আগের সপ্তাহের শনিবার থেকে বন্ধ ছিল ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের শুটিং। নেপথ্যে ছিল রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু। আর্টিস্ট ফোরাম এবং চ্যানেলের বৈঠকের মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমতো শুক্রবার ‘ভারতলক্ষ্মী পিকচার্স’-এর পরিবেশ ছিল একেবারে অন্যরকম। চেনা ব্যস্ততা যেন ফিরে এসেছে।
শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ছিল ‘কলটাইম’, গত সাত দিন ধরে যে সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন শিল্পীরা। ধারাবাহিক সম্প্রচারের সময়ও কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যাতে দর্শকের বিনোদনে কোনও সমস্যা না হয়। তবে এত দিন পরে চেনা শুটিং ফ্লোরে ফিরে খুশি প্রত্যেকেই। শুধু শিল্পীরা নন, এই তালিকায় রয়েছেন টেকনিশিয়ানরাও। ধারাবাহিকের ‘এগ্জ়িকিউটিভ প্রোডিউসার’ জানালেন, অনেক দিন পরে শুটিং শুরু হয়েছে। ব্যস্ততা যেমন রয়েছে, তেমনই আছে আনন্দও। নববর্ষের পরে প্রথম বার সকলের সঙ্গে দেখা হল, তাই প্রত্যেকে আরও উত্তেজিত।
অভিনেত্রী সাইনা বললেন, “এটা সত্যিই এক অন্য অনুভূতি। প্রতি দিন শুটিংয়ের অভ্যাসের মাঝে আচমকাই কিছু দিনের বিরতি। ফলে আরও ভাল লাগছে। এত দিন পরে সবার সঙ্গে দেখা হল। তাড়াতাড়ি কাজ তোলার ব্যাপার রয়েছে, ফলে ব্যস্ততাও ছিল।”
প্রসঙ্গত, ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়েছিলেন রাহুল। সেখানেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতার। এই ঘটনার ফলে প্রশ্নের মুখে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস্’। রাহুলের মৃত্যু কী ভাবে ঘটল? প্রযোজনা সংস্থার কাছে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয় আর্টিস্ট ফোরামের তরফে। যথাযথ উত্তর না মেলায়, কলকাতার ‘রিজেন্ট পার্ক’ থানায় এফআইআর করা হয় সংস্থার বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন:
সেই রাতে তালসারি থানায় প্রযোজনা সংস্থার পাঁচ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন রাহুলের স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। তার পরেই আর্টিস্ট ফোরাম দফায় দফায় বৈঠক করে। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় লীনার প্রযোজনা সংস্থা এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত কোনও সংস্থার সঙ্গে আপাতত কোনও কাজ করবেন না শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানেরা। যার ফলে লীনা-পুত্র অর্কপ্রভ গঙ্গোপাধ্যায় প্রযোজিত ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের শুটিংও বন্ধ হয়ে যায়। সেই জটই কেটেছে বৃহস্পতিবার।