জাঁকজমক আর সঞ্জয় লীলা ভন্সালী সমার্থক বলেই এত দিন জানত বলিউড। তবে সলমন খানের সঙ্গে ছবি করতে গিয়ে এ বার পরিধিটা খানিক ছোট করে ফেলতেই হচ্ছে পরিচালককে। প্রায় ১২ বছর পরে ‘ইনশাল্লাহ’ ছবিতে সলমন-ভন্সালী জুটি ফিরলেও তাতে বড় অঙ্কের টাকা ঢালতে রাজি করানো যাচ্ছে না মুম্বইয়ের কোনও স্টুডিয়োকেই।

‘সাওরিয়াঁ’র পরে আবার ‘ইনশাল্লাহ’তে একসঙ্গে কাজ শুরু করলেন দু’জনে। রয়েছেন আলিয়া ভট্টও। গত ২১ অগস্ট থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে শুটিং। তবে এ বার ভন্সালী নিজের ছবিতে সেই মাপের গ্র্যাঞ্জার রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সূত্রের খবর, যে পরিমাণ টাকার অঙ্ক স্টুডিয়োর কাছ থেকে দাবি করেছেন সঞ্জয়, সেই অঙ্ক দিতে নারাজ সকলেই। তাই এ বারের ছবিতে ‘পদ্মাবত’ কিংবা ‘বাজিরাও মস্তানি’র মতো ঝলমলে সেট আশা করলে হয়তো হতাশই হবেন দর্শক। ‘ইনশাল্লাহ’ অবশ্য পিরিয়ড পিস নয়। এটি আরবান লাভ স্টোরি। তাই নিজের গণ্ডিটা এ বার ছোট করে ফেলতে হয়েছে ভন্সালীকে।

প্রথমে পরিচালক নামী স্টুডিয়োগুলি থেকে যে অঙ্কটা দাবি করেছিলেন, তা প্রায় ১৮০-১৯০ কোটি টাকা। এই বাজেটের ছবি অন্তত সাড়ে তিনশো কোটির ব্যবসা না করতে পারলে লাভের মুখ দেখবে না স্টুডিয়ো। ছবিটি সলমন খানের ইদের রিলিজ় হলেও ভরসা রাখতে পারছেন না প্রযোজকেরা। কিন্তু কেন? নির্মাতারা সাধারণত কোনও স্টুডিয়োকে নিজেদের ছবি বিক্রি করলে তার মধ্যে বাজেটের সঙ্গে নিজেদের পারিশ্রমিক ও ল্যান্ডিং কস্ট ধরা থাকে। এর পরে ছবিটা তেমন ব্যবসা না করতে পারলেও নির্মাতাদের খুব একটা লোকসান হয় না, যতটা হয় সেই স্টুডিয়োর। তাই এ বার আর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কেউই। এও শোনা যাচ্ছে, বেগতিক দেখলে ভন্সালী নিজের ও ভাইজানের যৌথ প্রযোজনাতেও ভরসা রাখতে পারেন।

তবে খোঁজ এখনও চলছে। আর গোটা ব্যাপারটা নিয়ে সলমন নিজেও নাকি মনমরা। এমনিতেই তাঁর ‘ভারত’ আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেনি। তার উপরে ভন্সালীর বাকি ছবিগুলোর মতো ‘ইনশাল্লাহ’-য় থাকছে না রাজকীয় সেট। বেশির ভাগ শুটিংই হবে হরিদ্বার, বারাণসী, মুম্বইয়ের মতো লোকেশনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোতেও হবে শুটিং। সলমনের পাশাপাশি আলিয়া আর এক হেভিওয়েট তারকা এই ছবিতে। তা সত্ত্বেও বাজেট কমিয়ে ফেলতে হচ্ছে, যা কারও পক্ষেই সুখকর নয়। ইদানীং এ নিয়ে প্রায়ই মিটিংয়ে বসছেন ভন্সালী ও সলমন। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।