Advertisement
E-Paper

ব্রেকআপ, বন্ধুবিচ্ছেদ পাল্টে দিয়েছে জীবন? সায়ন্তিকা বললেন...

ব্রেকআপ, বন্ধুবিচ্ছেদ কি ওলটপালট করে দিয়েছে সায়ন্তিকার চেনা ছকের জীবন?

পারমিতা সাহা 

শেষ আপডেট: ২৯ অগস্ট ২০১৮ ০০:০০

প্র: কিছু দিন আগেই ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। অনেক তিক্ততার পর দীর্ঘ দিনের বয়ফ্রেন্ড জয়ের সঙ্গে ব্রেকআপ। এটা যেমন সত্যি, তেমনই ক্রাইসিস অনেক কিছু শেখায়ও... আপনি কী ভাবে দেখেন ব্যাপারটা?

উ: আমি খুব অপ্টিমিস্টিক মানুষ। বাবা আমাকে শিখিয়েছেন, জীবনের কঠিন মুহূর্তে নেগেটিভ ভাবলে, তার থেকে বেরোতে পারবে না। তা ঝেড়ে ফেললেই সামনের দিকে এগোনো যায়। সেটাই চেষ্টা করেছি। (একটু থেমে) জানি না কী শিখেছি... তবে লড়াই করার জোর আমার মধ্যে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। এত দিন আমার মধ্যে স্থিরতার অভাব বলেই ধারণা ছিল। জীবনের এই পর্যায়ে এসে বুঝলাম, মাথা ঠান্ডা রেখে সব কিছু হ্যান্ডল করার ক্ষমতা আমারও আছে।

প্র: আপনার পরিবার ঘটনাটাকে কী ভাবে নিয়েছে?

উ: বাবা-মা তো দু’জনকেই খুব ভালবাসতেন। তাই যখন আমি কষ্ট পাচ্ছি, সেখানে ওঁরা কী ভাবে ভাল থাকবেন? ব্রেকআপ বোধহয় আমাদের ভাগ্যে ছিল। সে অর্থে আমাদের মধ্যে ডিফারেন্সও বিশেষ ছিল না। তবে আমরা দু’জনেই পাবলিক ফিগার। যে সময়টা একসঙ্গে কাটিয়েছি, সেটা মনে রেখে ওকে ছোট করতে চাই না। তবে ছোটবেলা থেকেই আমি ফাইটার। যে কোনও সিচুয়েশন আসুক, তা সহ্য করার ক্ষমতা আমার আছে। একটা দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। কিন্তু সেটা আগামী দিনে আমার জীবনে এফেক্ট করবে না।

প্র: আপনাদের বিখ্যাত গার্লগ্যাংও তো ভেঙে গিয়েছে?

উ: হ্যাঁ। প্রত্যেকেরই কোনও না কোনও ব্যক্তিগত কারণ ছিল। কারও ব্যস্ততা, কেউ সময় দিতে পারেনি, কারও সঙ্গে কারও মনোমালিন্য হয়েছে... কী কী কারণে আমাদের সম্পর্ক ভেঙেছে তা নিয়ে যদি আমরা সকলে কথা বলি, তা হলেও কি পরিস্থিতি বদলাবে? সমস্যার সমাধান আমাদের কাছেই থাকে, সেটা অন্য কেউ বলে দিতে পারে না।

প্র: আপনারা মানে আপনি, মিমি, নুসরত এবং তনুশ্রীর মধ্যে টকিং টার্মস রয়েছে?

উ: (একটু সময় নিয়ে) নেই। প্রথম দিকে ব্যাপারটা খুবই খারাপ লাগত। তবে আমার যখন অ্যাকসিডেন্ট হল এবং ব্রেকআপের ব্যাপারটা জানাজানি হল, তখন শুধুমাত্র মিমি আমাকে ফোন করেছিল।

প্র: সম্পর্কগুলো মিস করেন?

উ: যার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল, সে আমার বেস্ট ফ্রেন্ডও ছিল। সেই বন্ধুত্বটা খুব মিস করি। তা বাদে যাদের আমি বন্ধু ভেবেছিলাম, আজ তারা আর আমার বন্ধু নয়। সেটা ইন্ডাস্ট্রির বাইরেও বটে। আমি কিন্তু ওদের প্রতি নিজের ফিলিংস মিস করি, আনন্দের সময়গুলোও। আমি কাউকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবছি, তার উন্নতিতে আমিও খুশি হব। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে, সে-ও আমার সম্পর্কে সেটাই ভাবছে। এখানেই আমি ভুল। আমাকে প্র্যাক্টিক্যাল হতে হবে। আর গত এক বছরের মধ্যে আমি প্রচুর মানুষ চিনেছি। বন্ধু চিনেছি। আগামী দিনে খুব সুবিধে হবে বন্ধু বানাতে। আমি জানব যে, কতটা বন্ধু বানানো উচিত বা নয়।

প্র: ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছেন প্রায় আট-ন’ বছর হয়ে গেল। এই সময়টায় যে জায়গায় পৌঁছনো উচিত ছিল, সেখানে পৌঁছতে পেরেছেন বলে মনে করেন?

উ: দেখুন, আমি সব সময় স্লো অ্যান্ড স্টেডি, এই ধারণায় বিশ্বাসী। দর্শকের ভালবাসা ও ঈশ্বরের আশীর্বাদে যেখানে পৌঁছেছি, তাতেই আমি সন্তুষ্ট। আমার অনুশোচনা নেই। আর এই অবধি যে আমি পৌঁছতে পারব, সেটাও তো জানতাম না। কে জানে, আগামী দিনে হয়তো আমার জন্য আরও ভাল কিছু লেখা আছে। ভাগ্যে যেটুকু ছিল সেটুকুই পেয়েছি, অনেকটা পরিশ্রমের ফলে। খুব তাড়াতাড়ি ‘নকাব’ মুক্তি পাবে। ‘বাঘ বন্দি খেলা’য় বাঘ অংশটুকুতে রয়েছি আমি। দেখা যাক, কী হয়!

প্র: কিন্তু তা বলে কি প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নেই? এটা তো মানুষের খুব স্বাভাবিক একটা প্রবণতা!

উ: নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা সব সময়ে কাম্য। কিন্তু এটা কখনও মনে হয়নি, অমুকের জায়গাটা যদি আমি পেতাম! হ্যাঁ, এটা নিশ্চয়ই মনে হয়েছে, ওই চরিত্রটা করতে পারলে ভাল হতো। সেটা শুধু বাংলা নয়, হিন্দি বা ইংরেজি ছবি দেখেও মনে হতে পারে। আমি কারও ডেস্টিনি নিতে পারব না। অন্য কেউও আমারটা নিতে পারবে না। নিজের কাজটা আরও ভাল করতে পারব, হার্ডওয়র্কের জোরেই।

প্র: এক একটা প্রযোজনা সংস্থায় বাছাই করা জনা কয়েক নায়িকাই প্রিয়। এর জন্যও কি সুযোগ হারাচ্ছেন?

উ: প্রথম কথা, গুরুত্বটা কে দিচ্ছে বা কারা দিচ্ছে সেটা একেবারেই সাবজেক্টিভ। আমি সেই সব ছবিই করেছি, যার গল্পটা ভাল লেগেছে বা চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ। আর গ্রুপিজ়ম সব ফিল্ডে রয়েছে। আমি এ লিস্টে পড়ি নাকি বি বা সি, তার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আমি দর্শকের হাতে ছেড়ে দেব। আমাকে ভাবায় তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলাম কি না বা ওয়র্ক স্যাটিসফ্যাকশন আসছে কি না। আমার মনে হয় না, ছবির সংখ্যার উপর কে কোন লিস্টে আছি, সেটা নির্ভর করে।

ছবি: দেবর্ষি সরকার, পোশাক এবং স্টাইলিং: অভিষেক রায়, জুয়েলারি: জ়েনিথ, মেকআপ: প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, লোকেশন: হোটেল হিন্দুস্তান ইন্টারন্যাশনাল

Sayantika Banerjee সায়ন্তিকা Exclusive interview
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy