Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

কঙ্গনাই কুইন

এ ছবি কর্ণ জোহর থেকে শাহরুখ খানের মতে মডার্ন ডে মাস্টারপিস! অন্য ছবির বক্স অফিস কালেকশন একশো কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রথম ছবির নাম ‘দিল ধড়কন

১৭ জুন ২০১৫ ০০:০৫
তনু ওয়েডস মনু রিটার্নস

তনু ওয়েডস মনু রিটার্নস

তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। রবিবার বিকেলের শো-এ তবু তিলধারণের জায়গা নেই। হল থেকে যখন বেরোচ্ছি কানে আসছে দর্শকদের খুটখাট মন্তব্য। চেটেপুটে খাওয়ার পরেও ছোট্ট একটা আফশোস! মনুর সঙ্গে দাত্তোর বিয়ে হলেই বেশি ভাল হত!

‘তনু ওয়েডস মনু রিটার্নস’-এর গল্পটা মোটামুটি সবাই জেনে ফেলেছেন এত দিনে। সেই বিশ্বাস থেকেই কথাটা লিখলুম। ক্লাইম্যাক্স বলতে নেই-এর সাধারণ নিয়মটা মানলুম না। কারণ দর্শকদের এই মন্তব্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ছবির প্লাস, মাইনাস এবং আরও কিছু...।

ছবিটা তো আসলে ঠিক তনু আর মনুর নয়। ছবিটা তনু বনাম দাত্তো-র। কঙ্গনা বনাম কঙ্গনার। সুতরাং গল্পে শেষ হাসি তনুই হাসুন বা দাত্তো, জিতটা কঙ্গনারই হত। হয়েওছে তাই। কঙ্গনাই জিতেছেন, কঙ্গনাকেই হারিয়ে জিতেছেন। যদি মনুকে বর হিসেবে পাওয়াটাকে জিত বলে ধরি। কিন্তু দর্শকের মন পড়ে রয়েছে অন্য কঙ্গনার কাছে। দাত্তোকে প্রথম দেখা ইস্তক মনু তার থেকে যে রকম চোখ সরাতে পারেনি, দর্শকও ঠিক তাই। মনুর মতোই দাত্তোকে তাঁরাও বড্ড ভালবেসে ফেলেছিলেন। তনু না দাত্তো, এই নিয়ে মনুর কনফিউশন থাকতে পারে, দর্শকের ছিল না। তাই দাত্তোর বিয়ে ভেস্তে যাওয়াটা যেন মন থেকে ঠিক মানা গেল না।

Advertisement

কিন্তু তাতে কী? আগেই তো বললুম, এ খেলাটা কঙ্গনার উইন-উইন। তনু জিতলেন মনুকে, আর দাত্তো জিতলেন দর্শককে। ফল? বক্স অফিসে কঙ্গনাই ডবল কুইন!

চার বছর আগে ‘তনু ওয়েডস মনু’র প্রথম ভাগ যখন আসে, তখন সেটা ছিল যাকে বলে মাল্টিপ্লেক্স দর্শকের ছবি। ভালই চলেছিল। তবে ব্লকবাস্টার হয়নি। কঙ্গনা তখনও অত্যন্ত গুণী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু বক্স অফিসের নিয়ম-কানুন পাল্টে দেওয়ার মতো জায়গায় ছিলেন না। তনু-মনু ‘রিটার্ন’ করল এমন একটা সময়ে, যখন কুইন বলে একটা ঘটনা ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। তনু-মনুর দ্বিতীয় ভাগ সেই ঘটনাটাকেই আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দিল। পনেরো দিনের মধ্যে একশো কোটির ব্যবসা করে মাল্টিপ্লেক্স ছবিকে ব্লকবাস্টারের উচ্চতায় নিয়ে গেল। ‘ডার্টি পিকচার’, ‘কহানি’র পরে বিদ্যা বালনকে চতুর্থ খান বলে ডাকা শুরু হয়েছিল। কঙ্গনাকে কী বলা হবে এখন? খান খান? তার চেয়ে বাণিজ্যিক সাফল্যকে পুংলিঙ্গ ভাবার অভ্যেসটাকেই বরং আরব সাগরে বিসর্জন দিলে হয় না? চার বছরে মনুকে নিয়ে তনু বোরড হয়ে যেতে পারে আর আমরা দর্শকরা বস্তাপচা ধ্যানধারণায় বোরড হতে পারি না?



এই বোরডমের ব্যাপারটাই ভেবে দেখুন! দাম্পত্যে বোরডম প্রধানতম সমস্যা বললে অত্যুক্তি হয় না। অথচ কোনও মহিলা সপাটে বলছেন, আমি আমার স্বামীকে নিয়ে বোরড, এমনটা চট করে দেখেন কি? তনু ওয়ে়ডস মনু রিটার্নস-এ দেখবেন। বিয়ের চার বছর পর কাউন্সেলিং-এর জন্য গিয়ে মনুর ব্যাপারে তনুর অভিযোগটাই তাই। আর তনুর ব্যাপারে মনুর বক্তব্য, ওর মেজাজের তল পাওয়া ভার! মনুর পক্ষে তনু যে কিঞ্চিৎ ভারী হতে পারে, সেটা যাঁরা প্রথম ভাগ পড়েছেন, তাঁরা জানেন। সিক্যুয়েল হবে জানা ছিল না। দর্শক নিশ্চিন্ত হওয়ার বদভ্যাসে ভেবে নিয়েছিলেন, বিয়ের পর তনু নিশ্চয় সুশীলা হবে। চার বছর পর জানা গেল, তনু আছে তনুতেই। অতএব? মনু বোকার মতো হাত-পা ছুড়ে মেন্টাল অ্যাসাইলামে গেল। আর তনু গটগটিয়ে কানপুরে নিজের মহল্লায় ফিরে এল। মনুর বন্ধুকে ফোন করে বলল লন্ডন গিয়ে মনুকে ছাড়িয়ে আনো!

গল্পের এই মুখড়া থেকেই বুঝে নিন, মনু অর্থাৎ মাধবনের এ ছবিতে বিরাট কিছু করার নেই। তবে ভদ্রলোককে দেখতে এতই সৌম্য-সুন্দর, যে চরিত্রটার নিজস্ব খামতি অনেকাংশে মাফ করে দেওয়া যায়। তনুর পুরনো প্রেম রাজা ওরফে জিমি শেরগিল আরও ফিকে। প্রথম ভাগে তাঁর যে জোশ দেখা গিয়েছিল, সেটা ফিরিয়ে আনার জায়গা তিনি পাননি। পায়েল-জসসি-তনু-মনুর পরিবারও পিছনের সারিতে। নতুন গল্পে বরং চুটিয়ে অভিনয় করার সুযোগ পেলেন দীপক দোবরিয়াল(পাপ্পি), মহম্মদ আয়ুব জিশান (চিন্টু) আর আমাদের রাজেশ শর্মা (দাত্তোর দাদা)। তনু-মনু-দাত্তোর পাশে এই তিনটি চরিত্র আবার বুঝিয়ে দিল পরিচালক আনন্দ এল রাই আর তাঁর চিত্রনাট্যকার হিমাংশু রাইয়ের কব্জির জোরটা ঠিক কোথায়। উত্তর ভারতের শহর আর তার আশ্চর্য রঙিন সব কোলাজ। তনু-মনুর গল্পই হোক বা আনন্দের আগের ছবি ‘রঞ্ঝনা’ — সবেরই মূলধন কিন্তু এই ভূখণ্ড। ওই যে শুরুতেই তনু আর মনুর বিয়ের মণ্ডপে ‘রাম তেরি গঙ্গা ম্যয়লি’র গান বেজে চলে। ছবির সামগ্রিক সুর যেন ওখানেই বাঁধা হয়ে যায়।

তুলনায় লন্ডনের অংশটা দুর্বল। কিন্তু তনু যে-ই কানপুরে পা রাখল, ছবিটাও জেল্লা ফিরে পেল। চিন্টুর বাইকে সওয়ার হয়ে তনু চলল তার পুরনো প্রেমিকদের তত্ত্ব-তালাশে। জানতেও পারল না, মনুর চোখ ও দিকে আটকে গিয়েছে হরিয়ানার গ্রাম থেকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পোর্টস কোটায় পড়তে আসা দাত্তোকে দেখে।



দাত্তো একদম তনুর মতোই দেখতে। শুধু সামনের দাঁতগুলো একটু বড় আর সামান্য উঁচু। চুলটা পিক্সি কাট না হলে কম বয়সের শাবানা আজমি বলে চালিয়ে দেওয়া যেত। সোজাসাপ্টা মেয়ে। চেহারায়, হাবেভাবে পুরোদস্তুর অ্যাথলিট। তনুর মতো নাটুকে আর কাণ্ডজ্ঞানহীন নয়। এত সরল এবং ঋজু, এত নরম এবং শক্ত, এত নিষ্পাপ অথচ পরিণত মনের মেয়ে খুব বেশি আসেনি পর্দায়। আর সেই দাত্তোকেই কিনা হারিয়ে দিলেন পরিচালক? ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর কাজল হেরেছিলেন ছকে বাঁধা নারীত্বের কাছে। দাত্তোকে ২০১৫য় এসে নারীস্বাধীনতার বক্তৃতা আউড়েও হারতে হল সাত পাকের মহিমার কাছে। নইলে মনুকে নিয়ে বোরড হয়ে যাওয়া তনু কেনই বা কেঁদে ভাসাবেন, আর মনুই বা কেন সাত নম্বর পাকের আগে থমকে যাবেন! লজিকের প্রশ্ন তুললে চিত্রনাট্যে অনেক ফাঁকই চোখে পড়বে। কিন্তু সে সব নিয়েও তো তনু-মনুর আখ্যান শানদার ব্যাট চালিয়ে যাচ্ছে। কঙ্গনার লা-জবাব পারফর্ম্যান্স অবশ্যই পয়লা নম্বর কারণ। এক দিকে বোতল খাওয়া তনু, আর অন্য দিকে অপাপবিদ্ধ টমবয় দাত্তো। তার সঙ্গে যোগ করুন ফিল-গুড কমেডি আর মুড়িমুড়কির মতো পাঞ্চলাইনের বন্যা। বন্নো, ছবি তো জমবেই!

পুনশ্চ: দাত্তোর প্রতি অবিচারটা তবু থেকে থেকেই খোঁচা দিচ্ছিল। শেষমেশ মনকে ঠান্ডা করা গেল এই বলে, যে মনু বুঝতেই পারে না সে তনুকে চায় নাকি দাত্তোকে, তার পাল্লায় না পড়ে দাত্তোর ভালই হয়েছে। দাত্তোর জন্য ভাল রাজপুত্তুর পক্ষিরাজে চড়ে আসছে! তনু-মনুর তৃতীয় ভাগ নইলে কী দিয়ে হবে?

আরও পড়ুন

Advertisement