সিনেমাহলে লোক টানতে পারছে না বাংলা ছবি। বাধ্য হয়ে হল বন্ধ রেখেছেন বিনোদিনী থিয়েটারের (সাবেক স্টার থিয়েটার) মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহের মালিক অরিজিৎ দত্ত। খবর, আগামী দিনে রাজ্যের অন্য হলমালিকেরাও হয়তো একই পথে হাঁটবেন। এমন পরিস্থিতিতে আনন্দবাজার ডট কম-এর মাধ্যমে বার্তা দিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। বললেন, “হলে সারা বছর বাংলা ছবি চলুক। তারকা অভিনেতারাও এ বার বিষয়টি নিয়ে ভাবুন।”
বুধবার ছিল ফেডারেশনের বিশেষ বৈঠক। শহরে নতুন একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম চালু হতে চলেছে। সেই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংগঠনের মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই অনুষ্ঠানের পরে ফেডারেশন সভাপতি কথা বলেন আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিনিধির সঙ্গে। তাঁর আক্ষেপ, “প্রথম দিন থেকে স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে একসঙ্গে ৫২ সপ্তাহের সিনে ক্যালেন্ডার তৈরির অনুরোধ জানিয়েছিলাম। এ-ও বলেছিলাম, যে সব তারকা হলে দর্শক টানতে পারেন, তাঁরা শুধুই উৎসবের দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। সারাবছর ধরে ছবি আসুক। তবেই টলিউডের মঙ্গল।” আগের দিনের বৈঠকে একই কথা শোনা গিয়েছে ইম্পা এবং স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়ার কণ্ঠে। তিনিও আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেছেন, “তারকাদের অনুরোধ জানাচ্ছি, এ বার তাঁরা বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করুন। তাঁরা তো অ্যাসিড টেস্টে উত্তীর্ণ হয়েই ‘তারকা’ তকমা পেয়েছেন। বছরের যে কোনও সময়ে তাঁদের ছবি এলেই দর্শক হলে আসবেন।”
স্বরূপ আরও জানান, গত অগস্টে যখন রাজ্য সরকার বাংলা ছবির স্বার্থে নয়া নির্দেশিকা চালু করে, তখনই তিনি স্ক্রিনিং কমিটিকে জানিয়েছিলেন, সরকারের এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করে যেন এর সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রয়োগ হয়। বাংলা ছবিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য কখনও কখনও হিন্দি ছবিকে প্রাইম টাইমে সঠিক জায়গা দেওয়া যায় না। আমি পরিবেশকদের অনুরোধ করব, তার জন্য হলমালিকের প্রতি কোনও রকম প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ যেন না করেন। তবেই আগামী দিনে হলমালিকদের সার্বিক উন্নতি ব্যাহত হতে পারে। তাঁর ভাবনা এ ভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় ব্যথিত ফেডারেশন সভাপতি। তিনি হলমালিকদের সমর্থনে পুরো ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতির কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন, বিষয়টি নিয়ে যেন অবিলম্বে বৈঠক ডাকেন।
আরও পড়ুন:
উৎসবের সময়ে বাংলা ছবির জোয়ার। বাকি সময় ভাটার টান। উৎসবের মরসুম ছাড়া তাই ব্যবসা নেই সিঙ্গল স্ক্রিনের হলমালিকদের। এই অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে গত অগস্টের পর থেকে। টলিউডের প্রথম সারির ব্যক্তিত্বদের অনুরোধে রাজ্য সরকারের নয়া নির্দেশিকা চালু হওয়ার পর। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, যত বড় বাজেটের হিন্দি ছবিই আসুক, বাংলা ছবিকে আগে হল দিতে হবে। প্রাইম টাইম শো-ও দিতে হবে। এর ফলে বাংলায় কার্যত কোণঠাসা বলিউড। এ দিকে, উৎসব মিটলেই বাংলা ছবির দেখা নেই! তখন যে হিন্দি ছবি চালিয়ে পয়সা উশুল করবেন, সেই উপায়ও আর নেই সিঙ্গল স্ক্রিনের হলমালিকদের। কারণ, হিন্দি ছবির পরিবেশকরাও আর হলমালিকদের পাশে নেই। বাধ্য হয়ে তাই হল বন্ধ রাখছেন শহুরে হলমালিকদের একাংশ।