সফর শুরু করেছিলেন সলমন খানের বিপরীতে ‘বীর’ ছবিতে। অনেকেই বলেছিলেন, অবিকল ক্যাটরিনা কইফের মতো দেখতে। তবে ‘হেট স্টোরি ৩’ ছবিতে অভিনয় করার পর থেকেই বদলে গিয়েছিল তাঁর ভাবমূর্তি। নিজেই জানিয়েছেন জ়রীন খান। ওই ছবিতে অভিনয় করার পর থেকে বলিউড তাঁকে ছোট নজরে দেখত বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী।
‘বীর’ ছবিটি বক্সঅফিসে ভাল ব্যবসা করেছিল। কিন্তু ‘হেট স্টোরি ৩’ ছবির সাহসী দৃশ্যের কারণে ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষ তাঁকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেছিলেন। তাঁকে অবহেলাও করা হত অভিনেত্রী হিসাবে। মনে করেন জ়রীন নিজেই। তাঁর কথায়, “‘হেট স্টোরি ৩’ করার পর অনেকেই আমাকে ছোট করে দেখতে শুরু করেন। বিশেষ করে ইন্ডাস্ট্রির মানুষজন। তারা বলত, ‘ও অভিনয় করতে পারে না। তাই পোশাক খুলে অভিনয় করার পথ বেছে নিয়েছে।’”
‘হেট স্টোরি ৩’-এর সাফল্যের পর জ়রীনকে ‘অকসর ২’ ছবির প্রস্তাব দেওয়া হয়। ইমরান হাশমী ও উদিতা গোস্বামী অভিনীত ‘অকসর’ ছবির সিকুয়েল ছিল এটি। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন অনন্ত মহাদেবন। জ়রীন জানান, শুরুতে তাঁকে বলা হয়েছিল, এটি একটি থ্রিলার, ‘হেট স্টোরি ৩’-এর মতো নয়। কিন্তু শুটিং শুরু হওয়ার পর তিনি দেখেন অনেক দৃশ্যে চুম্বন বা খোলামেলা পোশাকের দরকার পড়ছে। জ়রীনের কথায়, “তিনি খুব সুন্দর ইংরেজিতে গল্পটি বলেছিলেন। এও বলেছিলেন, ‘আমরা ‘হেট স্টোরি’র মতো ছবি বানাচ্ছি না।’ তখন আমি ভেবেছিলাম, ঠিক আছে। কিন্তু সেটে গিয়ে দেখি প্রায় প্রতিটি দৃশ্যের শেষে চুম্বন আছে বা হঠাৎ আমাকে অন্তর্বাস পরে অভিনয় করতে বলা হচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
জ়রীনের বক্তব্য, তিনি সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করতে আপত্তি করেন না। কিন্তু ছবিটি তাঁকে যে ভাবে প্রথমে বোঝানো হয়েছিল, পরে সেটি তেমন নয় বলে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি পরিচালককে বলেছিলাম, ‘এমন দৃশ্যে আমার সমস্যা নেই। কিন্তু আপনি আমাকে একদম আলাদা গল্প বলেছিলেন। এখন শুধু আগের ছবির সাফল্য দেখে এ সব যোগ করতে চাইছেন।’ পরে বুঝলাম পরিচালক খুব দুর্বল মনের মানুষ। তিনি প্রযোজকদের একরকম গল্প বলতেন, আর আমাকে ও আমার পোশাকশিল্পী শাহিদ আমিরকে অন্য রকম বলতেন।”
ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন জ়রীন। কিন্তু পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না। এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন অভিনব শুক্ল ও গৌতম রোডে।