গাজী আব্দুন নূর-দিতিপ্রিয়া। মানে রাজচন্দ্র-রাসমণি। ‘করুণাময়ী রানী রাসমণি’ ধারাবাহিকের নায়ক-নায়িকা। গল্পে সারাক্ষণ একে অন্যের সহযোগী। তাঁদের রসায়ন জনপ্রিয়। কিন্তু শুটিংয়ের অবসরে তাঁদের সম্পর্ক কেমন?

প্রশ্ন শুনেই মুচকি হাসলেন নূর। বললেন, ‘‘দিতিপ্রিয়া আমার থেকে ছোট। ওর সঙ্গে প্রথম দিকে বছরখানেক প্রায় কথাই হত না। ও লেগপুল করত, বাচ্চা বলে আমি এড়িয়ে যেতাম। তারপর আমিও লেগপুল করতে শুরু করি। ও এক বার রেগে গেলে সেটা অনেক দিন কন্টিনিউ করে। ও-ও ভোলে না, আমিও ভুলি না। তিন দিন, এমনকি দশ দিন পর্যন্তও রাগ ধরে রাখে। বেশ মজা পাই আমি। অথচ ওর বয়সের অন্য সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে প্রথম থেকেই বেশ কথা চলে।’’

নূরের উপলব্ধি: ‘‘কিন্তু আমরা দু’জন ক্যামেরার সামনে যখন দাঁড়াই অদ্ভুত একটা কেমিস্ট্রি তৈরি হয়। অথচ শুটিংয়ের ফাঁকে সামান্য ‘হাই’, ‘হ্যালো’ ছাড়া আমরা কিছুই বলতাম না। কিন্তু দর্শক এটা কখনও ধরতেই পারেননি। বরং আমাদের কেমিস্ট্রি তাঁদের খুব পছন্দ। নিজেরাই অবাক হয়ে যেতাম যে এটা কী করে সম্ভব হচ্ছে। আসলে দিতিপ্রিয়া এত ভাল পারফর্মার, চটজলদি যে কোনও ইমোশনে ঢুকে পড়তে পারে। যে কোনও সহ-অভিনেতার সঙ্গে টিউনড হয়ে যেতে পারে। এটা ওর জন্যই সম্ভব হয়েছে। তবে লাস্ট কিছু দিন হল আমাদের অফ স্ক্রিন সম্পর্ক আগের থেকে একটু ভালর দিকে।’’

দেখুন, বিনোদনের নানা কুইজ

‘রাসমণি’ যোগ করলেন, ‘‘এমনিতে তো ভাল সম্পর্ক। কিন্তু বিষয়টা হচ্ছে, অন স্ক্রিন যতটা ভাল, অফ স্ক্রিন ততটা ভাল নয়। আমার আর নূরের মেন্টালিটি কোনও ভাবে ম্যাচ করে না, সবসময় বিতর্ক হতেই থাকে। আমরা কথা খুব কম বলি। যদি বা বলি সেটা ডিবেটের পর্যায়ে চলে যায়। কিছু না কিছু তর্ক চলতেই থাকে। নূর আমাকে ডান দিকে যেতে বললে আমি বাঁ দিকে যাই আর আমি ওকে বাঁ দিক বললে ও যায় ডান দিক। শুটের পর যখন পরিচালক ‘কাট’ বলেন, আমরা নর্থ পোল-সাউথ পোল হয়ে যাই। আবার শুটের সময় সব ঠিকঠাক। এ রকম সম্পর্ক আমাদের! তা হলেই বুঝুন, টম আর জেরি মার্কা একটা সম্পর্ক।’’


আমার আর নূরের মেন্টালিটি কোনও ভাবে ম্যাচ করে না, বলছেন দিতিপ্রিয়া।

মৃদু হাসেন তিনি। স্টুডিওপাড়ায় শোনা যাচ্ছে তাঁরা নাকি একসঙ্গে বেরিয়েছেন। রাসমণির কাছে জানতে চাওয়া হল, আপনারা নাকি একসঙ্গে বেরিয়েছেন? দিতিপ্রিয়া বললেন, ‘‘হ্যাঁ। একটা রেস্তরাঁয়। কিন্তু সেটাও কোইন্সিডেন্টাল। আগে থেকে কিছু ঠিক ছিল না। কী করেছি, কী খেয়েছি ভুলে গেছি।’’

নূর কী বলছেন এ বিষয়ে? প্রশ্ন শুনেই হেসে ফেললেন, ‘‘আরে, সে তো কাকিমা (দিতিপ্রিয়ার মা সুদীপ্তা রায়) আমাকে বাড়ি থেকে জোর করে নিয়ে গিয়েছিলেন। দিতিপ্রিয়াও ছিল। যেহেতু আমার মা এখানে থাকেন না, আমি একা থাকি, কাকিমা সেটা খেয়াল রাখেন। সে দিন খুব ভাল সময় কাটিয়েছি আমরা তিনজন।’’

আরও পড়ুন, ‘আমি ভাগ্যবান #মিটু ফেস করিনি, কিন্তু কেন ভাগ্যবান বলব বলুন তো?’

তা হলে? বরফ গলছে ক্রমে ক্রমে?

নূর যোগ করলেন, ‘‘এত দিন একসঙ্গে কাজ করে ফেললাম, বছর দেড়েক, এ বার তো সম্পর্ক ভাল হওয়াই উচিত। আফটার অল স্টুডিয়োই আমাদের ঘরবাড়ি। সারাদিন তো সেটেই থাকি। একটা পরিবারের মতোই হয়ে গেছি আমরা। পুরো শুটিং টিমের সঙ্গেই আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক।’’

(টলিউডের প্রেম, টলিউডের বক্স অফিস, বাংলা সিরিয়ালের মা-বউমার তরজা -বিনোদনের সব খবর আমাদের বিনোদন বিভাগে।)