আপনি তো জামশেদপুরের মেয়ে?

হুম…। বাবা-মা এখনও জামশেদপুরেই থাকেন। ফলে এখনও যাতায়াত রয়েছে আমার। আর জামশেদপুরে ছোটবেলাটা খুব ভাল ছিল আমার। বন্ধুরাই জীবন ছিল তখন। স্কুলে, বাড়িতে দেখা হত বন্ধুদের সঙ্গে।

বাঙালি বন্ধু ছিল?

ছিল তো। আরে, আমি তো পুজো প্যান্ডেলে নাচতেও যেতাম…। হা হা হা…।

তা হলে বাংলা বলতেও পারেন নিশ্চয়ই?

না। খুব কম শব্দ জানি বাংলার। আর এখন তো আউট অব প্র্যাকটিস।

অঙ্ক নিয়ে তো পড়াশোনা করেছেন?

হ্যাঁ, কলেজে অঙ্ক নিয়ে পড়েছি। তার পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে নাটকের পরিবেশ আছে। অনেক নাটক দেখেছি ওখানে পড়তে পড়তে। তখন হঠাত্ই মনে হয়েছে, এই জগত্টা তো আমি দেখিনি। সে সময় অনামিকা হাকসরের সঙ্গে কাজ করেছিলাম। খুব জনপ্রিয় নাট্যব্যক্তিত্ব উনি। দারুণ লেগেছিল।

আরও পড়ুন: হবু স্ত্রীর সঙ্গে অম্বানী-পুত্রের তুমুল নাচ, ভাইরাল ভিডিয়ো

তখন থেকেই কি অভিনয়কে কেরিয়ার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

না না। ছোট শহর থেকে দিল্লি গিয়েছিলাম। কোনওদিনই অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার করব ভাবিনি। ভেবেছিলাম, কলেজে অভিনয় করছি। ভাল লেগেছে, মজা হয়েছে। আরও কিছু কাজ করব হয়তো। কিন্তু কেরিয়ার করব ভাবিনি।

তার পর?

তার পর মাস কম নিয়ে একটা কোর্স করি। তখন ছবির জগতে ঢুকি। তবে অভিনয়ে কেরিয়ার শুরু করার ক্ষেত্রে ‘পথের পাঁচালী’র একটা বড় ভূমিকা আছে।

রসিকা দুগ্গলের অনুপ্রেরণা বাঙালি পরিচালকরাই।

তাই?

এখনও মনে আছে, প্রথম যখন সিনেমাটা দেখেছিলাম, কোনও কথা বলতে পারিনি। আসলে ছবিটাই এমন যে মাথায় থেকে যায়। ‘মেঘে ঢাকা তারা’ও তাই। এফটিআই-তে ‘ঘটক’ আর ‘রে’ ক্যাম্প ছিল (হাসি)। দুটো ক্যাম্পের টক্কর চলত সব সময়।

আরও পড়ুন: ২৫০ কোটি, ১৩৫ কোটি, ১০০ কোটি...বছরের শুরুতেই চার-ছক্কার বন্যা বলিউডের ব্যাটে​

আপনি কোন ক্যাম্পের ছিলেন?

(মুচকি হাসি) আমি ‘রে’ ক্যাম্পে। অপু সিরিজ বলুন বা ওঁর সব সিনেমাই দেখেছি। মজার ব্যাপার হত, এত ছবি দেখতাম আমরা। এক দিনেও ধরুন অনেকগুলো ছবি দেখছি। তার পর নিজের মতো করে নিজের মাথার মধ্যে সেটা এডিট করতাম। আসলে সিনেমা নিয়ে ভালবাসা কোথাও ছিল, সে জন্যই কেরিয়ার হিসেবে নিতে পারলাম।

২০০৭ থেকে তো প্রফেশনালি কাজ করছেন?

হ্যাঁ। এফটিআই-তে ২০০৪ থেকে ২০০৬-এর শেষ পর্যন্ত ছিলাম। তার পর ২০০৭ থেকে প্রফেশনালি কেরিয়ার শুরু করি।

আপনার কি মনে হচ্ছে ডিজিটালই ভবিষ্যত্?

এটা ঠিক যে ডিজিটালে মুভ করছে সবই। টাটা স্কাই যেমন দেখাচ্ছে বেশ কিছু শর্ট ফিল্ম। তবে শুধুই শর্ট ফিল্ম বা ওয়েব সিরিজ ভবিষ্যত্ এটা বলব না। আমি একটু ওল্ড স্কুলের। আমার সিনেমা দেখা নিয়ে রোম্যান্টিসিজম আছে। সিনেমা থাকবেই। কিন্তু কয়েক বছর পরে হয়তো সবই ডিজিটালে মুভ করে যাবে। তবে সকলে একসঙ্গে বসে সিনেমা দেখার মজাটাই আলাদা। এটা কমিউনিটির জন্যও তো গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকগুলো দিন তো কাটিয়ে দিলেন বলিউডে। এখানে টিকে থাকা কতটা কঠিন?

(জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে) খুব কঠিন। আমি মিথ্যে বলব না। কঠিন জার্নি। কিন্তু যখন মনে হবে যে যেটা করতে চান, সেটাই পেয়েছেন, তখন যত কঠিন পরিস্থিতিই হোক সেটা করতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত সারভাইভ করতে পারবেন। খুবই ইনসিকিওরড জায়গা বলিউড। প্রতি দিন আরও কঠিন হচ্ছে। স্ট্রাগলটা চলতেই থাকে আমাদের। অন্তত আমার মতো অভিনেতার কাছে স্ট্রাগলটা প্রতি দিনের।

এই যে #মিটু নিয়ে এত কথা হচ্ছে চারদিকে। আপনি কী বলবেন?

দেখুন, লোকে নিজেদের কথা বলছে। ভাল লাগছে। যারা বলছে এবং যারা বলছে না, দুই দলের প্রতিই শ্রদ্ধা রয়েছে আমার। আসলে সমাজে আমাদের তো প্রত্যেকের জন্য এমন জায়গা তৈরি করতে হবে, যাতে সকলে কথা বলতে পারে। তবে এখনও অনেকটা পথ চলতে হবে।

আপনি নিজে কখনও ইন্ডাস্ট্রিতে এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন?

এই প্রশ্ন আগেও করেছেন অনেকে। আমি প্রত্যেক বারই বলি, আমি ভাগ্যবান, এখনও এমন কিছু ফেস করতে হয়নি। কিন্তু কেন ভাগ্যবান বলব, বলতে পারেন? এটাই তো হওয়া উচিত। শুধু মেয়েরা কেন, প্রত্যেকেরই নিরাপদ অবস্থায় কাজ করার অধিকার রয়েছে। নিরাপত্তার প্রশ্ন যদি থাকে, তা হলে তো ভাল কোনও কাজই হবে না। ফলে #মিটু-র পরে পরিস্থিতি কতটা চেঞ্জ হয়েছে বলতে পারব না। তবে এটা নিয়ে কথা তো হচ্ছে। নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে সকলকে।

দেখুন, বিনোদনের নানা কুইজ