Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

৩০ নভেম্বর ২০২১ ই-পেপার

বরফি প্লাস

২৭ এপ্রিল ২০১৫ ০০:০১

গভীর রাতে মাঝেমধ্যে একটা ফোন আসে। ‘‘দাদা, আ রহা হু। মাছের ঝোল ভাত খাউঙ্গা।’’
ফোনটা পেয়ে আমার মজাই লাগে। কারণ বক্তা যে আজকের বলিউডের মেগাস্টার রণবীর কপূর।
‘বরফি’ করতে গিয়ে প্রথম আলাপ। তার পর ধীরে ধীরে আমরা শুধু ভাল বন্ধুই হয়ে উঠলাম না, একটা প্রোডাকশন কোম্পানিও খুললাম দু’জনে মিলে।
এবং এই মুহূর্তে আমি আর ও ‘জগ্গা জাসুস’ বলে একটা ছবি বানাচ্ছি। যার এডিট দেখতে রণবীর মধ্যরাতে আমার অফিসে আসার আগে মাছের ঝোল ভাতের আবদার করে।
এই ক’বছরে আমাকে বহু মানুষ জিজ্ঞেস করেছে, কী এমন ম্যাজিক আছে ঋষি কপূর-নীতু সিংহের ছেলের যে, আমি ওর সঙ্গে বারবার কাজ করি।
অনেক ভেবে আমি চারটে কারণ খুঁজে পেয়েছি যা রণবীরকে ইউনিক করে তুলেছে আজকের বলিউডে।
সেগুলো কী ?
এই প্রথম বলছি একমাত্র আনন্দplus-কে...

সুইচ অন, সুইচ অফ করার রাজা
প্রায় কুড়ি বছর মুম্বইতে কাজ করছি। বহু অভিনেতাকে কাছ থেকে দেখেছি।

কিন্তু রণবীরের মতো এমন ব্রিলিয়ান্টলি সুইচ অন-সুইচ অফ করতে কাউকে দেখিনি। আমি ওকে ‘কিং অব সুইচ অন-সুইচ অফ’ বলি।

Advertisement

ও যেন কোনও ম্যাজিক জানে। ‘বরফি’র সময় দেখেছি, অসম্ভব ইমোশনাল সিনের আগে ও স্পটবয়দের সঙ্গে ব্যাট-বল পেটাচ্ছে।

আমি শটে ডাকার এক মিনিটের মধ্যে দেখেছি কী সাঙ্ঘাতিক বদলে নিয়েছে নিজেকে। আমার ধারণা, পরিচালকেরা যাঁরা এই লেখাটা পড়ছেন, তাঁরা বুঝতে পারবেন আমি কতটা ইমপ্রেসড হয়েছি বলেই একজন অভিনেতাকে এই সার্টিফিকেটটা দিচ্ছি।

অনেককেই বলতে শুনি রণবীরকে সব সময়ই ভীষণ ফ্রেশ লাগে পর্দায়। আমার ধারণা, এই সুইচ অন-সুইচ অফ করার অসম্ভব ক্ষমতাই এই ফ্রেশ লাগার পিছনের প্রধান কারণ।




অসাধারণ স্ক্রিপ্ট সেন্স
বহু অভিনেতাকে প্রচুর স্ক্রিপ্ট শুনিয়েছি, তাদের অনেককেই দেখেছি দারুণ রোল হলেও স্ক্রিপ্ট শুনে সেটা বুঝতে তাদের একটু হলেও অসুবিধা হয়। এখানে আমি রণবীরকে একশোয় একশো দেব। ওর একটা ‘আনক্যানি’ ক্ষমতা আছে, দুই কি তিন লাইন শুনেই বুঝে যাওয়ার ক্ষমতা— স্ক্রিপ্ট কী রকম হবে। আমি অন্য কারও উদাহরণ দিতে পারব না। নিজের কথাই বলছি।



‘বরফি’র স্ক্রিপ্ট নিয়ে যখন ওর কাছে যাই, আমি ওকে দু’-তিন লাইন শুনিয়েছিলাম। তার পর বলেছিলাম, স্ক্রিপ্টটা ফাইনাল করতে আমার আরও কুড়ি দিন লাগবে। সেটা শুনে ও ডিসাইড করুক, ও ছবিটা করবে কি না। কুড়ি দিন ছাড়ুন, ও কুড়ি মিনিটও দেরি করেনি! ‘বরফি’র ওয়ান লাইনার শুনেই আমাকে বলেছিল, ‘‘দাদা, আই অ্যাম অন।’’

এই যে ও নানা সাবজেক্টের ছবি করে, বারবার নিজেকে ভাঙতে পারে— সেটা সম্ভব হয় ওর এই অসাধারণ স্ক্রিপ্ট সেন্সের জন্য। এটা অভিনেতা রণবীর কপূরের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা ।

নিজেকে এবং নিজের স্টারডমকে সিরিয়াসলি না নেওয়া

পিভিআর জুহুতে নাইট শো শুরু হওয়ার আগে, আমার সঙ্গে লাইনে দেখবেন আরও একজন দাঁড়িয়ে আছে টিকিট কাটার জন্য।

সেই মানুষটার নাম রণবীর কপূর।

মুম্বইতে অনেকেই আছেন যাঁরা রণবীরের অর্ধেকও জনপ্রিয় নন, কিন্তু দেখেছি নিজের স্টারডম, নিজের স্টার ভ্যালু নিয়ে তাঁরা কী অসম্ভব পোজেসিভ। সেখানে রণবীর তাঁদের সবার থেকে আলাদা। যে কারণে ও অম্লান বদনে মাছের ঝোল-ভাত খাবে বলে আবদার করে, ঠিক সে কারণেই সিনেমা হলের টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে ও টিকিট কাটে।

সানগ্লাস পরে পালিয়ে যাওয়া, নিজেকে লুকিয়ে রাখা— এ সবের ধার ও ধারে না।

ইনফ্যাক্ট, অত বড় একজন সেলিব্রিটি যে এত নর্ম্যাল একটা জীবন যাপন করতে পারে, এটা আমি বোধহয় রণবীরকে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না।

এই যে ও অনায়াসে ‘গ্ল্যামার ট্র্যাপিংস’গুলো থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, এটা ওকে অভিনেতা হিসেবেও অনেক সমৃদ্ধ করে।




ওয়ার্ল্ড সিনেমা সম্পর্কে অগাধ পড়াশোনা, কিন্তু আঁতলামি নেই

রণবীর নিজে ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা করেছে। সময় পেলেই কোনও না কোনও ফিল্ম দেখে, সারা দিন ফিল্ম নিয়ে আলোচনা করে এবং সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট, কোথায় কী ফিল্ম হচ্ছে, সেটা ওর নখদর্পণে।

এমনকী কোন দেশে কী ছবি হচ্ছে, কেন এ রকম ছবি হচ্ছে, এই ‘ট্রেন্ড স্পটিং’-টা খুব কম অভিনেতার মধ্যে আমি দেখেছি। রণবীর সেটা অনায়াসে করতে পারে।

একজন পরিচালক হিসেবে এ রকম অভিনেতা পাওয়া সত্যি স্বপ্নের মতো। এই যে সারাক্ষণ একটা ফিল্ম নিয়ে পড়ে থাকার একাগ্রতা, এটা রণবীরের সঙ্গে থাকলে আপনার মধ্যেও ঢুকে যাবে।

এবং এটা শুধু ওকে ভাল অভিনেতা হতেই সাহায্য করে না, ওর সঙ্গে প্রোডাকশন হাউস খোলার পর বুঝেছি, ফিল্মের ব্যবসার দিকটাতেও এই অ্যানালিসিস, এই রিসার্চ সাহায্য করে খুব।

এবং ওর সবচেয়ে ভাল ব্যাপার এই জ্ঞান, ওয়ার্ল্ড সিনেমা নিয়ে এতটা পড়াশোনা, এটা কখনওই দেখবেন না ও জাহির করছে।

অনেকে অল্প কিছু ছবি দেখেই বারবার নেম-ড্রপ করে। রণবীরের সঙ্গে কথা বললে বুঝতেও পারবেন না গত সপ্তাহে কোরিয়ায় যে ছবিটা মুক্তি পেয়েছে, সেই পরিচালকের সঙ্গে কিন্তু মেল-এ ওর আলাপ-পরিচয় হয়ে গিয়েছে অলরেডি।
এটাই ‘বরফি’...

রণবীর ‘না’ বলতে জানে না

রণবীর কাউকে ‘না’ বলতে পারে না। এর জন্য অনেক সময় ও নানা অসুবিধের মধ্যেও পড়ে।
কিন্তু আজও কিছুতেই মুখের ওপর কাউকে ‘না’ বলে না। যা দেখে আমার অসম্ভব রাগ হয়।

ওর আর একটা বদভ্যেস, মনের কথা কিছুতেই কাছের মানুষকেও বুঝতে না দেওয়া।
অনেক সময় দেখেছি কোনও কারণে কারও ওপর ও বিশেষ ভাবে বিরক্ত।
শুধু বিরক্ত নয়, হয়তো অসম্ভব রেগেও আছে। কিন্তু কিছুতেই সেই মানুষটাকে
সেটা বুঝতে দেবে না বা বলবে না। রাগটা হজম করে নেবে। অনেক বার
এটা করতে বারণ করেছি ওকে। কিন্তু আজ অবধি বদলাতে পারিনি

ফুডি রণবীর

আমি ওকে ‘হাফ বাঙালি’ বলি। ফুটবল-অন্ত প্রাণ এবং মাছের ঝোল-ভাত
খেতে ভালবাসেমানে অটোম্যাটিক্যালি আপনি বাঙালি হয়ে গেলেন।
এ ছাড়া আমার কাছে খাবার নিয়ে ও আরও দু’টো আবদার করে

বাড়িতে বানানো বাঙালির রোববারের আলু-দেওয়া মাংসের ঝোল


কলকাতায় গেলে পার্ক সার্কাসের আরসালান-এর মাটন বিরিয়ানি। কোনও বার
যদি বিরিয়ানি নিয়ে যেতে ভুলে যাই, প্রচুর অভিমান ও করবেই। তাই বিরিয়ানি মাস্ট

আরও পড়ুন

Advertisement