Advertisement
E-Paper

‘জ়োহরান মামদানিকে আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই’! রাজ্যে আর কী বদল দেখতে চান পরিচালক কিউ?

তাঁরাও ভোটার। তবে তাঁদের ভাবনা-চিন্তা অনেককে দিশা দেখায়। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মরসুমে তেমনই কয়েক জন তারকা ভোটারের কাছে ১৩টি প্রশ্ন নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। এ দফায় উত্তর দিলেন পরিচালক কৌশিক মুখোপাধ্যায় ওরফে কিউ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৪
ভোট নিয়ে পরিচালক কিউয়ের মতামত।

ভোট নিয়ে পরিচালক কিউয়ের মতামত। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?

কিউ: এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমার জ়োহরান মামদানিকে আদর্শ রাজনীতিবিদ বলে মনে হচ্ছে। সেই রকম যদি কাউকে পাওয়া যায়, তা হলে আমাদের এখানে খুব ভাল হয়। তরুণ নেতারা আস্তে আস্তে তৈরি হচ্ছেন।

২. দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে?

কিউ: আদর্শ আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নীতিগত দিক থেকে আমি একমত সেই অনুভূতিটা কাজ না করলে অসুবিধা। তাই আমি দল হিসাবেই ভোট দেব।

৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?

কিউ: যে কোনও চাকরি পাওয়ার জন্য পরীক্ষা দিতে হয়। ভাল গণতন্ত্রে তর্ক-বিতর্ক হয়। আমাদের এখানেও হত একটা সময়ে। এই ইতিহাস রয়েছে। প্রার্থী নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই একটা বাছাই প্রক্রিয়া থাকা উচিত। দল ঠিক করল বলেই একজন প্রার্থী হলেন। সেটা যদি হয়ও, তা হলে সেই ব্যক্তিকে কিছু প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাওয়া উচিত। আর জেতার পরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে একটা সমস্যাও হতে পারে। ধরে নেওয়া যাক, প্রশিক্ষণ দেওয়া হল। কিন্তু পারলেন না। সে ক্ষেত্রে তো তাঁকে সেই পাঁচ বছর রেখে দিতে হবে বিধায়ক হিসাবে। তাই যদি আর একটা অন্য রাস্তা থাকে, সেটা ভাল বলে মনে হয় আমার। যেমন ফ্রান্স, ইংল্যান্ড-সহ অনেক দেশে আছে ‘শ্যাডো মিনিস্ট্রি’। নির্বাচিত ব্যক্তি যদি না পারেন, তা হলে সেই ‘শ্যাডো মিনিস্ট্রি’-র কেউ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবেন। যদিও এই নিয়ম তৈরি করা কঠিন।

৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?

কিউ: এই সময়ে দাঁড়িয়ে এ দেশে বিধায়ক হওয়ার কোনও মানে আছে বলে আমার মনে হয় না। দেশের ব্যবস্থাপনা যেমন সেখানে সাধারণ মানুষ লড়াই করে পদ পেয়েছে, তেমন উদাহরণ আছে বলে আমার মনে হয় না।

৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?

কিউ: আমার একেবারেই তা মনে হয় না। তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল সাধারণ মানুষের চাকরি পাওয়া। সাধারণ চাহিদা যেমন চাকরি, স্বাস্থ্য এই বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিনোদনজগৎ তো অনেক পরে আসে। খেতে পাচ্ছি না, সেখানে সিনেমা কী করে দেখতে যাব?

৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?

কিউ: আমাদের দেশটা খুব আজব দেশ। এখানে সাধারণ মানুষের ধারণা, উচ্চপদে যে ব্যক্তি আছেন, সেই মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত। সেটা যে খুব ভুল ধারণা, সেটাও তো বলা যায় না। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি আসবে, তা ভাবতেও পারি না। এটার জন্য আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।

৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?

কিউ: এ ক্ষেত্রে বড় সাংবিধানিক পরিবর্তন প্রয়োজন। যে নিয়মে বলা হবে, দলবদল করতে চাইলে করা যাবে, কিন্তু সেই ব্যক্তিকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে হবে। অন্য দলে যুক্ত হওয়ার পরে আবার ‘গ্রাসরুট’ থেকে কাজ করতে হবে। সরাসরি মন্ত্রী হওয়া যাবে না। ধাপে ধাপে উঠতে হবে।

৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?

কিউ: এটা তো এখন ‘ডাব্লুডাব্লুই’-এর মতো হয়ে গিয়েছে, বা বক্সিং রিং-এর মতো হয়ে গিয়েছে। এই ব্যাপারটা একটা সার্কাসের মতো। এটা যত সোজাসুজি হয়, তত বোঝা যায় মানুষটা কেমন। যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখে সবাই বুঝতে পারছেন, মানুষটা কেমন। করোনা পরিস্থিতির পরে আমার মনে হয় যে, লজ্জার নিবারণ শাস্ত্রীয় মতে চলছিল, সেই ঘোমটা খুলে গিয়েছে। একপ্রকার উপকারই হচ্ছে তাতে।

৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

কিউ: সমান অধিকার বললে আদর্শ উত্তর হবে। উন্নয়নের টিকিটে আমরা অনেক দিনই ভোট দিচ্ছি। তাতে কিছুই হয়নি।

১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?

কিউ: আমাদের দেশের কাঠামো তৈরি হয় ভর্তুকি দিয়ে। অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে উন্নত করার রাস্তা হল ভর্তুকি। মাঝে ভাতার রাজনীতি ছিল না। আবার কেন আমরা ফিরে গেলাম সেখানে, সেটা রাজনীতিকদের আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে।

১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?

কিউ: বিরোধীশূন্য বলব না। বলা যেতে পারে, বহুদলীয় গণতন্ত্র থেকে এখন আমরা একনায়কতন্ত্রে চলে আসছি। আমাদের মতো দেশে এটা খুবই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?

কিউ: হ্যাঁ, সেটা তো আমাদের দেশে চিরকাল হয়ে এসেছে। দক্ষিণ ভারতের তাবড় তাবড় অভিনেতারা রাজনীতিক। এটা কোনও চাপের ব্যাপার নয়। রাজনীতি তো অনেকটাই অভিনয়।

১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?

কিউ: এই মুহূর্তে জ়োহরান মামদানি। আর একজনও আছেন। আফ্রিকার একটি দেশের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে।

Qaushiq Mukherjee Celebrity Interview Assembly Election
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy