শুরুটা করেছিলে ‘চ্যাম্প’ দিয়ে। রোল চেঞ্জ করেছিলেন তিনি। সুপারস্টার ইমেজের পাশাপাশি নতুন দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন কাঁধে। তিনি অর্থাত্ দেব। নিজের প্রযোজনায় সেটাই ছিল প্রথম ছবি। যদিও দেব নিজে বলেন, ‘‘আমার প্রথম ছবি ধূমকেতু। ওটা এখনও রিলিজ হল না বলে আমার খারাপ লাগে।’’

‘চ্যাম্প’ থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন একটা রেওয়াজ শুরু করেছেন দেব। প্রোমোশনের ভোল বদল। পর পর ‘ককপিট’, ‘কবীর’-এও সে রেওয়াজ বজায় ছিল। তবে এখনও পর্যন্ত প্রোমোশনের সব হিসেবকে বোধহয় ছাপিয়ে গেল অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় দেবের আসন্ন ছবি ‘হইচই আনলিমিটেড’।

ফ্ল্যাশ মবের (যে কোনও জনবহুল জায়গায় কমপক্ষে ১০জন লোক একসঙ্গে হঠাত্ যদি এমন কোনও কাজ শুরু করেন, যা বাকিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, তাকেই ফ্ল্যাশ মব বলে। মূলত বিনোদনমূলক কাজেই এই পদ্ধতি ব্যবহার হয়) মাধ্যমে এ ছবির গান রিলিজ করেছেন দেব। করেছেন ঘূড়ি উত্সব। কিন্তু দিন কয়েক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাত্ই ভাইরাল হয় একটি ভিডিও। রাগে উন্মত্ত হয়ে এক যুবককে এলোপাথাড়ি মারছেন দেব! হু হু করে ছড়িয়ে যায় সেই ক্লিপিং। নেগেটিভ কমেন্টে ভরে যায় সোশ্যাল ওয়াল। তবে তার মধ্যেও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছিলেন, এ কি প্রোমোশনের ভিডিও?

আরও পড়ুন, ‘অন্য হিরোরাও তো প্রোডিউসার হয়েছেন, ডিফারেন্স দেখতে পাচ্ছেন?’ বলছেন দেব

সেই ধারণাই সত্যি হল। নিজের রেস্তোরাঁয় এক পাশে পরিচালক, আর এক পাশে সহ প্রযোজক রুক্মিণী মৈত্রকে নিয়ে বসে দেব বলেন, ‘‘এখন তো দুনিয়া হাতের মুঠোয়। মোবাইলে সব পেয়ে যাই আমরা। কিন্তু এই ভিডিওটা শুট করে আমরা এই মেসেজটা দিতে চেয়েছিলাম যা পাচ্ছি সোশ্যাল মিডিয়ায় তা একটু যাচাই করে নেওয়া ভাল। একজন অভিনেতা এবং সাংসদ হিসেবে মানুষকে শিক্ষিত করে তোলাও তো আমার দায়িত্ব।’’

অর্থাত্ প্রোমোশনের ময়দানে ফের ছক্কা হাঁকিয়েছেন দেব। আসল সত্যিটা কী, জানার আগেই বহু মানুষ তাঁকে ভুল বুঝেছেন। তবে তাতে একটুও রাগ না করে সোশ্যাল মিডিয়ার খারাপ দিকটা পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা।

এতেই শেষ নয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাত্ই নিজের টিম নিয়ে লালবাজারে পৌঁছে গিয়েছিলেন দেব। ‘হইচই’-এর প্রোমোশন তো ছিলই। পাশাপাশি সামাজিক বার্তাও দিয়েছেন অভিনেতা। কলকাতা পুলিশের পুজো গাইড ম্যাপ এবং ‘উৎসব’ অ্যাপ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে দেব বলেন, ‘‘আমি কলকাতা পুলিশের সেফ ড্রাইভ সেফ লাইফের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। কোনও ছবিতেই বাইক চালানোর সঙ্গে খালি মাথায় থাকি না। হেলমেট পরে বাইক চালাই। খালি মাথায় বাইক চালানোতে কোনও হিরোগিরি নেই। ট্রাফিক আইন মেনে হেলমেট পরে যারা বাইক চালায় তারাই আসল হিরো।’’

প্রোমোশনের নিত্য নতুন পদ্ধতি দেখে আনন্দবাজার ডিজিটালেক তরফে দেবের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কি এমবিএ পাশ আউট? মার্কেটিংটা এত ভাল কী করে বোঝেন? হাসতে হাসতে অভিনেতা উত্তর দেন, ‘‘না। দেব এমবিএ করেনি। তবে দেব এটা জানে, প্রত্যেকটা ছবির কনটেন্ট যেমন আলাদা, তার প্রোমোশনও আলাদা হওয়া উচিত। গল্প তো আলাদা হয়, তা হলে প্রোমোশন এক করব কেন? এটা নিয়ে এক সময় প্রচুর তর্ক হত আমার অন্য প্রোডিউসারদের সঙ্গে। যখন আমার কোনও ছবি রিলিজ হত, আমি বলতাম ওই একই জিনিস তো করছি। মিডিয়াও এক রকমের প্রশ্ন করত। ফানি ইনসিডেন্টগুলো কী, ভাল মুহূর্তগুলো কী, কমন কোয়েশ্চেন। আমার মনে হত, এখান থেকে না বেরলে কিছু হবে না। যখনই কিছু করতে যেতাম বাধা আসত। প্রবাবলি সেটার জন্যই হয়তো নিজের প্রোডাকশন হাউজ খুলেছি। এটাই বোঝাতে চাইছিলাম, এক তো কনটেন্ট, আর প্রোমোশনও আলাদা হওয়া উচিত। এখন আমি দেখতেও পাচ্ছি, অন্যরাও পাল্লা দিয়ে অন্য রকম প্রোমোশন করছে। দেখে ভাল লাগছে।’’

আরও পড়ুন, দেবী-র মিসির আলি চ্যালেঞ্জিং চরিত্র, বললেন চঞ্চল

চাইলেই এ কৃতিত্ব একা উপভোগ করতে পারতেন দেব। কিন্তু দিনের শেষে কোথাও তিনি টিম ম্যান। তার প্রমাণ পাওয়া গেল তাঁর কথায়। ডিফারেন্ট আইডিয়া কার ব্রেনচাইল্ড, জানতে চাইলে দেব শেয়ার করেন, ‘‘আই থিঙ্ক ইটস আ টিম ওয়ার্ক। সি, আই অ্যাম দ্য ডিসিশন মেকার। বাট আই ওনলি কান্ট টেক দ্য ক্রেডিট। আমার আইডিয়া এলেও সেটা এগজিকিউট করতে যে লোকগুলোকে লাগবে তারাই আমার টিম। আমার টিম দারুণ। যাদের ওপর আমি চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারি।’’

‘হইচই আনলিমিটেড’-এ নতুন কিছু নিয়ে পুজোর বক্স অফিসে আসছেন দেব। অন্তত তেমনটাই দাবি তাঁর। আপনি তৈরি তো?  

(হলিউড, বলিউড বা টলিউড - টিনসেল টাউনের টাটকা বাংলা খবর পড়তে চোখ রাখুন আমাদের বিনোদনের সব খবর বিভাগে।)