২০২৫ সালের ১২ জুন আচমকাই এসেছিল খবর। শুক্রবার শিল্পপতি সঞ্জয় কপূরের মৃত্যুর এক বছর কাটল। প্রাক্তন স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে যেন একেবারে চুপ করে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী করিশ্মা কপূর। সঞ্জয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগপ্রবণ অভিনেত্রী।
করিশ্মা যে অনেক কিছু লিখেছেন, তা নয়। অভিনেত্রী নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, “১২/৬/২০২৫। সঞ্জয় আমাদের হৃদয়ে চিরকাল থাকবেন।” সঙ্গে ছিল কয়েকটা স্টিকার।
করিশ্মার আবেগঘন পোস্ট। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
অন্যদিকে, সঞ্জয়ের বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া সচদেব কপূরও স্বামীর স্মৃতিতে একটি আবেগঘন বার্তা ভাগ করে নেন। তিনি লেখেন, “তুমি আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার এক বছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রতি দিনই তোমার উপস্থিতি অনুভব করতে পারি। তুমি কখনও স্থির হয়ে বসে থাকার মানুষ ছিলে না। জীবনের প্রতি তোমার উদ্দীপনা, কৌতূহল ও দৃঢ় বিশ্বাস আশপাশের মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখতে, আরও কঠোর পরিশ্রম করতে এবং নিজেদের সেরাটা দিতে অনুপ্রাণিত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “তুমি যে মূল্যবোধে বিশ্বাস করতে, এবং যে ভালবাসা নিঃস্বার্থ ভাবে বিলিয়ে গিয়েছ, তার মধ্যেই তুমি আজও বেঁচে আছ। তোমার ভালবাসাই আমাদের শক্তি, আর তোমার স্মৃতিই আমাদের আশীর্বাদ।”
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, সঞ্জয়ের মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের মধ্যে আইনি বিরোধ চলছে। এই বিরোধে জড়িয়েছেন তাঁর সন্তানেরা, স্ত্রী প্রিয়া, শিল্পপতির মা রানি কপূর এবং পরিবারের অন্য সদস্যরাও।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১২ জুন ইংল্যান্ডে পোলো খেলতে গিয়ে সঞ্জয়ের আকস্মিক মৃত্যু হয়। জানা যায়, খেলার সময় তিনি একটি মৌমাছি গিলে ফেলেছিলেন এবং পরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন:
২০০৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর শিখ রীতিতে করিশ্মা ও সঞ্জয়ের বিয়ে হয়। তবে বৈবাহিক জীবনের দীর্ঘ টানাপড়েনের পরে ২০১৪ সালে তাঁরা পারস্পরিক সম্মতিতে বিচ্ছেদের আবেদন করেন এবং ২০১৬ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।
বিবাহবিচ্ছেদের আগে করিশ্মা,তাঁর স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। করিশ্মা ও সঞ্জয়ের দুই সন্তান—কন্যা সামাইরা এবং পুত্র কিয়ান। সঞ্জয়ের শেষকৃত্যে দিল্লিতে সন্তানদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন করিশ্মা। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বোন করিনা কপূর খান এবং ভগ্নিপতি সইফ আলি খানও।