এই মুহূর্তে আটটি নাটকে অভিনয় করছেন সৌমেন চক্রবর্তী। তার মধ্যে পাঁচটিই জনপ্রিয়। খবর, মঞ্চাভিনয়ের দাপটেই নাকি পর্দায় একের পর এক অভিনয় ছেড়ে দিতে হয়েছে। সৌমেন ডাক পেয়েছিলেন ‘এডওয়ার্ড ও ফুলপিসি’ ছবিতে। ডাক পেয়েছেন হইচই, আড্ডা টাইমসের মতো ওয়েব প্ল্যাটফর্ম থেকেও।
আফসোস হচ্ছে না? যোগাযোগ করে প্রশ্ন করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। সৌমেন অস্বীকার করেননি। তাঁর কথায়, “অডিয়ো সিরিজ় আর মঞ্চাভিনয়ে যেন বাঁধা পড়ে গিয়েছি। শুধুই সিনেমা বা সিরিজ় নয়। ছোটপর্দা থেকেও ডাক পেয়েছি।” ধারাবাহিকের জন্য টানা তিন মাস সময় চাওয়া হয়েছিল সৌমেনের থেকে। অভিনেতা দিতে পারেননি। এই জায়গা থেকেই তাঁর উপলব্ধি, “আড়াইশো নাটকে কাজ করে ফেললাম। কিন্তু বরাবর সিনেমায় অভিনয় করতে চেয়েছি। এ বার মনে হচ্ছে, মঞ্চ বা অডিয়ো বুক-সিরিজ়ের কাজে সীমা টানতে হবে, ভাল সিনেমা বা সিরিজ়ের ডাক যাতে ফেরাতে না হয়।” অভিনেতার অস্বস্তি, কোথাও আটকে গিয়ে ভাল কাজে সময় দিতে পারছেন না, এটা তিনি মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না।
সৌমেনের বড়পর্দায় হাতেখড়ি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘কিলবিল সোসাইটি’ দিয়ে। সেখানে ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এ বার তাঁকে দেখা যাবে পরিচালকের আগামী ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’তে। সদ্য বাংলাদেশের অভিনেতা আরিফিন শুভ-র সঙ্গে একটি সিরিজ়ে অভিনয় করেছেন। সু-অভিনেতা হিসাবে তো বটেই, সৌমেন আরও একটি কারণে নজর কেড়েছেন দর্শক এবং টলিউডের। অনির্বাণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত মিল!
আরও পড়ুন:
শোনা যাচ্ছে, মার্চের মাঝামাঝি ‘নির্বাসন’ কাটিয়ে পর্দায় ফিরতে পারেন অনির্বাণ। এই ঘটনা কি সৌমেনের পর্দায় কাজ পাওয়ার উপরে ছায়া ফেলবে? অভিনেতা যদিও সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। সাফ বলেছেন, “অনির্বাণদা আমার থেকে সব দিক থেকে অনেক বড়। ফলে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা প্রতিযোগিতার প্রশ্নই ওঠে না।” এমন কোনও চিত্রনাট্য যদি পান, যেখানে কমবয়সের চরিত্রে সৌমেন আর পরিণত বয়সের জন্য অনির্বাণকে ভাবা হয়? সে ক্ষেত্রে সেই চরিত্রে অভিনয় করবেন কি না, তা-ই নিয়ে দু’বার ভাববেন সৌমেন। তাঁর কথায়, “নইলে তুলনাটা এসেই যাবে। সবাই বলবেন, আমাদের মিল আছে বলেই এই চরিত্রটি আমি পেয়েছি।”
পেশাজীবনে যেমন বাঁধা পড়তে চান না, ব্যক্তিগত জীবনেও কি সেটাই ধরে রাখবেন সৌমেন?
সৌমেন হাসতে হাসতে জবাব দিয়েছেন, “প্রেম করেছি প্রচুর। সেটা সবাই জানেন। এখনও কোথাও বাঁধা পড়িনি। তবে নিজের থেকে বাঁধা পড়ার ইচ্ছে হলে আপত্তি করব না। কারণ, তখন তো আমার মন বাঁধা পড়তেই চাইবে।”