বড় ঘোষণা করেছেন অরিজিৎ সিংহ। ছবির গান তিনি আর গাইবেন না। ঘোষণায় মন ভেঙেছে শিল্পীর অনুরাগীদের। কিন্তু এই ঘোষণা আকস্মিক নয়। এর আগেও বহু সাক্ষাৎকারে অরিজিৎ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, খ্যাতির মাঝে তিনি ক্রমশ নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন। এমনকি, এ-ও জানিয়েছিলেন, এই ইন্ডাস্ট্রির পারিশ্রমিক দেওয়া-নেওয়ার পদ্ধতি এক শিল্পীকে শেষ করে ফেলতে পারে।
২০২৩ সালের এক সাক্ষাৎকারে অরিজিৎ বলেছিলেন, তিনি নিজের নামটার সঙ্গেই আর যোগ খুঁজে পান না। নিজের নাম শুনলে কিছুটা বিরক্তও হন। শুরুর দিকে ভক্তেরা যখন তাঁর নাম বলতেন, আনন্দ হত। কিন্তু যত দিন গিয়েছে, তত নিজের নামের সঙ্গেই দূরত্ব তৈরি হয়েছে। অরিজিৎ বলেছিলেন। “আমি বুঝতে পেরেছি, ‘অরিজিৎ সিংহ’ এই নামটা আর আমি নই। আমার সম্পর্কে মানুষের যে ধারণা তৈরি হয়েছে, সেটাই এখন এই নামটা হয়ে উঠেছে।”
নিজের নাম শুনে এতই বিরক্ত হতেন যে পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুবান্ধব কেউই তাঁকে এই নামে ডাকতেন না। গায়ক বলেছেন, “এখন বাড়িতে বা কাজের জায়গায় কেউই আমাকে এই নামে ডাকেন না। নামটা একটা রসিকতা হয়ে গিয়েছে। এই নাম শুনলেই বিরক্ত লাগে। একটা সময় ছিল, নিজের গান শুনলে নিজেই বিরক্ত হতাম। এখন বিরক্ত হই না, শুধু এড়িয়ে যাই।”
আরও পড়ুন:
একটা সময় ছিল, যখন স্থির করে নিয়েছিলেন আর নিজের গান শুনবেন না। অরিজিৎ বলেছিলেন, “নিয়মই ছিল, বাড়িতে আমি থাকলে কেউ যেন আমার গান না চালায়। তার পর ধীরে ধীরে বিষয়টায় আমি খানিক হালকা হই।”
শিল্পীদের যোগ্যতার থেকে কম পারিশ্রমিক দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছিলেন অরিজিৎ। তাঁর কথায়, “একজন শিল্পী কখনওই ব্যবসায়ীদের মতো বাস্তববাদী হতে পারেন না। কিন্তু শিল্পীদের উপরেই নির্ভর করে ব্যবসা। শিল্পীদের সঠিক ও ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত অথবা কোনও কাজই করানো উচিত নয়। এমন বহু মানুষ রয়েছেন যাঁরা সঠিক পারিশ্রমিক পান না।” এই পরিবেশ একজন শিল্পীকে ধ্বংস করতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন অরিজিৎ।