জোরদকমে দ্বিতীয় প্রস্তের শুটিংয়ের কাজ চলছে। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ক্যামেরায় চোখ রাখছেন ৮৯ বছরের তাজা ‘যুবক’ বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। খবর, শেষ পর্যায়ের শুটিং চলছে। আগামী প্রজন্মের সঙ্গে ভারতীয় বিপ্লবীদের পরিচয় করানোর দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি, তাঁর আগামী ছবি ‘অগ্নিযুগ: দ্য ফায়ার’-এর মাধ্যমে।
বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, এই ছবিতেই শেষ কাজ ধর্মেন্দ্রের। ছবি: সংগৃহীত।
শেষ পর্যায়ের শুটিং শুরুর খবর পেয়ে বর্ষীয়ান অভিনেতা-পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। শুটিংয়ের ফাঁকে তিনি বলেন, “নিজের চোখে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন দেখেছি। হিন্দু-মুসলিমের হিংসা দেখেছি। রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম দেখেছি। বিপ্লবীদের আত্মত্যাগে আমিও উদ্বুদ্ধ। অনেক দিনের ইচ্ছে তাঁদের কথা বড়পর্দায় তুলে ধরব। সেটাই করছি।” তার পরেই আফসোস করে জানিয়েছেন, তাঁর ছবিতে লালা লাজপত রায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন প্রয়াত অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। তাঁর কথায়, “আমার অনেক দিনের বন্ধু। ছবির গল্প আর ওঁর চরিত্রের কথা জানাতেই রাজি। মন ঢেলে অভিনয় করে গেলেন। আমার ছবিতেই তাঁর শেষ কাজ। অথচ নিজের কাজ নিজেই দেখে যেতে পারলেন না।”
অভিনয় করেছেন মধু, অনুপম খের। ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্বজিতের এই ছবি রীতিমতো তারকাখচিত। ধর্মেন্দ্র ছাড়াও এই ছবিতে অভিনয় করেছেন জ্যাকি শ্রফ। এই ছবি দিয়ে অনেক বছর পরে পর্দায় ফিরছেন ‘রোজ়া’-খ্যাত মধু। এর আগে বিশ্বজিৎ জানিয়েছিলেন, ‘ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী সায়গল’-এর ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। ছবিতে থাকবেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। তাঁর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অনুপম খের। অনুপম এই প্রথম আন্তর্জাতিক মানের বাঙালি কবির চরিত্রে অভিনয় করছেন।
এ ছাড়া, এই ছবি দিয়ে বড়পর্দায় বড় করে পা রাখতে চলেছেন বিশ্বজিৎ-কন্যা শাম্ভবী চট্টোপাধ্যায়। ছবির প্রযোজক অভিনেতা-পরিচালক পত্নী ইরা চট্টোপাধ্যায়। বিশ্বজিৎ জানিয়েছেন, ‘নেতাজি’ চরিত্রে থাকছে বড় চমক। তাই এখনই অভিনেতার নাম জানাতে চাইছেন না তিনি।
জ্যাকি শ্রফ এবং বড়পর্দার ‘নেতাজি’। ছবি: সংগৃহীত।
প্রসঙ্গত, ছবিটি একাধিক ভাষায় রচিত হবে। যেমন, তামিল, তেলুগু, মলায়লম ছাড়াও বিদেশি ভাষা ইংরেজিতেও ডাব হবে। কুমার শানুর কণ্ঠে শোনা যাবে কবিগুরুর বিখ্যাত গান, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’। রবীন্দ্রনাথের উপরে গানটি ব্যবহৃত হবে। আরও নানা দৃশ্যেও শোনা যাবে গানটি। গানের অর্থ একলা চলার মন্ত্রই ছবিতে ধ্বনিত হবে। থাকবে জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ড এবং কবিগুরুর ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ। এ ছাড়াও আবহে ব্যবহার করা হবে ‘বন্দেমাতরম’, ‘কদম কদম বঢ়ায়ে জা’।