×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৩ মে ২০২১ ই-পেপার

ইনস্টা-ডেবিউ বেশি জরুরি হালফিল তারকা-সন্তানদের

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৬:৫৮
 নব্যা, খুশি ও শানায়া।

নব্যা, খুশি ও শানায়া।

যুগটাই বিপণনের। দৌড়ে টিকে থাকার জন্য ভাল ছবি পাওয়া ও অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করা নিঃসন্দেহে জরুরি। কিন্তু তারও আগে দরকার, জনমানসে ব্যক্তি-ইমেজ গড়ে তোলা। সোশ্যাল মিডিয়ার উপর এখন সেই গুরুদায়িত্ব। হালফিল তারকা-সন্তানদের কিছু পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিচ্ছে, বড় পর্দায় মুখ দেখানোর আগেই তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়া স্টার হয়ে উঠতে প্রস্তুত।

গত বছর ডিসেম্বরে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘পাবলিক’ করেন বনি কপূরের ছোট কন্যা খুশি এবং অমিতাভ বচ্চনের দৌহিত্রী নব্যা নভেলি নন্দা। বংশকৌলীন্যের কারণে এই তারকাসন্তানদের নিয়ে দর্শকের কৌতূহল কম নয়। কিন্তু ইনস্টাগ্রামে অ্যাক্টিভ থাকলেও, তাঁদের ব্যক্তিজীবনে উঁকিঝুঁকির অনুমতি ছিল না জনসাধারণের। ‘প্রাইভেট’ থেকে ‘পাবলিক’ হওয়ার তাগিদের পিছনে কাজ করছে ইন্ডাস্ট্রির কয়েকটি সমীকরণ।

এই বছর জানুয়ারিতে এক সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকারে বনি কপূর জানিয়ে দেন, খুব শিগগির খুশির প্রথম ছবির ঘোষণা হবে। তবে বড় মেয়ের মতো ছোট মেয়েকেও নিজের ব্যানারে লঞ্চ করবেন না বনি। খুশির ইনস্টা-অ্যাকাউন্ট পাবলিক করার সঙ্গে এই ঘটনাটির যোগ কাকতালীয় নয়। গত বছর থেকেই খুশির প্রথম ছবির জল্পনা নিয়ে সরগরম ছিল সংবাদমাধ্যম। তাই বুঝতে অসুবিধে হয় না, বাবার ঘোষণাকে মাথায় রেখেই খুশির এই পদক্ষেপ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ার বাড়ানোর সঙ্গে জড়িয়ে আর্থিক লেনদেন ও ব্র্যান্ড এনডর্সমেন্টের নানা সমীকরণ। প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র এখন যে, প্রথম ছবি মুক্তির আগে থেকেই সেই হিসেবনিকেশ বুঝে নিতে হয়।

Advertisement

নব্যার ছবিতে আসার জল্পনাও ইন্ডাস্ট্রিতে কমবেশি শোনা যায়। মা শ্বেতা নন্দার ফ্যাশন লেবেলের জন্য মডেলিং করেছেন তিনি। এই মুহূর্তে ছবিতে না এলেও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক ও উদ্যোগমূলক কাজে হাতেখড়ি হয়ে গিয়েছে নব্যার। তাই হয়তো তাঁর ইমেজ ‘পাবলিক’ করার প্রয়োজন বেড়েছে। নব্যার ইনস্টা-পোস্ট জুড়ে তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কাটানো খুশির মুহূর্ত।

এই গার্ল গ্যাংয়েরই আর এক সদস্য সঞ্জয় কপূরের কন্যা শানায়া। ধর্মা প্রোডাকশনসের ‘গুঞ্জন সাক্সেনা—দ্য কার্গিল গার্ল’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন শানায়া। বন্ধুদের দেখেই হোক বা নিজের প্রয়োজনে, গত জানুয়ারি মাসে তিনিও তাঁর ইনস্টা-অ্যাকাউন্ট ‘পাবলিক’ করেছেন। মেয়ের ইনস্টা-উপস্থিতির সদর্প ঘোষণা নিজের অ্যাকাউন্টে করেছিলেন সঞ্জয়। অর্থাৎ এই তারকা-কন্যাদের ইমেজ তৈরিতে তাঁদের বাবা-মায়েরাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। শানায়ার ইনস্টা-ফিড জুড়ে মেকআপ, ফিটনেস ও বাহারি সাজের নানা ছবি।

শাহরুখ খানের কন্যা সুহানা অবশ্য প্রোফাইল পাবলিক করেছিলেন গত বছর মার্চ মাসে। তাঁরও আগে তিনি ফিচারড হয়েছেন একটি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে। এই গার্ল গ্যাংয়ের বন্ধুত্বের রসায়ন তাঁদের মিলেনিয়াল ফলোয়ারদের কাছে এখন বড় চর্চার বিষয়।

প্রোফাইল পাবলিক-প্রাইভেটের লুকোচুরিতে ধরা পড়ে তারকা মনের অব্যক্ত বোঝাপড়া। যেমন, শাহিদ কপূরকে বিয়ে করার পরেই নজরে আসেন মীরা রাজপুত। বিয়ের পরে প্রথম কয়েক মাসে তাঁর অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট থাকলেও, পরে তা পাবলিক করেন তিনি। এখন মীরা পুরোদস্তুর সেলেব্রিটি, অনেক ব্র্যান্ডের এনর্ডসও করেন। অন্য দিকে, ইন্ডাস্ট্রির অনেকেরই কাছের বন্ধু বরুণ ধওয়নের স্ত্রী নাতাশা দালাল। কিন্তু এখনও তাঁর প্রোফাইলটির সেটিং প্রাইভেট।

খুশি, নব্যা, শানায়া, সুহানার ইন্ডাস্ট্রিতে পাকাপাকি পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যাবে তুলনা। কিন্তু ইনস্টাগ্রামে একটা বিশ্বাসযোগ্য ইমেজ গড়ে তুললে কিছুটা লাভ পেতে পারেন তারকা-কন্যারা।



Tags:

Advertisement