১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
গার্গী রায়চৌধুরী: এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দেখতে চাই। কারণ, ওঁর ব্যক্তিত্ব, বা দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা আমাকে আকৃষ্ট করে।
২. দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে?
গার্গী: যদি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখটাই মাথায় ভাসে, তা হলে ওঁর মুখটাই আসল। ওঁর দল যেখানে থাকবে, সেখানেই ভোট দেব।
৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
গার্গী: সকলের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। সর্বার্থে, সব জায়গায় প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। যেমন, পোড়খাওয়া অভিনেতাদেরও প্রত্যেক চরিত্রে অভিনয়ের আগে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন পড়ে। এই প্রয়োজনীয়তা সব বিভাগে, সর্ব ক্ষেত্রেই দরকার। কারণ, প্রশিক্ষণই পারে ব্যক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। একই ভাবে পরীক্ষারও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভোটটাই তো প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা। নাগরিকত্বের অধিকারপ্রয়োগ।
৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
গার্গী: আমি তো কখনও ভাবিনি যে বিধায়ক হব। তাই আমার কিছু বদলানোরও প্রশ্ন নেই।
৫. আপনার পেশা জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
গার্গী: বিশ্বাস করুন, এ নিয়ে কখনও ভেবে দেখিনি। কোনও দিন ভেবে দেখলে তখন না হয় উত্তর দেব।
৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
গার্গী: স্বচ্ছ নির্বাচন আর স্বচ্ছতা। একমাত্র এগুলোই পারে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে।
৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
গার্গী: শুধু রাজনীতিতে কেন! মুখবদল, দলবদল তো হামেশাই সর্বত্র চলতে থাকে। আমার কাছে আসল হল নাগরিকত্বের অধিকার এবং তার প্রয়োগ।
৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
গার্গী: শুধু রাজনীতি কেন? কোনও জায়গাতেই অপশব্দের প্রয়োজন আছে বলে আমি অন্তত অনুভব করি না। আমার মতে, এই ধরনের ভাষাপ্রয়োগ অনুচিত। হিংসা, দ্বেষ— এগুলি সব সময়েই বর্জনীয়। দুর্বলেরা গালাগালি দেয়। সবলেরা অপশব্দ, অপভাষা বা গালাগালি দেয় কি?
৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
গার্গী: অবশ্যই দেশজ সংস্কৃতি! যে দেশে বাস করি, সেই দেশ তো সবার আগে।
১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
গার্গী: আমি ভাতাটাকে রাজনীতি মনে করছি না। কিন্তু যাঁরা রাজনীতির স্বার্থে ভাতাকে ব্যবহার করেছেন, করবেন বা করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বলতে পারব না। তবে তার পরেও বলব, যে ভাতা মানুষের উপকারে আসে, সেটি সব সময়ই গ্রহণযোগ্য।
১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
গার্গী: প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি একটুও স্বাস্থ্যকর নয়। আমার মতে, রাজনীতিতে সব সময় বিরোধীপক্ষ থাকা দরকার।
১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
গার্গী: তারকাদের উচিত সিনেমাহলে লোক টানা। ভোট টানা তাঁদের কাজ নয়।
১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
গার্গী: আমার পছন্দের রাজনীতিবিদ দু’জন। একজন হলেন ইন্দিরা গান্ধী। তাঁকে পছন্দ করি তাঁর তেজের কারণে। অন্য জন হলেন জ্যোতি বসু। ব্যক্তিত্ব আর ক্ষুরধার বুদ্ধির জন্য তিনি আমার পছন্দের।