কলকাতার বাইরে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে এ বার হেনস্থার শিকার অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী! কিছু দিন আগে লগ্নজিতা চক্রবর্তী পূর্ব মেদিনীপুরের একটি জায়গায় অনুষ্ঠান করতে গিয়ে আপত্তিকর আচরণের মুখোমুখি হয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ বার বনগাঁয় অনুষ্ঠান করতে গিয়ে প্রায় একই ঘটনা ঘটল মিমির সঙ্গে! এমনই অভিযোগ এনে মিমি বলেছেন, “এই ধরনের ব্যবহার এই প্রথম পেলাম।” বিষয়টি নিয়ে তাঁর ক্ষোভ, “মঞ্চে যে সমস্ত শিল্পী অনুষ্ঠান করতে যান, তাঁদের আজকাল যেন লোকে তাঁদের ‘সম্পত্তি’ ভাবা শুরু করেছেন!”
গায়ক এবং অভিনেতারা কখনও শহরের বাইরে, জেলা শহরে, কখনও রাজ্যের বাইরে, বা দেশের বাইরে অনুষ্ঠান করতে যান। রবিবার বনগাঁয় তেমনই একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন মিমি। তিনি জানান, তখন সবেমাত্র তিনি অনুষ্ঠান শুরু করেছিলেন।
তাঁর কথায়, “তনয় শাস্ত্রী নামের জনৈক ব্যক্তি আচমকা অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলেন। আমাকে বলেন, ‘আপনি চলে যান’! আমি এতটাই হকচকিয়ে গিয়েছিলাম, যে প্রথমে বুঝতেই পারিনি, আমাকে বলা হচ্ছে।” বিষয়টি উপলব্ধি করার পরে বিস্ময়ে, অপমানে হতবাক হয়ে যান অভিনেত্রী। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তিনি ফের তাকান ওই ব্যক্তির দিকে। মিমির দাবি, তখনও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন তনয়। এর পরে আর কথা না বাড়িয়ে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের শুভরাত্রি জানিয়ে মঞ্চ ছাড়েন মিমি।
এর পরেই মিমি স্থানীয় থানার আইসিকে ফোন করেন। সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ দায়ের হয়। মিমি বলেন, “প্রশাসন পুরোমাত্রায় সহযোগিতা করছে। আশা, বিকেলের মধ্যে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে।” পুলিশ সূত্রের খবর, ই-মেল মারফত বনগাঁ থানায় ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানানো হয়েছে।
এ ভাবে নিজের রাজ্যে শিল্পীদের হেনস্থা হওয়ার ঘটনায় যথেষ্ট উদ্বিগ্ন মিমি। বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে ভাবাচ্ছে, এ কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আজ আমি এ রকম ঘটনার শিকার। তা হলে আগামী দিনে মঞ্চানুষ্ঠানে গিয়ে অন্য মহিলা শিল্পীও এ রকম ঘটনার শিকার হয়ে পারেন। তাই সকলেই সাবধান হোন। কার সঙ্গে, কোথায় যাচ্ছেন— সে বিষয়ে সতর্ক হোন।”
এ বিষয়ে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। মিমি বলেছেন, “আগে যখন অনুষ্ঠান করতে যেতাম, তখন সঙ্গে বড়জোর গাড়ির চালক থাকতেন। কখনও বা দেহরক্ষী হিসাবে কেউ থাকতেনও না। যে সম্মান দিয়ে আমাদের নিয়ে যাওয়া হত, সেই সম্মান নিয়েই আমরা বাড়ি ফিরতাম।”
এই ঘটনার জেরে মিমির উপলব্ধি, “আমার আগেও অনেকের সঙ্গে এ রকম ঘটনা ঘটতে দেখেছি। তখন মনে হয়েছে, আমার সঙ্গে এ রকম কিছু হবে না। সেই ভুল ভেঙেছে। আমিও অনুষ্ঠান করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হলাম।” অভিনেত্রীর আক্ষেপ, নারীর প্রতি সম্মান, শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা, সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। “আমি তাই চুপ থাকব না। এর শেষ দেখব। চুপ থাকলে যাঁরা এ রকম আচরণ করছেন, তাঁরা বিষয়টিকে খুব ‘স্বাভাবিক’ বলে ধরে নেবেন।” একই সঙ্গে মিমির আইনজীবীও মানহানির নোটিস পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।