পুরো নাম রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বাংলা ছবির দর্শকের কাছে তিনি শুধুই রাহুল। বলা ভাল, ‘রাহুল-প্রিয়াঙ্কা’র রাহুল। রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সেই জনপ্রিয় জুটি তৈরি হয়েছিল পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর হাতে। তাঁদের প্রথম ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এ। সেই সময়ে এই ছবির মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন ধারা এনেছিলেন রাজ। তিনিও পরিচালক হিসাবে তখন নবাগত। রাহুল-প্রিয়াঙ্কার পর্দার প্রেম বাস্তবেও জায়গা করে নিয়েছিল। তাঁর তৈরি সেই জুটির একজন আর নেই, প্রথমে শুনে বিশ্বাস করতে পারেননি রাজ। বার বার ভেবেছেন, এ খবর হয়তো ভুল।
২০০৮ সাল। কৃষ্ণ ও পল্লবীর প্রেম দেখে একটা গোটা প্রজন্ম নতুন করে বাংলা ছবির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। পর্দার জুটির প্রেম বাস্তবেও পরিণতি পায়। ২০১০ সালে বিয়ে হয় রাহুল-প্রিয়াঙ্কার। তার পরে পুত্রসন্তানের জন্ম। দাম্পত্যে দূরত্বও আসে একসময়। কিন্তু, তখনও দর্শকের কাছে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি অটুট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাঙা সম্পর্ক আবার জোড়া লাগতে থাকে। রাজের তৈরি জুটি বাস্তবেও অটুট হয়েই থেকে গেল, শেষ দিন পর্যন্ত। রাহুলের মৃত্যুর খবর রাজ প্রথম পান স্ত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের থেকে। কিন্তু, বিশ্বাস করতে পারেননি। প্রিয়াঙ্কাকে ফোন করতেও ইতস্তত বোধ করেছেন। কিছু ক্ষণের মধ্যে নিশ্চিত হন, খবরটা সত্যি। পরিচালক তাই বলেন, “এখনও মনে হচ্ছে খবরটা ভুল। আমাদের প্রথম ছবি একসঙ্গে। ১৮ বছর হয়ে গিয়েছে সেই ছবির। ও মঞ্চেও ভাল কাজ করেছে। ভাল লেখালিখি করত। খুব গুণী ছেলে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য বড় ক্ষতি। ওর পরিবারেরও বড় ক্ষতি।”
আরও পড়ুন:
২০২৩ সালে রাহুল ও রাজকে নিয়ে একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ‘আবার প্রলয়’-এর ঝলক মুক্তি পাওয়ার পরে সমাজমাধ্যমে রাহুলের একটি পোস্ট নিয়ে বিতর্কের সূচনা হয়েছিল। রাহুল নাম না করেই দাবি করেছিলেন, রাজের কাজে হিন্দি ছবির অনুকরণ করা হয়েছে। রবিবার সেই প্রসঙ্গ উঠতেই রাজ বলেন, “এই দুঃসংবাদ পাওয়ার পরে, আমার মাথাতেই আসেনি যে আমার সঙ্গে কী হয়েছিল। আর সত্যিই আমার মনে নেই, আদৌ কিছু হয়েছিল কি না। ছেলেটাই আর রইল না। আমরা চাইলেও আর ওর সঙ্গে কথা বলতে পারব না। চাইলেও আর ওর অভিনয় দেখতে পারব না।”
উল্লেখ্য, রবিবার ধারাবাহিকের শুটিং করতে তালসারিতে গিয়েছিলেন রাহুল। ইউনিটের একটি সূত্রে খবর, শুটিংয়ের পরে একাই জলে নামেন রাহুল। জলের তলায় নাকি রাহুলের পা আটকে যায় বালিতে। আর তখনই ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। রাহুল সেই ঢেউ সামলাতে না পেরে ডুবে যেতে থাকেন। এর পর রাহুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। রাহুলের মৃত্যুতে রাজ স্তব্ধ হয়ে গেলেও, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি দর্শকের কাছে অমর হয়ে থাকবে। এর পরেও ‘বর বৌ খেলা’, ‘কেন কিছু কথা বলো না’র মতো ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তাঁরা। তবে দর্শকের চোখে কৃষ্ণ-পল্লবী জুটি আজও অমলিন।