Advertisement
E-Paper

স্বরূপদার ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড লাগে না, দাদা তাই এই স্বাস্থ্যবিমার মর্ম বোঝেন না: দেব

স্ত্রীর স্টেন্ট বসবে। শনিবার ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড করিয়ে , এই দিন থেকেই পরিষেবা পেলেন এক টেকনিশিয়ান।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৪:৪৭
টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় দেব।

টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় দেব। নিজস্ব চিত্র।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে টলিউড কি দেব আর স্বরূপ বিশ্বাস— এই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ল? টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় ‘স্বাস্থ্যসাথী’র নাম নথিভুক্ত করার উদ্যোগে উপস্থিত সাংসদ-অভিনেতা দেব। সেখানেই তিনি স্পষ্ট বললেন, ‘‘স্বরূপদার স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের প্রয়োজন নেই। ওঁর অনেক উপার্জন। তাই টেকনিশিয়ানদের প্রয়োজন উনি বুঝবেন না।’’

টোকনিশিয়ানদের সঙ্গে জুটিতে কোয়েল-দেব।

টোকনিশিয়ানদের সঙ্গে জুটিতে কোয়েল-দেব। নিজস্ব ছবি।

শনিবার সকাল থেকে সাজো সাজো রব স্টুডিয়ো চত্বরে। বেলা গড়াতেই টেকনিশিয়ানদের ভিড় বেড়েছে। যদিও অভিযোগ, শুক্রবার নাকি সমস্ত গিল্ড-এর সদস্যদের ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস নিজে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডে নাম নথিভুক্তকরণ প্রকল্পে যোগ না-দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এ-ও নাকি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে, যাঁরা যাবেন তাঁদের কাজ কেড়ে নেওয়া হতে পারে। আনন্দবাজার ডট কম-কে এর আগে স্বরূপ এ-ও বলেছিলেন, ‘‘আগের স্বাস্থ্যবিমায় বেশি সুযোগ-সুবিধা ছিল।’’ এ দিন এই প্রসঙ্গেও জবাব দেন দেব। হাসতে হাসতে বলেন, ‘‘আগের স্বাস্থ্যবিমাও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছিলেন। ‘স্বাস্থ্যসাথী’ও তিনিই করেছেন। স্বরূপদার দাদা অরূপ বিশ্বাস রাজ্য সরকারের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী। স্বরূপদা নিজেও সরকারের সঙ্গে যুক্ত। তার পরেও কী করে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর নিন্দা করছেন? ‘স্বাস্থ্যসাথী’কে খারাপ বলছেন?’’ তিনি এ-ও জানান, স্বরূপ বিশ্বাস 'স্বাস্থ্যসাথী'র উপকারিতা না বুঝলে ওঁর দাদা মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বুঝিয়ে দেবেন।

দেব এ দিন ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ফেডারেশন সভাপতিকেও। এ ব্যাপারে স্বরূপ আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছেন, নাম নথিভুক্তকরণ অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকছেন না। তিনি এও বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আপনাদের আগেই যা বলার বলেছি। নতুন করে কিছু বলার নেই।’’

দেব আর লীনা গঙ্গোপাধ্যায়।

দেব আর লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। নিজস্ব ছবি।

এ দিন টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড করাতে আসেন পরিচালক-অভিনেতা সুদেষ্ণা রায়, অভিজিৎ গুহ, মঞ্চ-পর্দার বর্ষীয়ান অভিনেতা এবং আর্টিস ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়-সহ অনেকেই। প্রত্যেকে ধন্যবাদ জানান দেবকে। শান্তিলাল পরে বলেন, ‘‘আর্টিস্ট ফোরাম মিলিয়ে ১১ হাজার টেকনিশিয়ান। অনেক জনের স্বাস্থ্যবিমা নেই। তাঁরা এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হবেন।’’ একই কথা শোনা গিয়েছে টেকনিশিয়ানদের কথাতেও। প্রসঙ্গত, এ দিন ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে নাম তুলিয়েই তার পরিষেবা পেলেন এক টেকনিশিয়ান। তাঁর স্ত্রীর শরীরে স্টেন্ট বসবে। ওই টেকনিশিয়ান বলেন, ‘‘আমার কোনও স্বাস্থ্যবিমা ছিল না। স্ত্রীর চিকিৎসা আটকে গিয়েছিল। আমার কত বড় উপকার হল সেটা আমিই জানি।’’

পরিচালকজুটি সুদেষ্ণা রায়, অভিজিৎ গুহ।

পরিচালকজুটি সুদেষ্ণা রায়, অভিজিৎ গুহ। নিজস্ব চিত্র।

এ দিন টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভায় শাসক দলের প্রার্থী তথা অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তিনিও এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘‘টেকনিশিয়ান ছাড়া আমরা কিচ্ছু না। ওঁরা সুস্থ থাকলে, ভাল থাকলে তবেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি।’’ প্রসঙ্গত, এ দিন নাম নথিভুক্তকরণকে দু’টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছিল। একটি ফর্মে নতুনদের নাম তোলার সুযোগ দেওয়া হয়। যাঁদের পরিবারে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ রয়েছে, সেই কার্ডের সঙ্গে টেকনিশিয়ানের নাম জুড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল দ্বিতীয় ফর্মে।

‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এ ভাবেই কি বিধানসভা নির্বাচনের আগে টলিউড ভাগ হয়ে গেল দেব এবং স্বরূপ বিশ্বাস— এই দুই শিবিরে? প্রশ্নের জবাবে দেব বলেন, ‘‘এই প্রকল্প দেব বা স্বরূপ বিশ্বাসের নয়। এটি সরকারি প্রকল্প। টেকনিশিয়ানদের মঙ্গল চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাতারাতি ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’’ স্বরূপ অবশ্য এ বিষয়ে কোনও কথা বলতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এটা আপনারাই ভাল বলতে পারবেন। আমি কোনও মন্তব্য করব না।’’

Dev Swastha Sathi Card Swarup Biswas
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy