টলিউডের অভ্যন্তরীণ সমস্যা আবার প্রকাশ্যে। সহকারী রূপসজ্জাশিল্পী সিমরন পালের অভিযোগ, গত দু’বছর ধরে তাঁর হাতে কোনও কাজ নেই। আনন্দবাজার ডট কম-কে মেকআপ গিল্ডের সদস্যা সিমরন জানিয়েছেন, গিল্ডের সম্পাদক বাপি মালাকারকে একাধিক বার জানিয়েও ফল হয়নি। বাধ্য হয়ে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে চিঠি লিখে তিনি জানান বিষয়টি।
এর পরেই সিমরনের বিস্ফোরক অভিযোগ, ফেডারেশন সভাপতিকে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর থেকেই খুনের হুমকি পাচ্ছেন তিনি! বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে ১০ এপ্রিল গল্ফ গ্রিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রূপসজ্জাশিল্পী।
এখানেই শেষ নয়। কোথাও কোনও সমাধানের রাস্তা না পেয়ে সিমরন অতি সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ভাগ করে নেন। সেখানে তাঁর কর্মহীনতা থেকে প্রাণসংশয়— সবটাই জানিয়েছেন। শনিবার বিষয়টি নজরে আসে অভিনেতা-সাংসদ দেবের। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেটি ভাগ করে নেন নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায়। একই সঙ্গে তাঁর তরফ থেকে কাজ দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয় সিমরনকে।
গত দু’বছর ধরে কেন কাজ নেই সিমরনের? সবিস্তার জানতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল তাঁর সঙ্গে। সিমরন বলেন, “কেন কাজ পাচ্ছি না, তার কোনও সদুত্তর পাইনি। কানাঘুষো শুনেছি, আমি নাকি কাজের সময় মুঠোফোনে ব্যস্ত থাকি। তাতে আমাদের মাথার উপরে যিনি থাকেন, তিনি বিরক্ত। তাই আমায় কাজ দেওয়া হচ্ছে না।” এ প্রসঙ্গে তাঁর পাল্টা যুক্তি, তিনি তরুণী নন যে সারা ক্ষণ মুঠোফোনে ব্যস্ত থাকবেন! তিনি এও দাবি করেছেন, “আমাকে অনেক বার আভাসে বলা হয়েছে, কাজ পেতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ‘প্রিয়’ হতে হবে। সেটা হতে না পারলে কাজ মিলবে না।” গিল্ডের সম্পাদক বাপিরও কি একই বক্তব্য? সিমরনের অভিযোগ, “বাপিদাও সে রকমই বুঝিয়েছেন। কাজ পেতে গেলে ‘বস’-এর পছন্দের মানুষ হতে হবে। কিন্তু তার জন্য কী করতে হবে, সেটা তো জানা নেই!”
বাধ্য হয়ে মার্চের শেষে স্বরূপকে চিঠি লেখেন সিমরন। জানান, গত দু’বছর ধরে কোনও কাজ না পাওয়ায় সঞ্চিত অর্থ শেষ। তিনি ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। তাঁর প্রয়াত স্বামী বৈদ্যুতিক কাজকর্মের ঠিকাদারের কাজ করতেন। তাঁদের দুই বিবাহিত কন্যাসন্তান। সিমরনের বাবা যত দিন বেঁচেছিলেন, তিনি কখনও বাড়ি ভাড়া, কখনও খাবারের জোগান দিয়ে সহযোগিতা করতেন মেয়েকে। তিনিও মারা গিয়েছেন গত ডিসেম্বর মাসে।
এ দিকে বাগুইআটির বাসিন্দা সিমরন যাতায়াতের সুবিধার জন্য লালকুঠি অঞ্চলে বাড়িভাড়া নিয়েছিলেন। সেই ভাড়াও গুনতে হয় তাঁকে। লিখিত অভিযোগ জানানোয় তিনি যে খুনের হুমকি পাবেন, সে কথা ভাবনাতেও আসেনি রূপসজ্জাশিল্পীর। সিমরনের আক্ষেপ, “বাড়িতে দরজা-জানালা বন্ধ করে বসে আছি। বাড়ি এসে হুমকি দিয়ে গিয়েছে!”
২৬টি গিল্ডের মাথা ফেডারেশন। সেই সংগঠনের সভাপতি স্বরূপ। তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ জানালে খুনের হুমকি পেতে হবে সদস্যকর্মীকে! এটা কি কাম্য? প্রশ্নের জবাবে স্বরূপ বলেন, “সিমরন থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। প্রশাসন নিশ্চয়ই পদক্ষেপ করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফেডারেশন অভিযুক্তকে কড়া শাস্তি দেবে।” সিমরনের জন্য আপাতত কী ভাবছে ফেডারেশন? কেন ফেডারেশন সভাপতিকে চিঠি লেখার পরেও কোনও পদক্ষেপ করল না সংগঠন? সভাপতির ব্যাখ্যা, “আমরা আজ সকালে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমাদের ‘সুরক্ষা বন্ধু’র তরফ থেকে রূপসজ্জাশিল্পী মুনমুন, জয়শ্রী ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে না দেখে কিছু বলা সম্ভব নয়।”
সদুত্তর পেতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় মেকআপ গিল্ডের সম্পাদক বাপির সঙ্গেও। তিনি ফোনে সাড়া দেননি। সহ-সম্পাদক অনুপ জানার মতে, এ বিষয়ে একমাত্র কথা বলতে পারেন গিল্ডের সম্পাদকই।
সিমরনের ভিডিয়ো দেখে তাঁকে কাজ দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন যিনি, সেই দেব কী বলছেন? অভিযোগ, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এ রকম বহু কলাকুশলী কর্মহীন হয়ে বসে। দেব কত জনকে কাজ দেবেন? ফেডারেশন থাকতে তাঁকেই বা কাজ দিতে হবে কেন? জবাবে দেব বলেছেন, “আমারও একই প্রশ্ন। এ ভাবে জনে জনে কাজ দেওয়া আমি কেন, কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।”
এই জায়গা থেকে দেবের বক্তব্য, “আমরা কাজ আনতে পারি। প্রযোজক আনতে পারি। তাতে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ বাড়বে। ফেডারেশন সভাপতির কাছে আমার অনুরোধ, আমাদের আনা কাজ নিয়মের অজুহাতে বানচাল করে দেবেন না। ‘ব্যান সংস্কৃতি’, কাজ বন্ধ করে দেওয়া— লাগাতার চলতে থাকলে ইন্ডাস্ট্রি শেষ হয়ে যাবে।”
অভিনেতা-সাংসদের স্বরূপকে বার্তা, “কাজ দিতে না পারেন, কাজ নষ্ট করে দেবেন না।”