×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৬ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

মাকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছিলাম

তানিয়া রায়
কলকাতা ১১ এপ্রিল ২০২০ ০১:২২
বাণী

বাণী

প্র: লকডাউন পিরিয়ড কেমন কাটছে?

উ: আমি আগে থেকেই নিজেকে বাড়িতে বন্দি রেখেছিলাম। শরীরটা ভাল ছিল না বলে। ২০ মার্চ থেকে আমার কোয়রান্টিন শুরু হয়ে গিয়েছিল। এখন তো লকডাউনের অভ্যেস হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতির সঙ্গে দিব্যি মানিয়ে নিয়েছি। গোটা দিনটাকে এখন সুন্দর ভাবে ব্যবহার করছি। জীবনে অনেক শৃঙ্খলা এসেছে বলতে পারেন।

প্র: আগামী ১৭ এপ্রিল ‘ফোর মোর শটস প্লিজ়!’ সিজ়ন টু রিলিজ় করছে। সকলেই এখন বাড়িতে। নিঃসন্দেহে এটাই ওয়েব সিরিজ় রিলিজ়ের সেরা সময়...

Advertisement

উ: হ্যাঁ, ভাল সময় তো বটেই! তবে কোনও ওয়েব সিরিজ় যখন লঞ্চ করা হয়, তখন অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুমোদন দরকার হয়। এই লকডাউনের সময়ে সেই কাজগুলো করতে একটু সমস্যা তো হচ্ছেই। তবে আমরা রিলিজ় ডেট পিছোচ্ছি না। নির্দিষ্ট দিনে রিলিজ় করাই আমাদের কাছে এখন চ্যালেঞ্জ।

প্র: ‘ফোর মোর শটস প্লিজ়!’ সিজ়ন ওয়ান বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। সিজ়ন টু-তে নতুন কী থাকছে? আপনার কাছেই বা এটা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

উ: পুরোটাই নতুন চমক। ইস্তানবুল এবং মুম্বইয়ে শুটিং হয়েছে। তবে আমার চ্যালেঞ্জ নিজের সঙ্গে। নিজের থেকেই আমার সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা। আমি তখনই দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব, যখন নিজেরটা পূরণ হবে। (খানিক থেমে) তবে এটা বলতে পারি, যতটা প্রচেষ্টা আমি সিজ়ন ওয়ানে করেছি, সিজ়ন টু-তে আরও বেশি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি।

প্র: পর্দার বাইরেও কি কীর্তি (কুলহারি), সায়নী (গুপ্ত), মানবী (গাগরু) আর আপনি ভাল বন্ধু?

উ: ওরা সকলেই খুবই মজাদার। খুব জেনুইন। আমরা শুটিংয়ের সময়ে খুব মজা করেছি সকলে মিলে। হাসতে শুরু করলে তো থামানোই যেত না! তবে যখন কাজ করতাম, সকলেই খুব সিরিয়াস হয়ে যেতাম। ওরা প্রত্যেকেই খুব হার্ড ওয়র্কিং। প্রত্যেক দিন ওদের সকলের থেকে আমি কিছু না কিছু শিখেছি। দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এই প্রসঙ্গে একটা মজার গল্প আপনাকে বলতে পারি। যদিও সেটা খুবই কষ্টের অভিজ্ঞতা।

ইস্তানবুলে শুটিংয়ের সময়ে একটি সিন ছিল, সেখানে আমাদের টার্কিশ কফি খেতে হয়েছিল। সঙ্গে বাকলাভা বলে স্থানীয় একটি মিষ্টিও। নানা কারণে এত বার সেই শটটা রি-টেক হয়েছিল যে, বারবার আমাদের ওই মিষ্টি খেতে হচ্ছিল। পরের দিকে আর খেতেই পারছিলাম না, বমি চলে আসছিল। কী ভয়ানক অভিজ্ঞতা! এর পর তো আমরা কিছু দিন মিষ্টি দেখলেই উল্টো দিকে দৌড় দিতাম। এখন অবশ্য ভাবলে মজাই লাগে।

প্র: এই সিরিজ়ে আপনার চরিত্রটি খুবই স্ট্রং। রিয়্যাল লাইফেও কি আপনি এই রকমই?

উ: বাস্তবে উমঙ্গ সিংহের মতো বাইসেক্সুয়াল নই আমি (হো হো করে খানিকক্ষণ হেসে নিলেন)! তবে মানসিক ভাবে সে রকমই স্ট্রং আমি। আমাকে মাথায় রেখেই বোধহয় চরিত্রটি লেখা হয়েছিল। ফলে উমঙ্গের চরিত্রটা করতে বেশি খাটতে হয়নি আমায়। প্রথম সিজ়নের শুটিং চলাকালীন মাকে হারাই আমি। সেই সময়টায় বেশ ভেঙে পড়েছিলাম।

প্র: ‘ভিজে বাণী’ হিসেবেই আপনি জনপ্রিয় ছিলেন এক সময়ে। অভিনয়ে আসার পিছনে কোনও বিশেষ কারণ?

উ: আমার যখন ১৯-২০ বছর বয়স, তখন বেশ কয়েকটি পঞ্জাবি মুভিতে কাজ করেছিলাম। তবে নিজের সে সময়ে মনে হয়েছিল, আমি তখনও তৈরি নই অভিনয়ের জন্য। আরও শেখা দরকার। তার পর ভিজে হিসেবে টেলিভিশনে কাজ করা শুরু করলাম। অনেক বছর বাদে ফের মনে হল, অভিনয়ের চ্যালেঞ্জটা আমি নিতে পারব।

Advertisement