ওজন কমানোর পর্বে সবচেয়ে ব্রাত্য যে খাবার, তা হল ভাত। তার অবশ্য সঙ্গত কারণ রয়েছে। ভাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি। যা ওজন বাড়িয়ে তোলে। ফলে ভাত খেলেই মোটা হয়ে যাওয়ার একটা আশঙ্কা সব সময় মনের মধ্যে থাকে। অথচ বাঙালি মানেই ছুটির দুপুরে ভাতের সঙ্গে কষা মাংস কিংবা পাতলা মাছের ঝোল। স্থূলতার ঝুঁকি কমাতে তবে কি ভাত খাওয়া বন্ধ করে দেওয়াই একমাত্র পথ?
তমন্না ভাটিয়ার ফিটনেস প্রশিক্ষক সিদ্ধার্থ সিংহের মতে, ভাতের সঙ্গে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক আছে। সেই ভয়ে অনেকেই তাঁদের প্রিয় খাবারটি ডায়েট থেকে পুরোপুরি বাদও দিয়ে দেন। তবে কয়েকটি কৌশল জানা থাকলে ভাত খেয়েও ওজন বশে রাখা যায়। কী ভাবে রোজের ডায়েটে ভাত রেখেও রোগা হওয়া যায়, হদিস দিলেন সিদ্ধার্থ।
পেট ভরে নয়, মেপে খান:
সব ধরনের খাবার খেয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার গোপন মন্ত্র হল ‘পোর্শন কন্ট্রোল’। যে কোনও খাবারই মেপে খাওয়া জরুরি। তবে ভাতের ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ। তাতে শরীরে এক ধাক্কায় বেশি ক্যালোরি বা কার্বোহাইড্রেট যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। সিদ্ধার্থ বলছেন, ভাত খেয়ে ওজন বশে রাখতে হলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা ভীষণ জরুরি।
প্রোটিনে না চলবে না:
ভাত হল কার্বোহাইড্রেট। তার সঙ্গে প্রোটিনের জুড়ি বিপাকহার উন্নত করে। ভাতের সঙ্গে ডাল থাকে বেশির ভাগ বাড়িতে। তবে শুধু ডাল দিয়ে প্রোটিনের ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয়। প্রোটিন বেশ অনেক ক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখতেও সাহায্য করে। তাই ভাতের পরিমাণ কমালেও মাছ, মাংস, ডিম, সয়া, ডাল কিংবা পনির দিয়ে তৈরি পদ রাখতে হবে পাতে। আর কিছুই না থাকলে এক বাটি দই রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদ।
শাকসব্জিকে ভুললে হবে না:
কম কার্বোহাইড্রেট , প্রোটিন এবং ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবারের মিশেলে তৈরি ডায়েট ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আদর্শ বলে মনে করেন পুষ্টিবিদেরা। শাকসব্জিতে ফাইবার তো আছেই। সঙ্গে নানা রকম খনিজও রয়েছে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শাকসব্জির কোনও পদ না থাকলে বাটি ভরে স্যালাড খেলেও চলবে।