Advertisement
E-Paper

কেউ চান মামলা থেকে রেহাই, কারও স্বপ্ন স্বচ্ছ টলিউড! বিজেপির থেকে কী চান ‘প্রাক্তনী’রা?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে পদ্মশিবির বাংলার শাসনভার গ্রহণ করতে চলেছে। একদা এই শিবিরে ছিলেন যে সব টলিউড অভিনেতা, তাঁরা কি আফসোসে ভুগছেন?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ০৯:৫৯
পদ্মবনে এঁরাও ফুল হয়ে ফুটতে পারতেন!

পদ্মবনে এঁরাও ফুল হয়ে ফুটতে পারতেন! ছবি: সংগৃহীত।

এ বছর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। কবির এ বারের জন্মদিন ভিন্ন কারণে স্মরণীয়। এই দিন বাংলার মসনদে বসছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের রাশ বিজেপির হাতে। এ দিন শপথ নেবেন মুখ্যমন্ত্রীর নতুন মন্ত্রীরাও।

বঙ্গে পদ্মফুল ফুটবে, নির্বাচনের আগেই অনেকে নাকি আভাস পেয়েছিলেন। বাংলার যে সব অভিনেতা একদা গেরুয়া রঙে রাঙিয়েছিলেন নিজেদের, তাঁরা কি হাত কামড়াচ্ছেন? দল সুযোগ দিলে তাঁদের ‘ঘর ওয়াপসি’ কি সময়ের অপেক্ষা? আনন্দবাজার ডট কম প্রশ্ন করেছিল পার্নো মিত্র, তনুশ্রী চক্রবর্তী, কাঞ্চনা মৈত্র, অনিন্দ্যপুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপা ভট্টাচার্যকে।

ডক্যু ছবি ‘স্পিরিট অফ দ্য ওয়াইল্ড লাইফ’ দিয়ে প্রযোজনার দুনিয়ায় পা রেখেছেন পার্নো। তিনি সহকারী প্রযোজক। তাঁর ছবি কান চলচ্চিত্র উৎসবে যাচ্ছে। পার্নো আপাতত ব্যাগ গোছাতে ব্যস্ত। তাই এই প্রসঙ্গে কিছুই বলতে চাননি তিনি।

বাকিরা রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা এককথায় নাকচ করে দিয়েছেন। উড়িয়ে দিয়েছেন মনোকষ্টে ভোগার সম্ভাবনাও। তনুশ্রী সুদূর আটলান্টা থেকে বলেছেন, “আমার সঙ্গে দলের কোনও দিন বিরোধ বাধেনি। আমি দল ছেড়ে দিয়েছি রাজনীতি আমার জন্য নয় বলে। একই সঙ্গে এই বিষয়ে আমার জ্ঞান সীমিত।” তাই দল ছাড়ার জন্য কোনও আক্ষেপ নেই তাঁর মনে। বরং তনুশ্রী খুব খুশি। জানিয়েছেন, দীর্ঘ অত্যাচার সহ্যের পর অবশেষে বঙ্গবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে।

কাঞ্চনার দাবি, “তৃণমূল করতাম না বলে টলিউডে আমায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কাজ পাচ্ছিলাম না। অথচ সংসার চালাতে হবে। বাড়িতে বৃদ্ধা মা। সংসারের মুখ চেয়ে দল ছেড়েছি।” প্রায় একই সুর রূপা এবং অনিন্দ্যপুলকেরও। ওঁরা কাজ পাচ্ছিলেন না। রাজনৈতিক আদর্শে মিলছিল না। ফলে, তাঁরা যোগ দিয়েছিলেন পদ্মশিবিরে।

অনিন্দ্যপুলক যেমন জানালেন, তাঁর বাড়ি গোঁড়া বামপন্থী। “বাবার কাছে বামপন্থার পাঠ পড়া। আদর্শে না মেলায় বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলাম। পরে বেরিয়ে আসি।” আফসোস যেমন নেই তাঁর, তেমনি দলে ফেরার ভাবনাও নেই। অনিন্দ্যপুলকের যুক্তি, “রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, শর্বরী মুখোপাধ্যায়েরা তো আছেনই। কোনও সমস্যা হলে ওঁদের সঙ্গে কথা বলব। সকলেই সেই ছাড়পত্র দিয়ে রেখেছেন।” রূপার দাবি, “যে কারণে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলাম, সেই কারণটাই তো আর নেই! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল সরে গিয়েছেন। বঙ্গে বিজেপি। আবার কেন দলে যোগ দিতে যাব?” তাই আপাতত রাজনীতিতে ফেরার ভাবনা সরিয়েই রেখেছেন তিনি।

এখন দলে না থাকলেও একসময় তো ছিলেন। পরিচিতি সেই মানুষগুলোর কাছে কিছু চাওয়ার আছে?

কাঞ্চনার কথায়, “ধর্ষণ, গুণ্ডাগিরি, রাহাজানি-সহ ১৯টি মামলা তৃণমূল আমার বিরুদ্ধে করেছিল। একটা সময় রোজ ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজিরা দিতে হত। সেই মামলাগুলোর থেকে রেহাই মিললে স্বস্তিতে বাঁচি।” মাছ-মাংস খেতে চান না? সাফ বললেন, “কথাগুলো ভীষণ বোকা বোকা শুনিয়েছে। চাইলে এত ছোটখাটো কিছু চাইব কেন? বাংলার সামগ্রিক উন্নয়ন চাইব। আশা, দল সেটা দেবেও।” তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। “রাতারাতি ম্যাজিক হয়ে যাবে, এটা কেউ আশা করবেন না।”

রূপা এবং অনিন্দ্যপুলক টলিউডের উন্নয়ন চান। সবাই যেন কাজ পান, এমনটাই দেখতে চান তাঁরা। সেই সঙ্গে অনিন্দ্যপুলকের বাড়তি চাওয়া, “একটা ইনস্টিটিউট খোলা হোক। যেখানে চিত্রনাট্য, গ্রাফিক্স-সহ সমস্তটা শেখানো হবে। সেখানে লেখাপড়া শিখে সবাই যখন টলিউডে পা রাখবেন, তখন ইন্ডাস্ট্রির চেহারাই বদলে যাবে।”

subhendu adhikari Tonushree Chakraborty Parno Mittra Kanchana Moitra Anindya Pulak Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy