরিত্রটি দেবের কাছে আসে। মাস চারেক আগে বিনয় ফোন করেন দেবকে। প্রযোজক-অভিনেতা উড়ে যান। কিনে নেন স্বত্ব।
ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন অভিনেতা-সাংসদ। এর আগে জলপাইগুড়ি গিয়ে দেখা করে এসেছেন করিমুলের সঙ্গে। সব ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুটিং শুরু হবে ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’র।