শনিদেব, এই নামটি শুনলেই অনেকের মনেই ভীতির সঞ্চার হয়। কিন্তু শাস্ত্রে শনিদেবকে কর্মফলদাতা বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ, যিনি যেমন কাজ করেন, তিনি তেমন ফলই পান। বলা হয়, জীবনে শনিদোষ, সাড়েসাতি বা ঢাইয়ার প্রভাব শুরু হলে দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এটি শুভ ফলও দেয়। কিন্তু কেউ কুপ্রভাবের কবলে পড়লে তা থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য শনিকে তুষ্ট করতে হয়। এই কাজে শনিজয়ন্তীকে বিশেষ পবিত্র দিন হিসাবে গণ্য করা হয়ে থাকে।
- শনিজয়ন্তী কবে?
জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে শনিজয়ন্তী পালিত হয়। এই বছর জ্যৈষ্ঠ্যের ১ তারিখ, ইংরেজি ১৬ মে, শনিবার পালিত হবে শনিজয়ন্তী। পুরাণ অনুসারে, বিশেষ এই তিথিতে তেল অর্পণ করলে শনিদেব প্রসন্ন হন। তবে সে ক্ষেত্রে সঠিক রীতি পালন করা জরুরি।
আরও পড়ুন:
- কোন তেল ব্যবহার করবেন?
গ্রহরাজকে সর্ষের তেল বা তিলের তেল অর্পণ করাই শ্রেয়।
- তেল অর্পণের নিয়ম:
শাস্ত্রে সরাসরি শনিদেবের চোখের দিকে তাকানোয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁর একেবারে সামনেও দাঁড়ানো উচিত নয়। শনিজয়ন্তীর সন্ধ্যায় কোনও শনিমন্দিরে গিয়ে এই আচার পালন করার কথা বলা হচ্ছে। একটি পরিষ্কার কাঁসা বা লোহার পাত্রে তেল নিয়ে প্রথমে সেই তেলের মধ্যে নিজের মুখ দেখুন। এর পর শনিমূর্তির পায়ের বুড়ো আঙুলে এক ফোঁটা তেল ছুঁয়ে নিন। সব শেষে সেই তেলভর্তি বাটি শনিদেবের পায়ের কাছে অর্পণ করার নির্দেশ রয়েছে জ্যোতিষশাস্ত্রে।
আরও পড়ুন:
- মন্ত্র: তেল অর্পণের সময় ‘ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ’ অথবা ‘ওঁ প্রাং প্রীং প্রৌং সঃ শনৈশ্চরায় নমঃ’ মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই বিধিগুলি মেনে তেল অর্পণ করলে এবং শনিদেবের কাছে শুদ্ধ মনে প্রার্থনা জানালে যে ব্যক্তি শনিদোষ, সাড়েসাতি বা ঢাইয়ার কবলে পড়েছেন, তাঁর প্রতি গ্রহরাজ দয়াপরবশ হবেন।