এত অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। তবু অবিচল বাংলাদেশের গায়ক মইনুল আহসান নোবেল! মঙ্গলবার রাতে জামিন পেয়ে প্রকাশ্যে বললেন, “মানুষমাত্রেই ভুল হয়। এ বার হয়েছে। আবার একবার হতে পারে!”
নোবেলের বিরুদ্ধে একাধিক বার নারীঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। খবর, সোমবার তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে এক মহিলাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার আপসের শর্তে জামিন পান তিনি। আদালত চত্বরেই এর পর সাংবাদিকেরা জানতে চান, গায়ক কি অনুশোচনায় ভুগছেন? তখনই তিনি জানান, মানুষই ভুল করে। তিনিও মানুষ। এ-ও জানাতে দ্বিধা করেননি, আগামী দিনেও এ রকম ভুল তিনি করতে পারেন! ক্ষমা চান অনুরাগী-শ্রোতাদের থেকে। বলেন, “আমার সব দর্শক–শ্রোতা আমাকে ভাল করে বোঝেন। আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।”
আদালত চত্বরেই তাঁর কাছে গান শোনানোর অনুরোধ আসে। দরাজ কণ্ঠে নোবেল গেয়ে ওঠেন ‘মেহেরবান’।
যদিও এ দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে নোবেলের শুরুর কথাবার্তা বিশেষ মধুর ছিল না। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। তবে তার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। সেই ভিডিয়ো অনুযায়ী, আদালতে হাজিরার বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম তাঁকে প্রশ্ন করে, “আর ক’টি বিয়ে করবেন নোবেল? আগের স্ত্রীদের কি বিচ্ছেদ দেবেন? নাকি সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে সংসার করবেন?” শুরুতে চুপ থাকলেও পরে নোবেল সাংবাদিককের উদ্দেশে কিছু অশালীন মন্তব্য করেন। অভিযুক্ত গায়কের মহিলা আইনজীবী যদিও সেই উত্তর শুনে হেসে ফেলেন, এমনই দেখা গিয়েছে ভিডিয়োয়।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকা থেকে সোমবার দুপুরে নোবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ অগস্ট এক মহিলা গায়কের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা করেন। বিয়ের কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ জানানো হয় মামলায়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।
তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে রিপোর্ট দাখিল করলে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আদালত নোবেল-সহ চার জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এই মামলায় যুক্ত অন্য আসামিরা হলেন নোবেলের স্ত্রী ইসরাত জাহান (প্রিয়া), গায়কের মা নাজমা হোসেন ও গায়কের সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক। বাকিরা জামিন পেয়েছেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি।