১৬ জুন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিন। তাঁর এক দিন আগে মেয়ে দিশানী চক্রবর্তীর বাগ্দানের খবর প্রকাশ্যে। দিশানীর বয়স ২৫। থাকেন লস অ্যাঞ্জেলেসে। ছোট থেকে অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছে তাঁর। সেখানেই নিউ ইয়র্ক ফিল্ম অ্যাকাডেমিতে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। আমেরিকাতেই বাগ্দান সারলেন মিঠুনকন্যা।
আরও পড়ুন:
সমুদ্রসৈকতের ধারে পাহাড়ের টিলা। সেখানেই মোমের আলোয় সাজানো চারিদিক, সাদা পোশাকে দাঁড়িয়ে দিশানী। হাতে মস্ত হিরের আংটি। হাঁটু মুড়ে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন দীর্ঘ দিনের প্রেমিকা মাইল্স ম্যান্টজ়ারিস। তিনি হলিউডে কর্মরত। পেশাগত দিকে থেকে সিনেমার ‘কালারিস্ট’ ও চিত্রগ্রহণের কাজ করেন তিনি। হবু স্বামীর ছবি দিয়ে দিশানী লেখেন, ‘‘আমার জীবনের সহজতম ‘হ্যাঁ’।’’ দিশানী ও মাইল্স বাগ্দান সেরেছেন জুন মাসের ১২ তারিখে।
মিঠুনের পরোপকারী চরিত্রের কথা অনেকেই জানেন। মিঠুন ও যোগিতা বালী বিয়ে করেন ১৯৭৯ সালে। তাঁদের তিন পুত্রসন্তান — মিমো, উষ্মে ও নমোশি। তিন পুত্রের পরে কন্যাসন্তানের বাবা হন মিঠুন। দিশানীকে তিনি দত্তক নিয়েছিলেন। বহু বছর আগেকার কথা। কলকাতার রাস্তা থেকে এক শিশুকন্যাকে দেখতে পান কয়েক জন পথচারী। খবর যায় পুলিশের কাছে। উদ্ধার করা হয় ওই শিশুটিকে। রাখা হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দায়িত্বে। খবর এসে পৌঁছোয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর কানে।
অভিনেতা বেশ কয়েক বছর আগে জানিয়েছিলেন, খবরটি পেয়ে মনের মধ্যে কেমন যেন একটা অস্থিরতা তৈরি হয় তাঁর। থাকতে না পেরে সে দিনই ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। ওই শিশুকে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মিঠুন এবং তাঁর স্ত্রী যোগিতা বালী। দিশানীকে দত্তক নেওয়া নিয়ে নাকি বিস্তর আইনি ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল অভিনেতাকে। তবুও তিনি হার মানেননি। দিশানী বরাবরই বাবার জুতোয় পা গলাতে চেয়েছেন। সে ভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। অনেক দিন ধরেই বলিউডে দিশানীর আত্মপ্রকাশের খবর শোনা যাচ্ছে। যদিও কোন সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে তাঁকে দেখা যাবে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও খবর মেলেনি।