প্র: হিন্দিতে কতটা সহজ আপনি? 

উ: অনেকটাই। আমি সংলাপ আর সিনগুলো হিন্দিতে পড়ি। আর স্ক্রিপ্ট পড়ি ইংরেজিতে। নয়তো অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে সমস্যা হয়।

প্র: ‘বাহুবলী’র সাফল্যের পর কি ‘সাহো’র জন্য চাপ অনুভব করছেন? 

উ: চাপ নিশ্চয়ই আছে। মিক্সড ফিলিংস বলতে পারেন। দুটো ছবির কোনও ভাবেই তুলনা হওয়া উচিত নয়। ‘বাহুবলী’ ইতিমধ্যেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এমনকি, ভারতবর্ষের বাইরেও। আমি যখন কোনও ছবি বাছি, তখন প্রথমেই দেখি ছবির গল্পের সঙ্গে দর্শক কতটা কানেক্ট করতে পারবেন। সেই সঙ্গে ছবিটা ভরপুর বিনোদন জোগাতে পারবে কি না, সেটাও খেয়াল রাখি। ‘সাহো’র ট্রেলার আর গান দর্শক পছন্দ করেছেন এর মধ্যেই। অনেক ভাষাতে বানানোও হয়েছে ছবিটা।

প্র: ‘বাহুবলী’র পরে জীবন কতটা বদলেছে? 

উ: অনেকটাই। এখন জীবনকে আগের চেয়ে অনেক বেশি উপভোগ করি। কোনও দিন ভাবিনি যে, ‘বাহুবলী’ এত বড় হিট হবে। এখনও পুরোপুরি বিশ্বাস হয় না ব্যাপারটা!

প্র: খ্যাতি, জনপ্রিয়তা সামলান কী করে?

উ: আমি এমনিতে প্রাইভেট পার্সন। কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং পরিবারের সঙ্গেই বেশির ভাগ সময় কাটাই। আর খ্যাতি সামলানোর ব্যাপারে ‘বাহুবলী’র পরিচালক রাজামৌলি আমাকে একটা জিনিস শিখিয়েছিলেন। সেটা হল যে কোনও অবস্থাতেই নিজেকে নম্র এবং মার্জিত রাখা।

প্র: বক্স অফিসের সাফল্য প্রভাসকে কতটা প্রভাবিত করে?

উ: বক্স অফিসের রেজ়াল্ট অবশ্যই প্রভাবিত করে আমায়। শুধু আমি কেন, ইন্ডাস্ট্রির সব অভিনেতাদেরই করে। ছবি তৈরি করা এমনিতেই খুব খরচসাপেক্ষ একটা কাজ। সেটা করে ফেলার পরে আর পিছু হঠার কোনও জায়গা থাকে না। তা ছাড়া, কোন অভিনেতার চাহিদা কতটা, সেটাও কিন্তু নির্ণয় করে দেয় বক্স অফিসই।

প্র: ইদানীং হিন্দি ও আঞ্চলিক ছবির মধ্যে ব্যবধান কতটা কমেছে বলে আপনার মনে হয়? 

উ: ব্যবধান কমে যাওয়ার সূচনাটা ‘বাহুবলী’ দিয়েই হয়ে গিয়েছে। তবে আমার মতে, ভাল সিনেমা সকলেই ভালবাসেন। শহর-শহরতলি-মফস্‌সল নির্বিশেষে। ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ আমার মায়ের গ্রামে ১৫০ দিনেরও বেশি চলেছিল। আমার দাদু দশ বারেরও বেশি ছবিটা দেখেছেন। অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘সাহো’র পর আমি হিন্দি ছবিতে কাজ করব কি না। যদি ‘সাহো’ সফল হয়, কেন করব না?

প্র: আপনার বিয়ে এবং অনুষ্কার (শেট্টি) সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। সত্যিটা কী?

উ: অনুষ্কা আমার ভীষণ কাছের বন্ধু। একসঙ্গে চারটে ছবিতে কাজ করেছি আমরা। একে অপরকে খুব ভাল ভাবে বুঝি এবং চিনি। তবে আমরা ডেট করছি না। করলে বলেই দিতাম। লুকিয়ে কেন রাখব? ‘বাহুবলী’তে আমাদের কেমিস্ট্রি দেখে ভক্তরা আমাদের একসঙ্গে দেখতে চায় সব সময়। এ বার দেখছি আমি কিংবা অনুষ্কা, কোনও একজনকে বিয়েটা করেই ফেলতে হবে। তবে যদি এই গুজব থামে।

প্র: হিন্দি ছবিও করছেন। এর পর বলিউডের খানেদের সঙ্গে আপনার তুলনা করা হবে!

উ: আমি ওঁদের ধারেকাছেও নেই। গত তিরিশ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে রাজ করছেন ওঁরা। সেটা কি ছেলেখেলা? এ দেশের চলচ্চিত্র জগতে এঁরা প্রত্যেকেই স্বনামধন্য। ৫০ বছর পরেও যখন হিন্দি ছবি নিয়ে লোকে কথা বলবে, তখনও সলমন, শাহরুখ, আমির খানের কথা সকলে মনে রাখবেন।

প্র: আপনি এমনিতে এত লাজুক, রোম্যান্টিক দৃশ্যে নায়িকাদের সঙ্গে কাজ করতে জড়তা অনুভব করেন?

উ: কেরিয়ারের শুরুর দিকে খুব অসুবিধে হত ঠিকই। মনে আছে, আমি তখন ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন। হিরোইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে আমি এতটাই জড়সড় হয়ে গিয়েছিলাম যে, পুরো সিনটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল! ভাবতে পারেন, সেই সময়ে আমি মেয়েদের স্পর্শ পর্যন্ত করতাম না। তবে ‘সাহো’তে শ্রদ্ধার (কপূর) সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা দারুণ! রোম্যান্টিক সিনে ও আমার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। সেটে শ্রদ্ধাকে দেখে প্রথমটায় খুব অবাক হয়েছিলাম। এত ছোটখাটো চেহারা, অথচ অ্যাকশন সিনে কী দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করেছে! শ্রদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে গিয়েছিল সে দিনই।