• বিহঙ্গী বিশ্বাস
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ঘরভর্তি ধোঁয়া, সবাই মিলে বসে মদ-সিগারেট খাচ্ছে, বেরিয়ে এলাম...: তুহিনা

গল্ফগ্রিনের ফ্ল্যাটে একা থাকেন ‘বৃন্দা’,অর্থাৎ অভিনেত্রী তুহিনা দাস। ফোন ধরে প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, অনেক কাজ বাকি বাড়ির... রান্নাবান্না...এক ঘণ্টা পরে করবেন, প্লিজ? অগত্যা, তাঁর কথামতোই এক ঘণ্টা পর শুরু হল আলাপচারিতা।

tuhina
তুহিনা দাস।

এ বার এক অন্য তুহিনা। গলার স্বর থেকে মানসিকতা— কোথাও তাড়াহুড়ো নেই।

একাই তো থাকেন, এত কাজ কীসের?

 (হাসি) আর বলবেন না। বাড়ির কাজ কি শেষ হয়? লকডাউনে বেড়ে গিয়েছে। ঘর গোছানো থেকে বাসন মাজা, সবই নিজের হাতে। ধরুন, মাছ রান্না করব, একটা করলাম তা তো নয়, একসঙ্গে অনেক ক’টা। সেগুলো ধুয়ে-ভেজে রান্না...কম ঝামেলা?

আপনার হোমটাউন তো মেদিনীপুর, শেষ কবে গিয়েছেন?

 (খানিক ভেবে) তা প্রায় সাত-আট মাস হয়ে গেল। মা’র আসার কথা ছিল। কিন্তু লকডাউন আর করোনার চক্করে হয়েই উঠল না। তবে মা’কে দেখেছি রোজ। ভিডিয়োকলে।

একা শহরে একা থাকতে ভয় করে না?

দেখতে দেখতে ছ’বছর হয়ে গেল। মেদিনীপুর থেকে যখন এখানে আসি কাউকে চিনতাম না। বাড়িতে বলেছিলাম ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়তে চাই। যদি বলতাম থিয়েটারের টানে শহর ছাড়ছি, বিশ্বাস করুন, আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারে একটুও মেনে নিত না।

তারপর?

যখন প্রথম এলাম, দেখিমেদিনীপুরের থেকে এই শহর একেবারে আলাদা। এখানকার নাইট লাইফ থেকে গাড়ির হর্ন...আমার ছোটবেলার চেনা পরিবেশের থেকে একেবারে আলাদা। মানতে অসুবিধে নেই আমার কথার মধ্যেও মেদিনীপুরের একটা টান ছিল। যেটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু এখানের কথা একেবারে আলাদা। শিখতে হয়েছে নতুন করে। নিজেকে নতুন করে চিনেছি ওই সময়টা।

সেই অর্থে আপনিও তো ‘আউটসাইডার’?

 তা তো বটেই। কাউকেই চিনতাম না। বাড়ির কেউ এই পেশার সঙ্গে যুক্ত নন। থিয়েটার করতে শুরু করি। সঙ্গে পড়াশোনাও চলত। একা থাকার অভ্যেসটা তখন থেকেই হয়ে গিয়েছে। মন খারাপ হয় মাঝে মাঝে। শরীর খারাপ লাগলে খুব একা লাগে। তবে অল্প হলেও বন্ধু পেয়েছি কিছু এই শহরে। ডাকলে পাশে পাই।

অন্য লুকে তুহিনা 

কাজের ব্যাপারে প্রত্যাখাত হয়েছেন?

বহু বার। বেশ মনে আছে, এক বার এক ধারাবাহিকের জন্য অডিশন দিতে গিয়েছি। ভালই হয়েছে অডিশন। পরিচালক সব শেষে বললেন, সবই ঠিক আছে, কিন্তু তোমার যা লুক, কোথায় কাস্ট করব বুঝছি না।

সে কি! ইন্ডাস্ট্রি তো বলে আপনার লুক-ই আপনার ইউএসপি?

তুহিনা লম্বা, তুহিনা ডাস্কি, তুহিনার কোঁকড়ানো চুল...তুহিনা ‘অন্যরকম’দেখতে। ছোটবেলা থেকে এ কথা শুনতে শুনতে আমি ক্লান্ত। বেশিরভাগ জায়গাতেই বলা হয়েছে, ‘লিসন, ইউ লুক আ বিট ডিফারেন্ট’। এই ডিফারেন্সটা কী? আমি আজও বুঝলাম না। তুহিনারও তো বাকিদের মতো দু’টো চোখ, একটা নাক। তবে?

কিন্তু আপনিই তো একবার বলেছিলেন, সিরিয়ালের বউয়ের লুকের সঙ্গে আপনার চেহারা মানায় না?

হ্যাঁ, বলেছিলাম। ওই যে বললাম কেরিয়ারের শুরুতে ওই ভদ্রলোকের কথা। এ রকম আরও উদাহরণ রয়েছে। সে জন্যই বোধহয় ধারাবাহিক এক্সপ্লোর করার সুযোগ আমি সেভাবে পাইনি। সেখানে থেকেই এই ভাবনাটা এসেছিল। মনে হয়েছিল একটা নিশ্চিত লুক না হলে সিরিয়ালে কাজ পাওয়া যায়না। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে অনেকটাই ।

কীরকম?

এখন রাস্তায় দেখা হলে লোকজন এগিয়ে এসে বলে, ‘তুহিনা ইউ মে লুক ডিফারেন্ট বাট ইউ লুক প্রিটি’। ভাল লাগে।

কাস্টিংকাউচ নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি এখন বেশ গরম, বাইরে থেকে আসা আপনার এ রকম কোনও অভিজ্ঞতা হয়েছে?

না, হয়নি। হ্যাঁ, কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অনেকে দেখা করতে বলেছে কফিশপে, বাড়িতে। কিন্তু আমি জানতাম, বিশ্বাস করতাম, আজও করি, কফিশপে-বাড়িতে গিয়ে আর যাই হোক, মিটিং হয় না। আর আমি এমনিও একটু ঘরকুনো। পার্টি, হ্যাংআউট কোনওদিনই আমায় টানেনি। আর সে জন্যই হয়তো আমার কাজ পেতে সময় লেগেছে, কিন্তু সঠিক মানুষদের সঙ্গে সঠিক সময়ে পরিচয়ও হয়েছে।

তার মানে তুহিনার এখনও পর্যন্ত টলিউড জার্নি বেশ নিরাপদেই কেটেছে বলা যেতে পারে?

বলতে পারেন, তবে এ প্রসঙ্গে একটা কথা মনে পড়ে গেল। এক চরিত্রে অভিনয় করার জন্য দক্ষিণ কলকাতার এক প্রযোজনা সংস্থা থেকে আমার কাছে একবার ফোন আসে । আমিও যাই। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে দেখি, বেশ কয়েক জন লোক বসে। সঙ্গে দু’-তিনজন মহিলাও রয়েছেন। সারা ঘর সিগারেটের ধোঁয়া, অ্যালকোহলের গন্ধে ভর্তি। আমি সেই যে ওখান থেকে বেরিয়ে এলাম আর ফিরে যাইনি কখনও।

‘ঘরে বাইরে আজ’ ছবিতে তুহিনা-অনির্বাণ 

অপর্ণা সেনের পরিচালনায় ‘ঘরে বাইরে আজ’ ছবিই তা হলে আপনার কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট?

এটা আমার কাছে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার। মা’কে যখন বলেছিলাম প্রথম, মা বারেবারেই জিজ্ঞাসা করছিল, ‘‘তুই সত্যি বলছিস? ঠিক বলছিস?’’ পার্টিতে গেলে লোকজন এখন চিনতে পারে। তুহিনা আর ‘আউটসাইডার’ নয়।

মা দেখলেন মেয়ের কাজ?

না এখনও দেখেনি। তবে নিশ্চয়ই দেখবে।

অরিন্দম শীলকে তো আপনি আপনার মেন্টর বলে থাকেন। ধরুন এমন হল, অরিন্দমের ছবির অফার আর অন্য আর এক বিখ্যাত পরিচালকের ছবির অফার একই সঙ্গে আপনার কাছে এল, কী করবেন?

(হাসিতে ফেটে পড়ে) দু’জনকে গিয়ে বলব, ছবির টাইমিং একটু আগে-পরে করতে, আমি তোমাদের দু’জনের ছবিই করতে চাই। (খানিক গম্ভীর) তবে হ্যাঁ, অরিন্দমদা এমন একজন মানুষ যাঁর কাছে যে কোনও সময়, যে কোনও বিষয়ে আমি সাহায্য পেয়েছি। কিছু বুঝতে না পারলে জিজ্ঞাসা করেছি। এখনও করি।

লোকে বলে আপনার সঙ্গে নাকি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের প্রেম ছিল?

(আবারও হাসি) আমিও পড়েছিলাম। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে বেরিয়েছিল।

ছিল না বলছেন?

একেবারেই না। সৃজিতদা ভাল বন্ধু।

তা হলে আপনার জীবন প্রেমহীন?

আপাতত একদম সিঙ্গল আমি। ব্রেক আপের পরে চার বছর পার হয়ে গিয়েছে। আর লুকিয়ে প্রেমটা কোনওদিনই ঠিক পারিনা। সে এলে, ঠিক জানতে পারবেন।

আর কাজ?

মৈনাক ভৌমিকের সঙ্গে একটা শর্টফিল্ম করলাম। ‘হইচই’ প্ল্যাটফর্মে আসবে খুব শিগগিরি।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন