‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’, ইমতিয়াজ় আলির নতুন এই ছবি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। দেশভাগের প্রেক্ষাপটে তৈরি ইমতিয়াজ়ের এই ছবি। এই ছবির মুক্তির পর সমাজমাধ্যমে ‘দেশবিরোধী’ বলে কটাক্ষ করেছেন নেটপাড়ার একাংশ। যদিও তাঁদের পাল্টা জবাব দিয়েছেন পরিচালক। এ বার তিনি জানান, বোরখা পরা নিয়ে আপত্তি রয়েছে তাঁর। তিনি এর বিরোধিতা করেন। ইমতিয়াজ় জানান, যে সব মহিলা বোরখা পরায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তাঁদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আরও পড়ুন:
দর্শকেরা বলেন, ইমতিয়াজ়ের ছবি যেন কবিতার মতো। তিনি পরিচালক কম, দার্শনিক বেশি এবং সময় বিশেষে নাকি কবি। নিজে মুসলিম। তবু নিজের ধর্ম নিয়ে বার বার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। সেই প্রশ্নের তিনি উত্তরও দিয়েছেন নরমে-গরমে। বোরখার পরা প্রসঙ্গে ইমতিয়াজ় বলেন, “যখন কেউ বলে, ‘আমি আমার বোরখায় স্বচ্ছন্দ। আমি আমার পর্দায় স্বচ্ছন্দ’, সেটা শুনতে আমার ভাল লাগে না। এটা একটা অধঃপতিত সমাজের নমুনা; যদি আপনার এমনটা মনে হয়, তা হলে আমি বলব আপনি মানসিক নির্যাতনের শিকার।’’
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে এসে নিজের ভাবনা প্রকাশ করতেই আয়োজকের তরফ তাঁকে বলা হয়, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিয়মকানুন ভিন্ন হয় এবং তিনি কাউকে তার ইচ্ছামতো কিছু করা থেকে আটকাতে পারেন না। জবাবে ইমতিয়াজট বলেন, “কাউকে আটকানোর বিষয় এটা নয়। আমার চারপাশের মানুষদের ক্ষেত্রে আমার ভাবনাটা এমন নয়। আমি তো কারও বাড়ি গিয়ে কিছু বারণ করছি না। বরং আমি মনে করি, সামাজিক জীব হলে সহনশীলতা ও সংযম থাকা উচিত। তবে আজকাল মনে হয়, সবাই চরমপন্থী। আলোচনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি আপনার শত্রু নই।”
ইমতিয়াজ় তাঁর ছবিতে যখনই কোনও নারী চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছেন সে ‘রকস্টার’-এর হির হোক কিংবা ‘তামাশা’র তারা— প্রত্যেকেই অসম্ভব স্বাধীনচেতা। তাই নারীদের পর্দানসীন রাখার পক্ষপাতী নন তিনি। যদিও সাম্প্রতিক সময় ছোটপর্দার অভিনেত্রী সানা খান ধর্মীয় কারণে অভিনয় ছাড়ার যুক্তি দিয়েছেন। এমনকি, তিনি এ-ও বলেছেন, হিজাব পরার পর তিনি নাকি বুঝেছেন, অতীতে ছোট পোশাক পরে কতটা অপরাধ করেছেন। শুধু সানা নন, বোরখায় মুখ ঢেকেছেন ‘দঙ্গল’-খ্যাত অভিনেত্রী জ়ায়রা ওয়াসমিও।