Advertisement
E-Paper

অস্ত্র রেখেছিলেন, ‘ফেভার’ও চেয়েছিলেন? আদালতে স্বরূপকে নিয়ে দিনভর আইনি কাটাছেঁড়া!

তাঁর বিরুদ্ধে অনেকের অনেক অভিযোগ। যেমন, তাঁর বিরুদ্ধে খুনের হুমকি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ। শুক্রবার আলিপুর আদালতে স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে আইনি কাটাছেঁড়া।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৭:৫৭
আইনি টানাপড়েনে স্বরূপ বিশ্বাস।

আইনি টানাপড়েনে স্বরূপ বিশ্বাস। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আগ্নেয়াস্ত্র রেখেছিলেন! ‘ফেভার’ও নাকি চেয়েছিলেন অভিযোগকারিণীর কাছে! স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে এ রকমই নানা অভিযোগ টলিউডের। সেই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আইনি সওয়াল-জবাব। শুক্রবার আলিপুর আদালতে দিনভর এ ভাবেই আইনি কাটাছেঁড়া চলল ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতির।

৪ জুন এক মহিলা রূপটানশিল্পীর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার নিউ আলিপুর থানা গ্রেফতার করে স্বরূপকে। অভিযোগকারিণী এর আগেও স্বরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন রিজেন্ট পার্ক থানায়। সমাজমাধ্যমে এসে উগরে দিয়েছিলেন ক্ষোভ। নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বৈঠক করেছিলেন কলাকুশলীদের সঙ্গে। সেই সময়েও তিনি জানিয়েছিলেন, গত দু’বছর ধরে তিনি কাজ পাননি। এ কথা মেকআপ গিল্ডের সম্পাদক বাপি মালাকারকে জানিয়েছিলেন। তিনি হেলদোল না করায় তাঁর নামে লিখিত অভিযোগ জানান স্বরূপকে। এর পরেই নাকি ক্রমাগত খুনের হুমকি পেতে থাকেন অভিযোগকারিণী। তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয়ও দেখানো হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

এই অভিযোগ নিয়েই শুক্রবার সওয়াল-জবাব চলে। স্বরূপের আইনজীবী যেমন জানান, মূল অভিযোগকারিণীকে বলা হয়েছিল, কাজ পেতে গেলে কিছু ‘ফেভার’ দিতে হবে। যদি ‘ফেভার’ না দেওয়া হয়, তা হলে মেরে টাঙিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। কিন্তু এই কথা স্বরূপ বলেননি, দাবি আইনজীবীর। কারণ, অভিযোগপত্রেই লেখা, অন‍্য এক ব্যক্তি এই কথা বলেছিলেন অভিযোগকারীকে। অভিযোগকারিণী স্বরূপের বিরুদ্ধে অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও এনেছেন। যদিও তিনি চিৎকার করায় দুষ্কৃতী নাকি পালিয়ে যায়! এখানে আইনজীবীর প্রশ্ন, শুধু চিৎকারেই চলে যাচ্ছে দুষ্কৃতী? কেউ কিছুই করছে না। এই অভিযোগ কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

অভিযোগকারিণী যখন প্রথম রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়েছিলেন, তখন ক্ষমতায় তৃণমূল সরকার। তাই তাঁর দাবি, সেই সময় স্বরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিতে চায়নি থানা। এতে আইনজীবীর পাল্টা বক্তব্য, তা হলে রিজেন্ট পার্ক থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককেও এই মামলায় ডাকা উচিত। পাশাপাশি তিনি এ-ও জানান, অভিযোগপত্রে রিয়ার নাম থাকলেও এই রিয়া কিন্তু নিজে কোনও অভিযোগ করেননি। তোলাবাজির অভিযোগে জানানো হয়েছে, কার্তিক ভট্টাচার্যের থেকে ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন স্বরূপ। তিনটি পর্বে কার্তিক সেই টাকা দিয়েছিলেন। অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন জানান, নথিপত্রে স্বরূপের সই আছে কি না দেখা হোক আগে। একই ভাবে ২২ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধে। যদিও তার কোনও প্রমাণ নেই।

একই ভাবে খুনে হুমকির প্রসঙ্গে স্বরূপের আইনজীবীর যুক্তি, এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নাকি কোনও অনুসন্ধান করেনি। কোনও সিনিয়র অফিসারকে সেই অনুসন্ধানের রিপোর্টও দেওয়া হয়নি বলে দাবি। তাই এই অভিযোগ কতটা ‘ম্যানিপুলেটেড’, সেটা দেখা পুলিশের দায়িত্ব বলে দাবি তাঁর। দরকারে পুলিশ নানা স্থানের সিসিটিভি ফুটেজও দেখতে পারে। আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে খবর, দিনভর এ ভাবেই সওয়াল এবং পাল্টা সওয়াল চলে। বিকালে এ দিনের শুনানি শেষ হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা, শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ। তাই স্বরূপ হয়তো পুলিশি হেফাজতেই থাকবেন, এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আদালত থেকে এ ব্যাপারে এখনও কোনও নির্দেশ আসেনি।

Swarup Biswas Federation Tollywood Alipore Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy