সমকামিতা নিয়ে সেলেব্রিটিদের মধ্যে যে এখনও যথেষ্ট অস্বস্তি আছে তা ফের প্রমাণিত হল। ‘দোস্তানা টু’ ঘোষণা করে দিলেও কাস্টিং চূড়ান্ত করতে পারেননি কর্ণ জোহর। সমকামী চরিত্র করতে হবে শুনে পিছিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। 

মাসখানেক আগে শকুন বত্রার পরিচালনায় ‘দোস্তানা টু’ ঘোষণা করেন কর্ণ। কার্তিক আরিয়ান এবং জাহ্নবী কপূর থাকছেন। কিন্তু তৃতীয় চরিত্র নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, কাহিনি অনুযায়ী কার্তিক এবং জাহ্নবী ভাই-বোন। দু’জনে একই পুরুষের প্রেমে পড়ে এবং তা নিয়েই নানা বিপত্তি। কিন্তু আসল বিপত্তি বেধেছে সেই চরিত্রের মুখ খুঁজে পেতে। হৃতিক রোশন, সিদ্ধার্থ মলহোত্র, শাহিদ কপূর, রাজকুমার রাও, দিলজিৎ দোসাঞ্জ— এত জনের কাছে প্রস্তাব গিয়েছে এবং প্রত্যেকেই নানা কারণ দেখিয়ে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। প্রশ্ন উঠতে পারে ‘দোস্তানা’ করার সময়ে তো এত সমস্যা হয়নি। আসলে সেখানে জন আব্রাহাম বা অভিষেক বচ্চন গে ছিলেন না, ভান করেছিলেন মাত্র। একই সমস্যা দেখা দিয়েছিল ‘কপূর অ্যান্ড সন্‌স’-এর সময়ে। ফওয়াদ খানের চরিত্রটি অনেকেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। 
হৃতিক কী কারণে চরিত্রটি ফিরিয়ে দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। মনে করা হচ্ছে, তিনি সোলো লিড ছাড়া রাজি নন। ‘অর্জুন রেড্ডি’তে শাহিদের চরিত্রটি নিয়ে ইতিমধ্যেই এত বিতর্ক হয়েছে যে, অভিনেতা এখন সমকামীর চরিত্রে অভিনয় করার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। অনেক দিন পরে হিটের মুখ দেখেছেন অভিনেতা। স্রেফ আইক্যান্ডি রোল করতে চাইছেন না শাহিদ। কর্ণর ছবিতে রাজি হয়েছিলেন রাজকুমার রাও। তাঁর কোনও ছুতমার্গ নেই। তবে ১৩ কোটি টাকা হেঁকেছেন রাজকুমার, যা দিতে রাজি নন নির্মাতারা। এই ছবিটির বাজেটও খুব বেশি নয়। প্রথম ছবির শুটিং হয়েছি মায়ামিতে। এ বারের প্রেক্ষাপট দেশের ছোট শহর।

প্রস্তাব গিয়েছিল সিদ্ধার্থ মলহোত্রর কাছেও। তবে বর্তমানে সিদ্ধার্থ আর কর্ণের সম্পর্ক খুব একটা ভাল যাচ্ছে না। সিদ্ধার্থ মনে করেন, জোরালো চরিত্রে তাঁকে কাস্ট করেন না কর্ণ। ঝরতি-পড়তি চরিত্রই নাকি তাঁকে গছানো হয়! শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব গিয়েছিল দিলজিৎ দোসাঞ্জের কাছে। তিনিই একমাত্র স্পষ্ট করে জানান, সমকামী চরিত্রে অভিনয় করতে তাঁর আপত্তির কথা।
‘দোস্তানা টু’র এই জটিলতা বলে দিচ্ছে, সমকামিতা নিয়ে বলিউডের উদার মনোভাবের অনেকটাই বোধহয় সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখনদারি। বাস্তবের দোস্তানা দূর অস্ত!