বিয়ের পর বদলে গিয়েছে অনেক কিছু।
আগে ছিলেন ‘রঙ্গোলি’-র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। এ বছর ‘রঙ্গোলি’ তাঁর পরিবার।
বিয়ের পর প্রথম পুজো। খুশি খুশি ভাব নুসরতের চোখেমুখে। যেন পাশের বাড়ির সেই মেয়ে! বিয়ের প্রথম দিনের সোনার আলো আজও তাঁর চোখেমুখে লেগে আছে।
‘‘অঞ্জলি তো নিয়ম করে প্রত্যেক বার দিই। এ বার এই প্রথম আমি আর নিখিল একসঙ্গে অঞ্জলি দেব!’’আজও লজ্জা ফুটে উঠল তাঁর মুখে। সদ্য যেন সন্ধিপুজোর পাপড়ি ছাড়িয়ে রাখা হল...
সাংসদের দায়িত্ব সামলে, ছবির কাজ সেরে যেটুকু সময় পাচ্ছেন সবটাই পরিবারকে দিচ্ছেন নুসরত।
'আমি এখন রঙ্গোলি পরিবারের এক জন। তাই এ বার পুজোয় ছবির প্রসঙ্গ যখন এল ভাবলাম আমি আমার পরিবারকে নিয়েই শুট করি। তবেই তো পূর্ণতা আসবে’’,সোহাগি গলায় বললেন নুসরত।

আরও পড়ুন- ‘মনে হচ্ছিল মহিষাসুরই বধ করবেন মা দুর্গাকে’, প্রথম বার দুর্গা হয়ে বললেন মধুমিতা...

 


নিখিল আর নুসরত ক্যামেরার কাছাকাছি। নিখিলের মুগ্ধচোখ নুসরতের মুখে আলো হয়ে ঝরল।
‘‘নিখিল যে কাজটাই করে ভীষণ গুছিয়ে করে। শুটের জন্য ওর কাছে যা যা ব্রিফ ছিল ও সেটাকে সম্পূর্ণ ফলো করে কাজটা করেছে। ও খুব বাধ্য,’’নুসরতের নিশ্চিন্ত স্বর।
কে বেশি কার কথা শোনে?
‘‘এই রে, এই বিষয়টা খুব গোলমেলে। বাড়িতে এত ব্যালান্স করে চলা যায় না। আর আমি খুব বেশি এই বিষয়ে বলতে পারব না। তবে একটা রেফারেন্স দিই। আমি ছোট থেকেই দেখেছি আমাদের বাড়িতে মা যা বলত সেটাই হত। আমি যে ভাবে মানুষ, যা ছোট থেকে দেখেছি সেটাই তো হবে! তাই না? আমার ব্যাপারটা আর বললাম না!’’হেসে উঠলেন নুসরত।

 

নিখিলের সঙ্গে নুসরত

ক্যামেরার খচখচ আওয়াজ। নিখিলের সঙ্গে একের পর এক ছবি তুললেন নুসরত।
‘‘তবে নিখিলের মধ্যে যে অভিনয়ের ব্যাপার আছে সেটা এতদিনে জানলাম!’’আপ্লুত নুসরত।
পুজোর সাজে সাবেকিয়ানা তাঁর সবচেয়ে পছন্দ।
‘‘সারা বছর তো আমরা ডিজাইনারদের পোশাক পরি। মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ।কিন্তু বাঙালির পুজো তাঁতের শাড়ি ছাড়া চলে? আমার পুজোর সাজ মানেই সোনার গয়না। খোঁপায় মালা। আর অবশ্যই ‘রঙ্গোলি’-র শাড়ি।’’ জোর গলায় বললেন নুসরত।তাঁর পছন্দ ট্র্যাডিশনাল শাড়ি।
অষ্টমীর সকাল... স্নান করে নুসরত পরবেন বাংলার তাঁতের শাড়ি! আর সন্ধেবেলা কনট্রাস্ট পাড়ের কাঞ্জিভরম সিল্ক।
‘‘সব প্রদেশের দেশজ উইভিংকে ‘রঙ্গোলি’ ধরে রাখার চেষ্টা করছে।’’উৎসাহ নুসরতের গলায়।
পুজোর পরের প্রথম বিয়ে, তাই দু’জনের নিমন্ত্রণ আছে বহু জায়গায়। ‘‘খুব একটা ঠাকুর দেখা হয় না। সময় পেলাম তো সুরুচি সঙ্ঘে চলে গেলাম। আর মিমির কমপ্লেক্সে আমাদের সকলের একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া থাকে। সেটা মিস করি না আমরা। খুব সুন্দর করে সাজি আমরা সবাই। সাবেক সাজ। জমিয়ে আড্ডা হয়।’’বললেন নুসরত।

আরও পড়ুন-‘না’ মানে যে ‘না’-ই হয়, তা অনেকেই বুঝতে চান না : তাপসী

 


সারা বছর সাঙ্ঘাতিক ডায়েটের মধ্যে থাকেন তিনি এমনটাও নয়। ‘‘আর পুজোর সময় তো একদিকে লুচি, কচুরি-তরকারি যেমন চলে তেমনই পোলাও-মাংসও খাই। পুজোয় যা ইচ্ছে তাই খাই। এমনও হয় খেয়ে পেট একদম ভরা। ওমা, আবার তার ওপরেও খেয়ে যাচ্ছি! তবে অষ্টমীর দিন আমি বরাবর নিরামিষ খাই,’’ বললেন নুসরত।
রাজনীতির দৌড়ঝাঁপ ছাড়াও ‘অসুর’-এর শুট নিয়ে ব্যস্ত তিনি। ‘‘এমন একটা ছবিতে কাজ করছি যেখানে নানা স্তরে অভিনয় দেখানোর বড় সুযোগ আছে। পাভেল একদম অন্য ধারার পরিচালক। প্রচুর ঝুঁকি নিতে পারে। অন্যরকম করে গল্প বলতে পারে। ‘অসুর’-এ আমার আর আবীরদার অভিনয় করার প্রচুর সুযোগ। বছরে একটা ছবি করব কিন্তু এইরকম করব ঠিক করেছি’’,যোগ করলেন নুসরত।