Advertisement
E-Paper

‘দেরি হোক ক্ষতি নেই! যোগ্য ব্যক্তি সম্মানিত,’ পদ্মশ্রী প্রসেনজিৎকে নিয়ে আপ্লুত ‘আপনজন’রা

“আমার মতে, ‘পদ্ম বিভূষণ’ সর্বোচ্চ সম্মান। ওটা পাওয়া মানে অবসর নেওয়ার সময় হয়েছে। দাদার অবসর নিতে এখনও দেরি আছে”, বললেন বোন পল্লবী।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০১
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে টলিউডের উচ্ছ্বাস।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে টলিউডের উচ্ছ্বাস। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সাধারণতন্ত্র দিবসের আগের রাতে টলিউড খুশিতে বিহ্বল। পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে প্রশংসার বানভাসি। প্রত্যেকের বক্তব্য, “দেরি হোক, ক্ষতি নেই।”

যাঁকে ঘিরে এত কলরব, কোলাহল— সেই প্রসেনজিৎ সংযত। খবর জানার পরে দর্শক-অনুরাগীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ‘পদ্ম’ সম্মান উৎসর্গ করেছেন তাঁদের। তাঁর ‘আপনজন’রা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আনন্দবাজার ডট কম-কে।

পল্লবী চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিতের বোন। ফোন করতেই উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বললেন, “একটু দেরি হয়ে গেল। তবে যোগ্য মানুষ যোগ্য সম্মান পেল। এতেই আমার শান্তি। দাদা তো বেশি বলে না। কোনও দিন সম্মান বা পুরস্কার পাওয়ার জন্য কাউকে ম্যানিপুলেটও করেনি। খবরটা জানাল ফোনে। ওর গলাতেও খুশির ছোঁয়া। ব্যস, এটুকুই।” পদ্মভূষণ বা বিভূষণ পেলে কি বেশি খুশি হতেন? মানতে নারাজ প্রসেনজিতের অভিনেত্রী বোন। পল্লবীর যুক্তি, “দুই কামরার ফ্ল্যাট দেখার পরে আমরা চার কামরার ফ্ল্যাট খুঁজি! এটাও অনেকটা সে রকম।” একটু থেমে যোগ করেছেন, “আমার মতে, ‘পদ্মবিভূষণ’ সর্বোচ্চ সম্মান। ওটা পাওয়া মানে অবসর নেওয়ার সময় হওয়া। দাদার অবসর নিতে এখনও দেরি আছে।”

‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ থেকে ‘বিজয়নগরের হীরে’। বোন পল্লবীর পরে খুব কাছ থেকে প্রসেনজিৎকে যদি কেউ দেখে থাকেন, তিনি প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেই শ্রীকান্ত ফিরে দেখলেন অতীত। বললেন, “বাংলা ছবির বিবর্তনের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে বুম্বাদার পথচলা। একটা সময় ছিল, যখন তিনি ইন্ডাস্ট্রিকে একা কাঁধে করে বয়ে নিয়ে গিয়েছেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাই আমাদের কাছে শুধুই অভিনেতা নন। আমাদের বড় দাদা। আমরা ওঁর ‘পরিবার’। যে কোনও ভালমন্দে ওঁকে পাশে পেয়েছি।” সেই সম্পর্ক অটুট আজও। এ বছরের সরস্বতীপুজোয় অভিনেতা ছোটদের মনোরঞ্জনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। বসন্তী পঞ্চমীতে চার বছর পরে বড়পর্দায় ফিরেছে ‘কাকাবাবু’। কাকতালীয় ভাবে তার পরেই পদ্মশ্রী সম্মান পেয়েছেন অভিনেতা। শ্রীকান্ত আনন্দিত, “বুম্বাদাকে এই স্বীকৃতি পেতে দেখে খুব গর্ব হচ্ছে। এই সম্মান তাঁর প্রাপ্য ছিল।”

আনন্দিত প্রসেনজিতের আরও এক ‘মনের মানুষ’ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। নায়কের ৫০টি ছবির নায়িকা তিনি। টলিউডের দাবি, এই সম্মান আরও আগে পাওয়া উচিত ছিল অভিনেতার। তিনিও কি এ রকমই ভাবছেন? এই ভাবনায় সায় নেই নায়িকার। তাঁর সাফ কথা, “বুম্বাদা এই সম্মান আরও আগে অবশ্যই পেতে পারত। তবে আমার মনে হয়েছে, ঠিক সময়েই ঠিক সম্মানে সম্মানিত সে।” খবর জানার পরে তিনিও উচ্ছ্বসিত। সে কথা জানিয়ে নায়িকা বললেন, “গর্ব করার মতোই বিষয়। শিল্পীজীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান পেল বুম্বাদা।” আবার এ কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, অনেক যোগ্য ব্যক্তিই এই সম্মান থেকে বঞ্চিত। প্রসেনজিৎ সেই সম্মান পাওয়ায় তিনি সহ-অভিনেতা হিসাবে ভীষণ আনন্দিত।

আনন্দের ছোঁয়া পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের কণ্ঠেও। ‘দৃষ্টিকোণ’, ‘কিশোরকুমার জুনিয়র’, ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’, ‘কাবেরী অন্তর্ধান’, ‘অযোগ্য’— কৌশিকের পাঁচটি ছবি তাঁকে নিয়ে। কী বলছেন পরিচালক? “যোগ্য প্রার্থীর অভাব নেই। কিন্তু সম্মান সীমিত। আমাদের এখানে অনেকে আছেন, যাঁরা এই সম্মানের উপযুক্ত। তাঁদের কেউ কেউ পাবেন, কেউ কেউ পাবেন না। তাই দেরিতে পেলেন কি না, তাই নিয়ে ভাবিত নই। বুম্বাদা সম্মানিত, এতেই খুশি।” পর ক্ষণেই তাঁর মত, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় যে সম্মান বা পুরস্কারপ্রত্যাশী, তা নয়। “পদ্মশ্রী বলতে বুম্বাদা সিনেমাহল (যাদবপুরের ‘পদ্মশ্রী’ প্রেক্ষাগৃহ) বুঝত এত দিন!” নিজের দূরত্ব এবং মর্যাদা রেখে, সংযত ভাবে সম্মানলাভের কথা জানিয়েছেন অভিনেতা, দাবি পরিচালকের। এই ‘সংযম’ও শেখার মতো, বক্তব্য কৌশিকের। এ-ও বলেছেন, “বাণিজ্যিক থেকে তথাকথিত সমান্তরাল ছবি— দুই ধারাতে একটানা অভিনয়। ঝুলিতে ৪০০-এরও বেশি ছবি। বুন্বাদার মুকুটেই এই পালক মানায়।”

Srikanta Mohta Rituparna Sengupta Kaushik Ganguly Pallabi Chatterjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy