×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৬ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

বোন হলেও বা কী! মহিলাও কোনও প্রতিবাদ করলেন না! সৌরভের ভিডিয়ো নিয়ে মুখ খুললেন সুদীপ্তা

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ২৩ জানুয়ারি ২০২১ ১৭:৪৫
সৌরভ দাস ও সুদীপ্তা চক্রবর্তী

সৌরভ দাস ও সুদীপ্তা চক্রবর্তী

‘বোন হোক বা না হোক, সৌরভ যা করেছেন, তা অস্বস্তিকর’— একাধিক নেটাগরিকের সঙ্গে সুর মেলালেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী।

শুক্রবার সকালে সরকারি ভাবে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন টলিউড অভিনেতা সৌরভ দাস। যোগ দিতে না দিতেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার পরে নেটদুনিয়ায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন সৌরভ দাস।

ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যায়, সৌরভ এক মহিলাকে তাঁর বাঁ হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে বক্তৃতা দিচ্ছেন। ভিডিয়োর উপরে গোল করে দেওয়া হয়েছে একটি অংশ, তাঁর হাতের অবস্থান বোঝানোর জন্য। দেখা যাচ্ছে মহিলার বুকের উপর সৌরভের হাত। যদিও সেই ভিডিয়োটে পরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

Advertisement

পরবর্তীকালে সৌরভ দাসের পোস্ট থেকে যা জানা গিয়েছে, সৌরভের সাম্প্রতিকতম জন্মদিন উপলক্ষে সবাই একত্র হয়েছিলেন। সৌরভের অনুরাগীরা তাঁর জন্মদিন পালন করতে এসেছিলেন সেই ক্লাবে। তাঁর বাঁ পাশের ভদ্রলোক সৌরভের বাবা। এবং যে মহিলাকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি সৌরভের নিজের বোন। এই প্রথম এত জনকে তাঁর জন্মদিন পালন করতে দেখে আবেগতাড়িত হয়ে গিয়েছিলেন বলে জানালেন অভিনেতা। এবং তাই বোনকে জড়িয়ে ধরে তাঁর চোখের জল মুছিয়ে দিচ্ছিলেন। যদিও তাঁর পোস্টে কোথাও তাঁর হাতের অবস্থান নিয়ে কোনও কথা ছিল না।


সেই নিয়ে ফেসবুকে মুখ খুলেছেন টলিউড অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। তিনি বলেছেন, ‘কুরুচিকর, বিকৃত মানসিকতা, জঘন্য। কখনও তাঁর সঙ্গে কাজ করিনি। খুব একটা চিনিও না। কিন্তু আমার জুনিয়র সহকর্মী। আজ তাঁর জন্য আমি লজ্জিত যে আমি অভিনয় দুনিয়ার এক জন মানুষ। এখন জানতে পারছি, সেই মহিলা ওঁর বোন। তাহলে? এতে আনন্দিত হয়ে যাওয়ার কারণ তৈরি যায় বুঝি? বাবার সামনে বোনকে হেনস্থা! আমি জানি না। আমি খুব ঘেটে গিয়েছি।’ কমেন্ট বক্সে সুদীপ্তা সেই মহিলাকে নিয়েও হতাশা প্রকাশ করলেন। জানালেন, ‘আমি খুব দুঃখিত যে এটা বলছি, কিন্তু মহিলাও কোনও প্রতিবাদ করলেন না?’

এই প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য সুদীপ্তা চক্রবর্তীকে যোগযোগ করা হল আনন্দবাজার ডিজিটালের পক্ষ থেকে। তাঁর বক্তব্যে অনড় সুদীপ্তা। তবে বোঝা গেল, ফেসবুক পোস্টটা দেওয়ার পরে তাঁর মনোভাবে অল্প বদল এসেছে। তাঁকে তাঁর বেশ কয়েক জন সংবেদনশীল বন্ধু-বান্ধব ফোন করেছিলেন। এবং একই দিনের নানা অ্যাঙ্গেলের ভিডিয়ো পাঠিয়েছেন। যেগুলি দেখার পর তাঁর মনে হয়েছে, বিষয়টা অতটা চোখে লাগছে না। তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছে, এটা কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত? আর তাই জন্য কোনও ভাবে প্রযুক্তির সাহায্যে কোনও কারিকুরি করা হয়নি তো?

সুদীপ্তা জানালেন, ‘‘যদি সেটা করা হয়, তাহলে লজ্জাজনক ঘটনা! কিন্তু যদি ভিডিয়োটা সত্যি হয়, এবং সৌরভ ওই ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকেন, তাহলেও বিষয়টা লজ্জাজনক। বোন হোক বা না হোক। বিষয়টা তো পাল্টে যায় না। কিন্তু কিছু মন্তব্য করার জায়গায় আমি নেই এই মুহূর্তে। আগে জানতে চাই, প্রযুক্তিগত কারিকুরি করা হয়েছে কিনা।’’


Advertisement