বিজয়গড়ের অনন্যা অ্যাপার্টমেন্টের ঠিকানাটা অনেকের কাছেই আর অজানা নেই। এখানেই তো ছোট থেকে কাটিয়েছেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অবশ্য পাড়ার আদরের বাবিন। কয়েক ঘণ্টায় বদলে গিয়েছে গোটা পাড়ার পরিবেশ। আর মা! কেমন আছেন অভিনেতার মা?
রবিবার রাতে প্রথমে প্রিয়াঙ্কাই পৌঁছোন রাহুলের মায়ের কাছে। তার পরে একে একে জড়ো হন অভিনেতার বন্ধুরা। অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত সারা ক্ষণ ছিলেন অভিনেতার মায়ের সঙ্গে। গিয়েছিলেন জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, সৌরভ দাস, ঋদ্ধিমা ঘোষ, গৌরব চক্রবর্তী-সহ আরও অনেকে। দুঃসংবাদ পাওয়া মাত্র রাহুলের বাড়িতে পৌঁছে যান তাঁরা। সবার একটাই কথা, এ কী হয়ে গেল!
রাহুলের মায়ের সামনে যেতে পারেননি সৌরভ। বাইরেই বসে ছিলেন। ভেবে পাচ্ছিলেন না কী করলে ঠিক হবে। কোনও ভাবেই ছেলে চলে যাওয়ার খবর মেনে নিতে পারছেন না। অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল বললেন, “সন্তানহারা মা কি আর ঠিক থাকে?” রবিবার রাত থেকে শুইয়ে রাখা যাচ্ছে না তাঁকে। বার বার খুঁজছেন ছেলে বাবিনকে। দেবলীনা বলেন, “চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ দেওয়া হয়েছে। তাতেও ঘুমোচ্ছেন না , খাচ্ছেন না রাহুলের মা। বুধবার দাদাভাই আসবেন। তার পর যদি একটু সামলানো যায়।” রাহুলের দাদা থাকেন আয়ারল্যান্ডে। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। বুধবার শহরে ফিরবেন তিনি।
এক দিকে যেমন রাহুলের মাকে সামলানো যাচ্ছে না, অন্য দিকে একেবারে চুপ করে গিয়েছে রাহুলের ১৩ বছরে ছেলে সহজ। অনিন্দিতা রায়চৌধুরী বললেন, “একটা শব্দও মুখ থেকে বার করেনি সহজ। পুরো চুপ করে গিয়েছে। আর সবটা একাহাতে সামলাচ্ছে প্রিয়াঙ্কা। ওকে সত্যিই কুর্নিশ জানাই।” সোমবার দুপুর ৩টে নাগাদ তমলুক মহকুমা হাসপাতাল থেকে কলকাতা নিয়ে আসা হয় রাহুলের মরদেহ। থিকথিকে ভিড়ের মাঝে সবার একটাই প্রশ্ন ছিল, কেমন আছেন রাহুলের মা? ছেলে সহজ কি বুঝতে পারছেন কী হয়েছে? অদ্ভুত এক পরিস্থিতি। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে যন্ত্রের মতো অবাক চোখে দেখা গেল ১৩ বছরের সহজকে। বাবার মুখাগ্নি করেছে সে। ছেলে আর মায়ের ভার রইল এ বার থেকে শুধুই প্রিয়াঙ্কার হাতেই!