তরুণ মজুমদারের ‘বালিকা বধূ’ ছবির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ। সালটা ১৯৬৭। এই সিনেমা মুক্তির পর রাতারাতি যেন তারকা হয়ে ওঠেন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় থেকে একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব পেতে শুরু করেন মৌসুমী। বাড়ির সামনে নাকি প্রায়ই লাইন থাকত পাত্রপক্ষের। অবশেষে ১৯৭২ সালে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পুত্র জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। সেই সময়ে মৌসুমীর বয়স ছিল মাত্র ১৫। সিনেমার মতো বাস্তবে জীবনেও কেন নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে করতে হয় তাঁকে?
আরও পড়ুন:
মৌসুমী বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে একাধিক বার নিজের বাল্যবিবাহ থেকে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে মুখ খুলেছেন। যখন তাঁর বিয়ে হয়, সেই সময়ে দশম শ্রেণিতে পড়ছেন মৌসুমী। সেই অল্প বয়সেই কলকাতা ছে়ড়ে মুম্বই চলে আসেন তিনি। মৌসুমী একাধিক বার জানিয়েছেন, অচেনা শহর মুম্বইয়ে তাঁর শ্বশুর হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ছিলেন তাঁর বাবা, তিনিই ছিলেন তাঁর মা। তবে নাবালিকা অবস্থায় তাঁর বিয়ে হওয়ার নেপথ্যে ছিলেন মৌসুমীর বড়পিসি।
মৌসুমী বলেন, ‘‘ আসলে ‘বালিকা বধূ’ মুক্তির পর যেন সকলেই আমাকে তাঁদের পুত্রবধূ করতে চাইছিলেন। বাড়ির বাইরে পাত্রপক্ষের লম্বা লাইন থাকত প্রায় সময়। এ দিকে আমি বাড়ির আদুরে মেয়ে। আমার সব দাবিদাওয়া, সব রকমের শখ মেটাতেন আমার বড়পিসি। হঠাৎই বড়পিসির ক্যানসার ধরা পড়ে। তিনি আমার হবু শ্বশুরের হাতটা ধরে বলেন, তাঁর শেষ ইচ্ছা আমার বিয়েটা দেখে যাবেন। তাঁর ইচ্ছামতোই মাত্র এক মাসের মাথায় সব কিছু হয়ে গেল। আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। তার পর মুম্বই চলে এলাম।’’ মৌসুমী জানান, মুম্বই এসে কখনও একাকিত্ব বোধ করেননি তিনি। তাঁর স্বাচ্ছন্দ্যের সব ধরনের খেয়াল রাখতেন তাঁর শ্বশুর।