গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে ভাল ফলাফলের পরেই আঁচ করা গিয়েছিল, বর্তমান শাসক দলের পথেই হাঁটবে বিজেপি। রাজ্যের সাংস্কৃতিক জগতের মানুষদের নিজেদের ছত্রচ্ছায়ায় আনার চেষ্টা করবে ভারতীয় জনতা পার্টি। অলিখিত ভাবে কিছুটা সেই প্রয়াস দেখা গেল সাম্প্রতিক এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মঞ্চে। টেলি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের আদলে বিজেপির রাজ্য ও সর্বভারতীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সম্মানিত করা হল যাত্রা, থিয়েটার, বাংলা ধারাবাহিক ও চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কৃতীদের। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকটি নাম রাজ্য-রাজনীতির হিসেবনিকেশের অঙ্কে গুরুত্বপূর্ণ।

‘ভিঞ্চিদা’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতার সম্মান পেলেন রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর প্রতিভা নিয়ে সংশয় নেই, কিন্তু যে রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সম্মান, সেই দলেই রুদ্রনীলের যোগদানের জল্পনা মাসকয়েক ধরে চলছে। এই সম্মান কি তবে সেই রাস্তা চওড়া করে দিল? 

লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মান পেলেন বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায় ও কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়। এঁদের মধ্যে তৃণমূল ছেড়ে ঘোষিত ভাবে বিজেপিতে যোগদান করেছেন বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। অন্য দিকে প্রথমে সিপিএম ও পরে তৃণমূল শিবিরে থাকার পরে এখন বিজেপির প্রতি মাধবীর আনুগত্য নিয়েও জল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বর্ষীয়ান অভিনেতা কল্যাণের দাদু ছিলেন হিন্দু মহাসভার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এই যোগসূত্রগুলি কি নেহাত কাকতালীয়? পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবশ্য অন্য ইঙ্গিত করছে।